রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

বরুড়ার চিতড্ডায় ৫৪ পরিবারের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ালেন শফিউদ্দিন শামীম

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৬:০২ পিএম
বরুড়ার চিতড্ডায় ৫৪ পরিবারের প্রতি মানবিকতার হাত বাড়ালেন শফিউদ্দিন শামীম
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার বরুড়ার চিতড্ডা ইউনিয়নের ৫৪ পরিবারের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, এসকিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান এজেডএম শফিউদ্দিন শামীম।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চিতড্ডা ইউনিয়নের মুড়িয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চিতড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫৪ পরিবারের মাঝে বিভিন্ন সহায়তা ও অনুদান প্রদান করেন।

শফিউদ্দিন শামীম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা -৮ (বরুড়া) আসনে সংসদ সদস্য পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

শফিউদ্দিন শামীমের অর্থায়নে শুক্রবার বিকেলে চিতড্ডা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯ জন কর্মহীন অসহায় পুরুষ কে ১ টি করে অটো রিকশা, ৯ জন অসহায় নারী কে ১ টি করে সেলাই মেশিন, ৯ জন অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা, ৯ জন সন্তান সম্ভবা দুস্থ নারী কে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ১৮ জন ত্যাগী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাকে সম্মাননা ও উপহার এবং ৯ টি মসজিদে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সদস্য ও চিতড্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: মনিরুজ্জামান (জামাল) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ জেড এম শফিউদ্দিন (শামীম)।

অসহায় ও অস্বচ্ছল পুরুষদের জীবিকা নির্বাহে, সহায়সম্বলহীন দুস্থ মহিলাদের দুর্দশা লাঘবে, প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যগত বিষয় এবং চরম দারিদ্রতার কষাঘাতে চিকিৎসা করাতে পারছেন না যারা এমন ৫৪ টি পরিবারের প্রতি মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের পাশে দাড়ানো একটি দৃষ্টান্তমূলক ও মানবিক উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন চিতড্ডার নাগরিক সমাজ।

আত্নকর্মসংস্থানের জন্য সহায়তা হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সেলাই মেশিন এবং চিকিৎসা সহায়তা ও মাতৃত্তকালীন ভাতা নিতে আসা মানুষের মুখে ছিল তৃপ্তি ও নির্ভরতার অভিব্যক্তি। তারা বলেন শামীম সাহেব যেভাবে আমাদের গরীব দুখি:দের পাশে দাড়াচ্ছেন সেভাবে যদি সমাজের সকল বিত্তবানরা এগিয়ে আসতেন তাইলে এদেশে আর গরীব লোক থাকতো না। আমরা তাঁর জন্য দোয়া করি তিনি যেন সবসময় এভাবে মানুষের সেবা করে মেহনতী মানুষের পাশে থাকতে পারেন। একই সাথে কথা হয় কয়েকজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার সাথে, তাঁরা বলেন এর আগে আমাদের মতো তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সম্মাননা দূরের কথা, সিনিয়র নেতারা খোঁজ খবর পর্যন্ত নিতেন না। প্রবীণ নেতাদের সম্মাননা ও উপহার দেয়ার উদ্যোগ শামীম সাহেবের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আবেগ আপ্লূত কন্ঠে সম্মাননা প্রাপ্ত জনৈক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন জীবন সায়ান্যে এসে আমাদেরকে মূল্যায়ন করায় নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ. জেড. এম. শফিউদ্দিন (শামীম) বলেন, পাঁচটি মৌলিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আমি এলাকাবাসীর জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছি- ১) পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্নকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, ২)প্রসূতি মা ও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস , ৩) হত দরিদ্রদের চিকিৎসা সহায়তা ৪) ধর্মীয় উপাশনালয় নির্মাণ ও সংস্কার, ৫) দলের ত্যাগী, নি:স্বার্থ, নিবেদিতপ্রাণ ও প্রবীণ নেতৃবৃন্দকে মূল্যায়ন। আজকের এই অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর কাছে আসতে পেরে, যারা নানারকম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে এবং দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের সম্মাননা দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

ইতিমধ্যে উপজেলার আগানগর, পয়ালগাছা, শিলমুড়ি(দ:), খোশবাস (উ:), শাকপুর, খোশবাস (দ:), আদ্রা এবং ঝলম ইউনিয়নে অনুদান বিতরণ, সম্মাননা প্রদান ও দলীয় নেতা কর্মীদের সংগঠিত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বরুড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অসচ্ছল মানুষকে স্বাবলম্বী করা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকারত্ব হ্রাস, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি আমার এবং এস কিউ ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমার পরিবার গত ৩০ বছর ধরে নানা ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এনে দিয়েছেন। তিনি যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ রচনা করে দিয়েছেন। তাঁর শাসনামলে দেশের সর্বত্র অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের বিস্ময়। অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাথাপিছু আয়, নাগরিক সেবা ও নানামুখি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে বদলে গেছে জীবনযাত্রার মান।

