সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সাংবাদিক নাঈম হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার ও সুবিচার নিশ্চিত করা হবে : এএসপি সোহান সরকার

মাহফুজ বাবু প্রকাশিত: সোমবার, ২ মে, ২০২২, ৮:১৫ এএম
সাংবাদিক নাঈম হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার ও সুবিচার নিশ্চিত করা হবে : এএসপি সোহান সরকার
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার সন্ত্রাসীদের গু*লিতে নি*হত সহকর্মী সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম এর মা বাবা ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সুবিচারের আশ্বাস, শান্তনা ও ঈদ উপহার নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার অলুয়ায় নাঈমের গ্রামের বাড়িতে। ২মে সোমবার সকাল ১১টায় জেলা পুলিশ সুপার এর পক্ষ ঈদ উপহার নিয়ে সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম এর বাড়িতে হাজির হন তিনি।

এসময় নাঈমের অসুস্থ পিতা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোশাররফ হোসেনের স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন এবং নাঈমের মা কে শান্তনা প্রদান করে সুবিচার নিশ্চিতের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। পরে জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ (পিপিএম) এর পক্ষ থেকে নাঈম এর বাবা মায়ের হাতে ঈদ মোবারক তুলে দেন। এসময় তিনি বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বুড়িচংয়ের রাজাপুর ইউপি’র হায়দ্রাবাদ এলাকায় সীমান্তের মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক নাঈম হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামী রাজু ইতিমধ্যেই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এঘটনায় জড়িত আরো ৪আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতারে কাজ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না”
এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বুড়িচং থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শরিফ রহমান, উপ-পরিদর্শক (ডিএসবি) নকুল কুমার সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক পৌনে ১০টায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গুলিতে নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন ওরফে নাঈম সরকারের (২৮) খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকগণ।

ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরির চেষ্টাও চালাচ্ছিলেন। পুলিশ ও র‌্যাবকে তথ্য দিয়ে মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সহায়তা করায় এবং মাদক ব্যবসা নিয়ে প্রতিবেদন করায় মাদক ব্যবসায়ীরা মহিউদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এ কারণেই মাদক ব্যবসায়ীরা গতকাল বুধবার রাত নয়টার দিকে বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইলসংলগ্ন হায়দ্রাবাদ নগর এলাকায় মহিউদ্দিনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
মহিউদ্দিন ওরফে নাঈম সরকার কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তিনি অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশ রয়টার্স, খবর প্লাস বিডি এবং কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক কুমিল্লার ডাক পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন আনন্দ টেলিভিশনের ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং প্রতিনিধি ছিলেন। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মহিউদ্দিন দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। ছোট ভাই হৃদয় সরকার সৌদি আরবে থাকেন। একমাত্র বোন শারমিন আক্তারকে কুমিল্লা শহরে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। তাঁর বাবা মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ পুলিশে দীর্ঘ ৩৪ বছর চাকরি শেষে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। তিনি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক ছিলেন।
ছেলে মহিউদ্দিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব সময় তিনি তাঁর ছেলেকে ন্যায়ের পথে থাকার কথা বলেছেন এবং ভালো কাজ করা শিখিয়েছেন। তাঁর ছেলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে মারা গেছেন। তিনি তাঁর ছেলের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিনের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী সাংবাদিক মাহফুজ বাবু বলেন, মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছেন। সব সময় মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেছে। প্রশাসনকে সহায়তা করতো, এসব কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলো। পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান তিনি।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক মহিউদ্দিন বেশ কয়েকবার পুলিশকে তথ্য দিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল এলাকার মাদক ব্যবসায়ী রাজু মিয়ার বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সহায়তা করেছিলেন। এ নিয়ে রাজুর সঙ্গে মহিউদ্দিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত ২৬ মার্চ মহিউদ্দিন পেশাগত কাজে সংকুচাইল যান। ওই সময় সংকুচাইল বাজারে পুলিশ মহিউদ্দিনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তিনি পুলিশকে বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীর মালামাল না আটকে আমাকে আটকালেন কেন।’ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মাদক ব্যবসায়ী রাজু এ কথা শুনে বাইক থামিয়ে মহিউদ্দিনের সঙ্গে এ নিয়ে তাঁর বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে মাদক কারবারি রাজু পুলিশের সামনেই তাঁকে চড় মারে। পরে মহিউদ্দিন রাজুকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর মাদকদ্রব্য ধরিয়ে দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন। স্থানীয় দুই ব্যক্তি মহিউদ্দিনকে ওই দিন রাতে রাজুর মাদকের চালান পাচার হবে বলে জানান।

সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকারের বন্ধু বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে মহিউদ্দিন সরকার নাঈমকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইলসংলগ্ন হায়দ্রাবাদ এলাকায় ডেকে নেন জনৈক সোর্স । এরপর মহিউদ্দিন রাতে সেখানে যান। যাওয়ার আগেই বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এর সাথে কয়েকবার কথাও বলেন। সোর্স সুজন সহ মহিউদ্দিনের সাথে থাকা দুজ তাকে নগর সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি নিয়ে যায়। সীমান্তের কাছাকাছি একটি দোকান ও বিজিবি চৌকির কাছে গেলে সেখানে মাদক কারবারি রাজুর নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল উপস্থিত হয়। মাদক কারবারি মো. রাজু, এমরান, জুয়েল, খলিল, ওহিদ, মহসিন সহ ২০/২৫ জনের একটি দল হাজির হয়। মহিউদ্দিনের সাথে থাকা ফরহাদ মৃধা মনি ও পলাশের বক্তব্য মতে, দলবল ও আগ্নেঅস্ত্র দেখে ঘাবড়ে যায় তারা। পিস্তল রাজু ও জুয়েল দুটো পিস্তল বের করে মহিউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। ভয়ে পালিয়ে যায় মনি ও পলাশ। স্থানীয়রা জানায়, গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিন লুটিয়ে পড়লে রাজুর অন্যান্য সঙ্গীরা তাঁকে বেঁধে লোহার রড ও হকিষ্টিক দিয়ে মারধর করে শেষে আরো দুটো গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে বিজিবির শংকুচাইল ক্যাম্পের সদস্যরা স্থানীয় দুই যুবকের সহায়তায় তাঁকে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে নেওয়ার আগেই মহিউদ্দিন মারা যান। খবর পেয়ে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।

এ বিষয়ে বিজিবির শংকুচাইল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার কামরুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক মহিউদ্দিন সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন মারা গেছেন। সুরতহালে দেখা গেছে, তাঁর বুকে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লাশে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরদিন দুপুরে লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে ঘটনায় থানায় নিহতের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিনের প্রতিবেশী আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া বলেন, সাংবাদিক মহিউদ্দিন (মাঈন উদ্দিন সরকার) খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকার যেকোনো ভালো কাজে তাঁকে পাওয়া যেত।

ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু বলেন, ‘সাংবাদিক মহিউদ্দিন মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
মাদক কারবারিদের গুলিতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যাকান্ডের ঘটানায় সারাদেশের সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফুসে ওঠে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিক্ষোভ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন শুরু করে দেশজুড়ে, ব্যপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। হত্যান্ডের তিন দিন পর ১৭এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা সদরের ভারত সীমান্তের গোলাবাড়ি এলাকায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী মাদক কারবারি রাজু। এসময় এক র‌্যাব সদস্য ও আহত হন বলে জানা যায়।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় পরনে কোনো কাপড় না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

 

ঝোপের নিচে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার

 

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আয়েশার পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল; কিন্তু উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। এই পার্থক্য নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

চিকিৎসক পুলিশকে জানালেও ময়নাতদন্ত হলো না কেন?

 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় তিনি বিষয়টি হোমনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

তবে এরপরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

 

এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা চিকিৎসক পুলিশকে জানানোর পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হলো না কেন?

 

আরও প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে তার পরনে পোশাক না থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়গুলো পুলিশ কীভাবে মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই লাশ দাফন করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কতটা সহজ হবে, সেটিও এখন আলোচনায়।

 

পরিবারের অভিযোগ নেই, তাই কি তদন্তের প্রয়োজন নেই?

 

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মেয়েকে ফেলে রেখেছে, তা তিনি জানেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তবে শিশুটির কাকা দাবি করেন, আয়েশাকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পরিবারের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিল কি না।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

 

আয়েশার মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×