কুমিল্লা সিটি
জজকোর্ট রোডে ড্রেন দখল করে সড়ক সংকোচনের অভিযোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জজকোর্ট রোডে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেন ও সড়কের জায়গা দখল করে চলাচলের পথ সংকুচিত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, জজকোর্ট রোডের গায়ক আসিফ আকবরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেনের জায়গা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতায় নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে ড্রেনের ওপর জায়গা ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে স্থাপনা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অংশ সড়কের দিকে সম্প্রসারিত হওয়ায় মূল সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে সড়কের প্রায় ১২ ফুট জায়গা দখলের কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জজকোর্ট রোড কুমিল্লার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ মামলা পরিচালনা ও আদালতের বিভিন্ন কাজে এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় যানজট ও জনদুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেন ও সড়কের জায়গা ব্যক্তিগত ব্যবহারে চলে যাওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১২২ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কোনো রাস্তা, নর্দমা, ভূমি, বাড়ি, গলি বা পার্কে করপোরেশনের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পদার্পণ করা নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অবৈধ দখল বা ব্যবহার করলে করপোরেশন নোটিশ দিয়ে তা বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
এ ছাড়া একই আইনে নগরীর রাস্তা, নর্দমা ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতার বিধান রয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, ড্রেন, সড়কের জায়গা কিংবা সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে এবং নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।
তাদের দাবি, জজকোর্ট রোডের বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দখলমুক্ত করে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন ও পথচারী চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আদালতের কাজে এই এলাকায় আসেন। তাই জজকোর্ট রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো ধরনের দখল বা অবৈধ স্থাপনা শুধু স্থানীয় মানুষের সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর জনস্বার্থ ও নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা আরও গুরুতর জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে গায়ক আসিফ আকবর এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

















