ছয় বছর, আট তদন্ত কর্মকর্তা, একটিও উত্তর নেই
Oplus_131072
কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার চিকিৎসক লিয়াকত আলী খানের ছোট ছেলে শাহাদাত আলী খান সাবাতের হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও আজও অজানা রয়ে গেছে তার হত্যাকারীদের পরিচয়। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর নিখোঁজ হন সাবাত। পরদিন ১ জানুয়ারি সকালে গোমতী নদীর পালপাড়া সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা সাবাত ছিলেন পরিবারের প্রাণ। তার মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও একমাত্র বোন। সাবাতের মা, কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তার বলেন, “আমার সন্তান খুব ভালো ছিল। ছয় বছরেও তার খুনিরা ধরা পড়েনি—এটা কি কোনো মা মেনে নিতে পারে?”
নিখোঁজের পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা লিয়াকত আলী খান। ২ জানুয়ারি দায়ের করেন হত্যা মামলা। মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে পায় পিবিআই। ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট চান্দিনা উপজেলার মো. মাজহারুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হলেও তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পান। এরপর মামলার তদন্তে আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
সাবাতের বড় বোন ডা. শারমিন খান জানান, মামলাটির তদন্তে এখন পর্যন্ত আটজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কেউই হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি। বর্তমানে মামলাটি রয়েছে সিআইডির অধীনে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু জাফর বলেন, “আমি চেষ্টা করছি।” তবে ছয় বছরেও কোনো সময়সীমা বা অগ্রগতির আশ্বাস দিতে পারেননি তিনি।
ময়নাতদন্তে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ মিললেও আজও অপরাধীদের শনাক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। তারা বলছেন, “ছেলের কবর আছে, খুনির নাম নেই”—এই বিচারহীনতার ভার নিয়েই বেঁচে আছি আমরা।



















