সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দেবিদ্বারে পুলিশের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
দেবিদ্বারে পুলিশের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই এ প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন’ এমন স্লোগানে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা মোহনপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে দেবিদ্বার থানা পুলিশের উদ্যোগে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাইরুজ্জামান।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বাবুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও দেবিদ্বার উপজেলা এনসিপির সদস্য মোসলে উদ্দিন।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা শাহজালাল হেলালি, মুফতী মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা মোস্তফা, স্কুল শিক্ষক রিয়াদ, বিএনপি নেতা আলি আকবর, যুব প্রতিনিধি মহিউদ্দিন, নাজির প্রধান প্রমূখ।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে সমাবেশস্থল থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মোহনপুর বাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পদত্যাগের খবর অসত্য’—যা বললেন ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
পদত্যাগের খবর অসত্য’—যা বললেন ইশরাক

Oplus_131072

ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশের খবর, ভেরিফায়েড পেজে প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পদত্যাগসংক্রান্ত খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত আজকের পত্রিকা ও বার্তা২৪.কম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। আজকের পত্রিকা সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করে। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করে।

অন্যদিকে, ইশরাক হোসেন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে পদত্যাগসংক্রান্ত খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন এবং তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং আজকের পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধাওয়া এবং তাঁদের আটকের দৃশ্য উঠে আসে। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া এবং অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে চলাচলের আইনগত দিক কী।

আত্মরক্ষার কথা বললেন ইশরাক

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং আগে থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ এবং ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত দৃশ্য ও তথ্য প্রকাশ করে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে তুলে ধরেনি। তাঁর মতে, এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ

এদিকে, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার ও আজকের পত্রিকা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অর্থাৎ, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হলেও পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবরের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

পদত্যাগের খবরের সত্যতা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

১৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের কয়েকটিতে নাম প্রকাশ না করা সরকারি সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ খবর অস্বীকার করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঘোষণা কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সুতরাং, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হলেও নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত সরকারি তথ্য দিয়ে এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি।

হাজীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
হাজীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের পোস্টারিং এবং রাজনৈতিক প্রচারণা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশ থেকে অর্থ পাঠিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের পোস্টারিং ও রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

Oplus_131072

স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, এসব পোস্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী আড়ালে থেকে এসব তৎপরতা পরিচালনা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন নেতার কাছ থেকে অর্থ আসছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম চালাতে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অর্থ লেনদেনের এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে বালিয়া এলাকার মোতালেব হোসেন ও মেহেদী হাসান তন্ময়ের নাম উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আসা অর্থ বিতরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতালেব হোসেন ও মেহেদী হাসান তন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলম ভূঁইয়া বলেন, নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। কারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পোস্টারিংয়ের ঘটনা এবং অর্থায়ন ও সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নেত্রকোনার সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে চৌদ্দগ্রাম সাংবাদিক সমিতির মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
নেত্রকোনার সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে চৌদ্দগ্রাম সাংবাদিক সমিতির মানববন্ধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’ এর প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. লুৎফুজ্জামান ফকির আলিলকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ও দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের দাবিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিবাদ র‌্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পূবালী ব্যাংক সংলগ্ন উপজেলা সাংবাদিক সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকরা দেশের জন্য আয়না স্বরূপ এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। তারা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি সহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্যগুলো জনস্বার্থে মানুষের সামনে তুলে ধরেন। একজন পেশাদার সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা সাংবাদিক সমাজ তথা দেশের জন্য বেশ উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। মানববন্ধন থেকে আমরা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে সাংবাদিক আলিফ হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং বিভিন্ন প্রকার হয়রানি বন্ধে কার্যকর আইন সহ সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের কাছে উদাত্ত আহবান জানান বক্তারা।

বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক রূপসী বাংলার উপজেলা প্রতিনিধি মো. এমরান হোসেন বাপ্পি’র সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক কালের কন্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি মো. আবুল বাশার রানা, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দেশ রূপান্তর ও এনটিভি’র মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মো. মনোয়ার হোসেন, চৌদ্দগ্রাম টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দ টিভি’র উপজেলা প্রতিনিধি মো. কামাল হোসেন নয়ন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময় এবং ভোরের সূর্যোদয় এর উপজেলা প্রতিনিধি মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন এর পরিচালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিনু, সাংবাদিক ইয়াছিন ভূঁইয়া, আতাউর রহমান রিপন, মো. মাইন উদ্দীন মাসুদ, মো. মাছুম, আশিকুর রহমান মজুমদার, এম এ নোমান, সাইদুল হক, আবদুর রহিম মজুমদার সোহেল, সাকিবুল হাসান মিয়াজী, মো. নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় চৌদ্দগ্রামে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বত্তরা। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শালিস ও মাদক বিরোধী নানা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনার পরপরই সারাদেশে সংবাদটি ভাইরাল হয় এবং হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠন।

×