জুলাই জাতীয় সম্মেলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের বিচার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি
Oplus_131072
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের অংশগ্রহণে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই জাতীয় সম্মেলন। শনিবার আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা হত্যাকাণ্ডের বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।
জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা অংশ নেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ সন্তান হারানোর বেদনা, কেউ চিকিৎসার সংকট, আবার কেউ দীর্ঘদিন বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।
শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া বলেন, প্রতি বছর জুলাই মাস এলেই সন্তান হারানোর স্মৃতি আরও গভীর হয়ে ওঠে। তিনি তার ছেলেসহ জুলাই আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার দাবি করেন।
চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তাঁর ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো পরিবার এমন শোকের মুখোমুখি না হয়। তিনি আহতদের পুনর্বাসন ও সহায়তার দাবি জানান।
আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, আন্দোলনে জীবন দেওয়া ও পঙ্গুত্ব বরণ করা ব্যক্তিদের অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত বিচার এবং সারা দেশে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা ব্যক্তিগত দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, বড় ছেলেকে হারানোর পর পরিবার কঠিন সংকটে পড়ে। তিনি জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, দুই বছর পার হলেও বিচার দৃশ্যমান হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সম্মেলনে বক্তব্য দেন আহত জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু, মিল্লাত হোসেন, সুজন মোল্লা, আলামিন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। তারা চিকিৎসা, পুনর্বাসন, রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং জুলাই আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীতে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে ৮৩৪ জন শহীদ হন। অন্যদিকে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের নিহত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


















