জামায়াতের সমর্থকদের হামলায় যুবক পঙ্গু, গ্রেফতার ২
Oplus_131072
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। আহত যুবক আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দুই হাত ও একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আবু সুফিয়ান সিজু শিবগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর ঘাট এলাকায় সাঁকোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিজু গণমাধ্যমকে জানান, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে দেড় ঘণ্টা ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে কুপিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় মাদরাসা শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক, তার ভাই শাহ আলম, শরৎনগরের আনোয়ার, চামা বাজারের নূরসহ আরও কয়েকজন জড়িত।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সিজুর বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
তবে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাদিকুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মো. বাবুল ইসলাম দাবি করেন, গ্রেফতারকৃতরা জামায়াতের সমর্থক হলেও তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বরং সিজু নিজেই একজন চিহ্নিত কিশোর গ্যাং লিডার, যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ‘শ্যামপুর ইউনিয়ন সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্যমঞ্চ’-এর ব্যানারে চামা বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “আবু সুফিয়ানের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না, তা আমরা নিশ্চিত নই। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোপাল চন্দ্র মণ্ডল জানান, “আবু সুফিয়ানের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দুইজন আসামি গ্রেফতার রয়েছে। তবে আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধেও থানায় একটি মামলা রয়েছে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই হামলার ঘটনায় দলটির নাম জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানায় এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতকে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করে।

















