মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে আদালতের রায় উপেক্ষা করে অন্যের জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে আদালতের রায় উপেক্ষা করে অন্যের জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আদালয়ের রায় অমান্য করে অন্যের জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের হাফেজ আব্দুল খালেক গং এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি একই ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তরপাড়ায় ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগি কুয়েত প্রবাসী কাজী মো. মহিন উদ্দিন ও তার ভাই কাজী মো. নজরুল ইসলাম চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তরপাড়া এলাকার হাফেজ মো. আব্দুল খালেক গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ একই গ্রামের কাজী মহিন উদ্দিন গংদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৮ সাল আদালতে দায়েরকৃত মামলায় (মামলা নং-২৬৩/২০১৮) নিজেদের পক্ষে ২০২২ সালে রায় পান ভুক্তভোগি মহিন উদ্দিন গং। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষের আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২০২৪ সালে আদালত চ‚ড়ান্ত রায় দেয়। চ‚ড়ান্ত রায়েও একই আদেশ দেয় আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে আদালত বাদী পক্ষকে তাদের প্রাপ্য জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত সময়ে কাজের গতি কিছুটা শিথীল হয়ে যাওয়ায় আদালত তাদের জায়গা এখনো বুঝিয়ে দিতে পারেনি। যারফলে এখনো প্রাপ্য জমির দখল বুঝে নিতে পারেনি বাদী। আদালতকে সম্মান প্রদর্শন করার বিপরীতে বিবাদী পক্ষ তথা হাফেজ আব্দুল খালেক গং আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক গত কয়েকদিন যাব উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা মৌজাধিন উত্তর পাড়া এলাকার বিবাদমান ওই কৃষি জমির (সিএস-৫৫ দাগ, ৭৩ শতাংশ অন্দরে ১৪ শতাংশ) টপসয়েল কেটে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও আদালতের রায়ে প্রাপ্ত একই মৌজার ২৪৯ দাগে ৬০ শতাংশ ও ১১০ দাগে ৫০ শতাংশ জমিও মহিন উদ্দিন গংকে ভোগদখল করতে দিচ্ছে না হাফেজ আব্দুল খালেক গং। এতে মহিন উদ্দিন গং স্থানীয় গন্যমান্য লোকজনকে অবহিত করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মহিন উদ্দিন এর পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও থানা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগির পরিবার। সরেজমিন ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ফসলি জমির মাটি বিক্রির দায়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জরিমানা আদায় সহ উপজেলা প্রশাসন বেশ তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ভুক্তভোগির পরিবার সহ স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি প্রবাসী কাজী মো. মহিন উদ্দিন এর স্ত্রী মোসা. তাহমিনা আক্তার কাজল সাংবাদিকদের জানান, আমাদের সাথে পাশের বাড়ির হাফেজ আব্দুল খালেক গংদের সাথে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। গত বছর আমরা আদালতের রায়ে আমাদের প্রাপ্য জায়গাগুলো পাই। এরপর থেকে আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যাপক হয়রানি করে আসছে। এখন তারা জোরপূর্বক আমাদের জমি থেকে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তারা আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি আদালতের রায়ে প্রাপ্ত আমাদের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফেজ আব্দুল খালেক বলেন, আমার নিজ জমি থেকে আমি মাটি কাটছি। এতে ওদের এত মাথা ব্যাথা কেন? আদালতের রায়ে ওরা জমি পেলে বিষয়টি নিয়ে তারা আবার আদালতে যাক। এতে আমার তো কোনো আপত্তি নেই। এছাড়াও আদালতের রায়ে যদি তারা জমি পায় তাহলে আদালতই তো তাদেরকে জমি বুঝিয়ে দিবে।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×