সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে হাদী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ছাত্রজনতা

মোহাম্মদ সাইদুল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:০৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে হাদী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ছাত্রজনতা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির অন্যতম যোদ্ধা মো শরীফ ওসমান হাদীকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ। বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদী স্লোগানে এ সময় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা।

শুক্রবার ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর মাথায় হায়দার শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও দোয়া মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা মো মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়ক মো মামুন মজুমদার। তিনি বলেন বিচারহীনতার সংস্কৃতিই এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাছুম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো জাহিদ তালুকদার। তারা বলেন ছাত্রজনতা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অন্যায় শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

সমাবেশে বিপ্লবী কবিতা বল বীর আবৃত্তি করেন মো ইমাম হোসাইন। পরে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী মো কামরুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা লিয়াকত শিকদার আব্দুল্লাহ আল মামুন মিশু হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া রেজাউল করিম রাজিম হাফেজ মর্তুজা মজুমদার কাজী ইমতিয়াজ উদ্দিন এডভোকেট সাইফ উদ্দীন মজুমদার মো সাইফুল্লাহ মাহমুদ ছাত্রনেতা ফাহিম আহমেদ মোহাম্মদ হোসাইন ক্যাডেট আরাফাত হোসেন মারুফ আহমেদ হুসাইন ইবনে কবির রাসেল আহমেদ জিএম ফয়সাল করিম শামীম মো সাইফুল ইসলাম মো শাহাদাৎ মাহমুদ হানজালা প্রমুখ।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×