তিনি বলেন আসুন সকলে মিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলকে জয়যুক্ত করে আবারও নির্বাচিত করি।

উল্লেখ্য শফিউদ্দিন শামীম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাক্তিগত ভাবে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত এস কিউ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কুমিল্লা দক্ষিণ তথা বরুড়ায় খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন সহ বহুমুখী সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বহুমাত্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সাফল্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসমুহ প্রান্তিক জনসাধারণের মাঝে ব্যাপকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে বরুড়া পৌরসভায় একটি স্মার্ট এলইডি ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড স্থাপন এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ স্মার্ট এলইডি ভ্যানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এডমিরাল আবু তাহের, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড: মো: দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য ও বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও বরুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ বাহাদুরুজ্জামান, বরুড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি মো: কামাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা শ্রমিক লীগ(বিএডিসি) সভাপতি মফিজুল ইসলাম খন্দকার, বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম মিঠু, বরুড়া উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি ও ঝলম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, বরুড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন মিহির ও বরুড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ফরহাদ হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজাউল করিম ইকবাল।

বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

কুমিল্লার ডাক ডেস্ক।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম
বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও আশপাশের এলাকায় বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে পরিচিতি পেয়েছেন মো. গোলাম সারোয়ার। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দানবীর হাজী জুনাব আলী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সেই সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে গোলাম সারোয়ারের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং মহানগর দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফাইন টাওয়ারের চেয়ারম্যান। এছাড়া কয়েকটি কমপ্লেক্সের পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গোলাম সারোয়ার সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম সারোয়ার নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এলাকার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলার প্রসারে সহযোগিতা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অনুদান দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।

করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নিজ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তাঁদের মতে, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মানসিকতাই গোলাম সারোয়ারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয় ভোটার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গোলাম সারোয়ারের সততা, নম্রতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাঁকে স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিমসার ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, গোলাম সারোয়ার আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এলাকার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশাকে ঘিরে গোলাম সারোয়ারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নিমসার ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিপদে মানুষের পাশে থাকার যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছেন, সেটিই এখন সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের সাথে বেঈমানি করেছে। যেই জুলাই সনদকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছে, আজকে তারাই সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানী তেল নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই শব্দ। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তাহলে কি মাত্র ছয়মাসেই উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেছে? উনি এখন বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চায়। আমরা তাকে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান দিয়েছি, সেই প্ল্যান শোনার পর আর কোন কথা নাই। বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সুফলও দেখাতে পারছেনা বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি আপনার প্ল্যান শেষ হয়ে যায় তাহলে জনগণের কাছে স্যারেন্ডার করুন। অন্যথায় আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সকল কিছু পালন করবো।

তিনি শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে দুটি পৃথক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সরকারকে গালি দিয়ে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো, দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ আর আসছিলো না। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরঝর করে পড়ছিলো। রাগে ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। আমরা তার করা এসব অশালীন গালমন্দকে কখনোই সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর দলীয় সন্ত্রাসীরা সিফাত আব্দুল্লাহকে ব্যাপক প্রহার করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর হাতে কি কোন অস্ত্র ছিলো? কুড়াল ছিলো? দা ছিলো? পিস্তল ছিলো? যদি নাই বা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে। এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরাও তো সরকারের বিরোধীতা করে থাকি। আপনার যদি সাহস থাকে তাহলে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় আমার দেশের দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করেছে, শাপলা চত্ত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করুন। বিনিময়ে যদি কাউকে জেলে নিতে হয়, তাহলে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান। তারপরও এই সকল হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করুন।

জামায়াতের আমীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আপনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। সেই ওয়াদা পূরণ করুন। আমরা সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. শাহজালাল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তুষার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মো. আবুল খায়ের, মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা এনসিপি নেতা মো. মামুন মজুমদার, জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল রেজাউল করিম শামীম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিবির নেতা মো. মোজাম্মেল হক সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে দিনমজুর আবুল হাশেম ও বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়ে যুবক আবদুর রহমান সহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৬০) ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (২২)। পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ও বাতিসা বৈদ্দ্যের বাজার নামক এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহাম্মেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পাড়াপারের সময় দিনমজুর আবুল হাশেমকে অজ্ঞাতনামা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী শাহেনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ^বর্তী স্থানে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমরা আজ পথের পথিক।

অপরদিকে একইদিন বেলা ১২টায় উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, নিহত আবদুর রহমান শনিবার দুপুরে তার এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে গিয়ে একটি ভ্যানগাড়ীর সাথে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় পেছন দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হাশেম এবং আব্দুর রহমান নামের দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আনা হলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহম্মেদ জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই নিহত আব্দুর রহমানের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই স্বজনরা নিয়ে যায়। অপর দুর্ঘটনায় নিহত আবুল হাশেমের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

×