শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কুয়েতে চৌদ্দগ্রামের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু প্রতিবেশি কর্তৃক পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

মোহাম্মদ সাইদুল হক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৪ পিএম
কুয়েতে চৌদ্দগ্রামের যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু প্রতিবেশি কর্তৃক পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুয়েতে মো. শাহজাহান রনি (২৫) নামে কুমিল্লার এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. নূরুল আমিন এর মাধ্যমে পরিবার রনির মৃত্যুর সংবাদটি জানতে পারে। নিহত রনি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ডের কমলপুর গ্রামের মো. তোফায়েল আহমেদ ও নাছিমা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। তবে পরিবারের দাবি, তাদের একমাত্র সন্তানকে তার বাঙালি মালিক মীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। রনির আকষ্মিক এ মৃত্যুর সংবাদে নিহতের পরিবার সহ সমগ্র এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৭ মাস আগে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মীর হোসেনের মাধ্যমে কুয়েতে যান শাহজাহান রনি। সেখানে কুয়েতের সাবা আল-নাসের এলাকায় মীর হোসেনের একটি বাকালা (গ্রোসারি) দোকানে মাসিক বেতনে কাজ করতেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রনির সঙ্গে মীর হোসেনের বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশে থাকা দুই পরিবারের মধ্যেও প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

রনির পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ ডিসেম্বরের পর থেকে রনির সঙ্গে তাদের কারোই কোনো যোগাযোগ ছিল না। দীর্ঘ ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রশাসনের মাধ্যমে তারা রনির মৃত্যুর সংবাদ পান। এ সময় অভিযুক্ত মীর হোসেন নানাভাবে রনির পরিবারকে বিভ্রান্ত করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তিনি রনির পরিবারকে জানিয়েছিলেন, রনি কুয়েতের জেলে আছে এবং শিগগিরই দেশে ফিরে আসবে।
নিহত রনির বাবা তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, ‘২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় করে মীর হোসেনের মাধ্যমে তার একমাত্র ছেলেকে কুয়েতে পাঠানো হয়। সেখানে চাকরির সময় বিভিন্ন অজুহাতে মীর হোসেন রনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো।’

তিনি আরও বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর ভোরে রনি তার মা নাছিমা বেগমকে ফোন করে মীর হোসেন কর্তৃক নির্যাতনের কথা জানিয়ে বলেছিল, ‘মা, মীরু আমাকে বাঁচতে দেবে না।’ ওই কথোপকথনই ছিল তার মায়ের সঙ্গে শেষ কথা। এরপর কয়েক দিন যোগাযোগ না পেয়ে কুয়েতে থাকা রনির এক বন্ধু রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবার। রাকিব রনির বাসায় গিয়ে খাবার টেবিলে খাবার ও এলোমেলো কাপড়চোপড় দেখতে পেলেও রনির কোনো সন্ধান পায়নি। বিষয়টি রনির পরিবারকে জানায় রাকিব।

তোফায়েল আহাম্মেদ অভিযোগ করে আরও বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর মীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রনি জেলে আছে এবং শিগগির দেশে ফিরবে। পরবর্তীতে আবার যোগাযোগ করলে মীর হোসেন হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে’, এবং দাবি করেন রনি তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।

চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে শাহজাহান রনির মৃত্যু সংক্রান্ত একটি চিঠি পৌর প্রশাসক মো. নূরুল আমিনের সরকারি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। পরে পৌর নির্বাহীর মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর কুয়েতের জাহরা মতলা এলাকায় এক দুর্ঘটনায় শাহজাহান রনির মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ ছিল না এতে।

মৃত্যুর সংবাদ জানাজানি হলে রনির পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়। রনির মা নাছিমা বেগম বলেন, “আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার আগেই বলেছিল তাকে মেরে ফেলা হবে। এটা নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”

এ বিষয়ে কুয়েতে অবস্থানরত অভিযুক্ত মীর হোসেন মুঠোফোনে বলেন, “আমি আড়াই বছর আগে রনিকে কুয়েতে এনে আমার দোকানে চাকরি দিয়েছিলাম। গত ৪ ডিসেম্বর সে আমাকে কিছু না জানিয়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে পরিবারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর শুনি। আমি কখনো তাকে নির্যাতন করিনি, হত্যা তো দূরের কথা। রনির পরিবারের অভিযোগ সত্য নয়। দূতাবাসের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নূরুল আমিন বলেন, “প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব আমার সরকারি নম্বরে রনির মৃত্যু সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে পরিবারকে জানাতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পরিবারের যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইউএনওর খামখেয়ালিপনায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধার!

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ এএম
ইউএনওর খামখেয়ালিপনায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধার!

Oplus_131072

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের (৭৮) দাফন সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছেলের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুস সাত্তার। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের ভাই শাহজাহান বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আমরা আজ লজ্জিত, যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।”

স্থানীয় আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া না গেলেও অন্তত প্রশাসনের লোক এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তাও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা সহ্য করার মতো নয়।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের জানান, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুরো এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাইন থেকেও বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দল এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি।”

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, “সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রশাসন ও পুলিশের প্রস্তুতি থাকার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কেন গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হলো না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

হোমনায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে মকবুল হোসেনের গণসংযোগ

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
হোমনায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে মকবুল হোসেনের গণসংযোগ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ২নং ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. মকবুল হোসেন গণসংযোগ শুরু করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় শতাধিক অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাঁর সমর্থকরা প্রচারণায় অংশ নেন। ছাদখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসীর উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সড়কের দুই পাশে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাঁকে অভিবাদন জানান।

পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মকবুল হোসেন। এ সময় তাঁর সমর্থকদের বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ভালোবাসার প্রাণপুরুষ মরহুম আবদুল মতিন চেয়ারম্যানের যোগ্য সন্তানকে আমরা বিজয়ী করব।’

মকবুল হোসেন হোমনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল মতিনের ছেলে। বাবার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতিকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তাঁর সমর্থকরা।

গণসংযোগকালে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের পরিবার সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমরা বেঁচে আছি। এই ভালোবাসার মূল্য আজীবন দিয়ে যেতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের সমর্থন।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। হোমনা-তিতাসের সংসদ সদস্যের হাতকে শক্তিশালী করে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে মকবুল হোসেন বলেন, দলের নেতাকর্মী ও তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে বিএনপি তাঁকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেবে বলে তিনি আশাবাদী।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেননি। তবে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে ভারত থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, কারাবাসসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি অবগত। তারপরও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। ৫ নভেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, তাঁকে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার মাধ্যমে দেশে আনার পরিকল্পনা সরকারের নেই। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশ রয়েছে। এ কারণে প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা ওই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর ঘোষিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

×