সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

রাতের আধারে গোমতীর তীর রক্ষা বাঁধ কেটে রাস্তা নির্মাণ

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:৪৯ পিএম
রাতের আধারে গোমতীর তীর রক্ষা বাঁধ কেটে রাস্তা নির্মাণ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার গোমতী নদীর তীর রক্ষা বাঁধ কেটে গোমতী চরে যেতে চলাচলের অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কারা এ কাজ করছে তা নিয়ে কেউ মুখ খুলছেনা। এ বিষয়ে গোমতী চরবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কুমিল্লা আদর্শ সদর নির্বাহী বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) কুমিল্লা গোমতীর চাঁন্দপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাড় পূর্ব অংশটি কেটে একটি রাস্তা গোমতী চরের দিকে কে-বা কারা করে রেখেছে।
জানা যায়, গোমতীর বাঁধ রক্ষার্থে সরকার এ বাঁধ নির্মাণের পরও বন্যার সময় বাঁধ রক্ষা করতে হিমসিম খেতে হয়েছিলো। মাটি সরে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এখন গোমতীর নদীপথ ব্যবহারের জন্য বাঁধ কেটে ট্রাক্টরসহ চলাচলের অস্থায়ী রাস্তা করা হচ্ছে। চাঁন্দপুর ব্রিজের দক্ষিণ পাড় পূর্ব অংশটি বন্যায় তেমন ক্ষতি হয়নি। মূল অংশের রাস্তার সাথে লাগানো মাটি কেটে যেভাবে রাস্তা তৈরি হচ্ছে এতে মূল সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে অসাধু কিছু লোক কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাস্তাটি রাতের আধাঁরে নির্মাণ করছে। এতে বাঁধ নষ্ট হচ্ছে। আমরা গোমতীর পাড়ে বসবাস করি। আবার যদি বন্যা হয় তাহলে এ বাঁধ ভেঙে যাবে। আমরা এর প্রতিকার চাই। যাতে এখানে পুনরায় মাটি দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে বাঁধটি শক্ত করে মাটি ফেলে ঢালায় করে দেয়া হয়।
চানপুর আদর্শ সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা চানপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। গোমতী নদীর পাড় আমাদের নিকটবর্তী। এ পাড়ের কেউ ক্ষতি করতে চাইলে আমরাই প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হব। যারা রাস্তার পাশের মাটি কেটে রাস্তা করছে তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেন শর্মা বলেন, বেড়িবাঁধ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। বাঁধের দায়িত্ব পুরোটাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তারা আমাদের কিছু জানায়নি। বাঁধের ওপর একটি গাছ রোপণ করতে হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি নিতে হয়। তারা যদি আমাদের বিষয়টি অবহিত করত, অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করতাম। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব, তারা ব্যবস্থা নিবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে আমাদের লোক পাঠিয়েছি। যারা রাস্তাটি নির্মাণের সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।
এদিকে, গেলো বন্যায় মানুষের ক্ষতি ও আতংক এখনও কাটেনি। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এখানে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোমতির পাড়ের বিভিন্ন কফি হাউজে মাদকের আখড়া বসে প্রতিনিয়ত। এসব কফি হাউজে বিগত সময়ে বহু মারামারি ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কারা আবার এখানে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়, তা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×