আসন ছাড়ে গতি আনছে বিএনপি জোটে সমঝোতার ইঙ্গিত
Oplus_131072
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন ভাগাভাগির জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। শরিকদের মধ্যে যেসব আসনে বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেসব আসনে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। পাশাপাশি অন্তত তিনটি আসনে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার চিন্তাও করছে হাইকমান্ড।
সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এ পর্যন্ত ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। প্রথম ধাপে ৩ নভেম্বর ২৩৭টি এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে দ্বিতীয় ধাপে অন্তত চারটি আসনে শরিকদের মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৫, নড়াইল-২ ও ঝালকাঠি-১ আসনে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার চিন্তায় রয়েছে বিএনপি।
দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণার পর বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বিএনপির সঙ্গে ২০ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি। এরপর পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্র মঞ্চ ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গেও বসবে।
বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং ব্যালেট পেপার ছাপানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য মত দেন, শুধু আসন ছাড় নয়, শরিকদের জয় নিশ্চিত করাও জরুরি। কেউ কেউ প্রস্তাব করেন, বিজয়ের সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে আসন ছাড় দেওয়া হোক।
এক সদস্য প্রস্তাব করেন, নির্বাচনের জন্য ‘ডেমোক্রেটিক রিফর্ম অ্যালাইন্স’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করে মিত্রদের কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।
বিএনপি সূত্র জানায়, শরিকদের জন্য ২০-২৫টি আসন ছাড়ার চিন্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি আসনে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও বৈঠক হবে।
বিএনপি চায়, জোটের ঐক্য অটুট থাকুক এবং জামায়াত যেন শরিকদের জন্য ছাড়া আসনে প্রবেশ করতে না পারে।



















