কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিজবুল বাহার রানার সনদ জালিয়াতির গোপন তথ্য ফাঁস
কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিজবুল বাহার রানার সনদ জালিয়াতির গোপন তথ্য ফাঁসকোথাও রানা, কোথাও হিজুল বাহার রানা আবার কোথাও হিজবুল বাহার রানা। বাবা ছিলেন মসজিদের ইমাম। নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে রাজনীতি শুরু করেন লক্ষীপুর জেলা তরুণলীগ নাম দিয়ে।

শুরুটা কষ্টের হলেও লক্ষীপুর পৌর শহরে স্বনামধন্য এক আওয়ামী পরিবারে বিবাহ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন এই রানা; হয়ে যান জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক। সেসময় নানা জালিয়াতির কারণে পৌর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় ঝাড়ু মিছিল হয় তার নামে। এদিকে অনৈতিক সম্পর্কে ধরা পড়ায় প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেল খাটেন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জন্য নানা লবিং করে বনে যান কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিজবুল বাহার রানার গ্রামের বাড়ী ল²ীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের মানিকের বাড়ী। ওই বাড়ীর মূল ফটকে রয়েছে বায়তুল আক্বসা জামে মসজিদ। মসজিদটি পরিচালনা কমিটির সভাপতিও তিনি। মসজিদটির সংস্কারের জন্য ল²ীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের কাছ থেকে আনেন অনুদান। তবে সে অনুদানের টাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না মসজিদ কমিটির অন্য সদস্যরা। এমনকি মসজিদে উন্নয়নমূলক কোন কাজও করেননি তিনি।
মসজিদ উন্নয়নের সমুদয় টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এই নেতার বিরুদ্ধে, শুধু তাই নয়; ঢাকা টিএন্ডটি ইউনিভার্সিটি কলেজের নাম দিয়ে জাল সনদ বানিয়ে সাবেক সাংসদ শহিদ ইসলাম পাপুল থেকে নেন বশিকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য মনোনয়নপত্র। জাল সনদের বদৌলতে হয়ে যান বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, স্বপ্ন দেখেন পার্শ্ববর্তী বশিকপুর স্কুল এন্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের আয়ত্তে সবকিছু নিতে রানা বশিকপুর স্কুল এন্ড কলেজের এড্হক কমিটি, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানীমূলক বিরূপ মন্তব্য শুরু করেন। সরকারি বিধি মোতাবেক এড্হক কমিটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করে। তবে নির্বাচন বানচাল ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে নীল নকশা আঁকে হিজবুল বাহার রানা। প্রতিষ্ঠানটিতে শতভাগ পাসের সুনাম থাকলেও হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে মরিয়া কৃষকলীগের এই নেতা আওয়ামীলীগ নেতাদের বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে কৃষকলীগের পদবীকে কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন। পরে রানা বশিকপুর স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বকুলকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে কুমিল্লা বোর্ডে নিয়ে যায় এড্হক কমিটি ভেঙ্গে ফেলার আবেদনের জন্য।
সম্প্রতি বশিকপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানকে সংবর্ধনা দেয়ার অনুষ্ঠানে শত শত লোকের সামনে এবিষয়ে বশিকপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বকুল মাইকে বলেন, কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিজবুল বাহার রানা নিজে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হওয়ার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কুমিল্লা বোর্ডে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয় বলে আক্ষেপ করেন এই অধ্যক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি হাজী এএসএম জাকির হোসাইন মিজান বলেন, জরাজীর্ণ ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সমস্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক যুগ ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শতভাগ পাশের সুনামসহ প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। নিজের অর্থ ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি এ প্রতিষ্ঠানটিকে আগলে রেখেছেন। বর্তমান এড্হক কমিটি সরকারি বিধি মোতাবেক নির্বাচনের আয়োজন করবে বলে তিনি আশাবাদী। এসময় তিনি আরো বলেন, সাংসদ এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি। তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রতিষ্ঠান এটি। এ প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের জালিয়াত চক্র যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে এজন্য এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এদিকে হিজবুল বাহার রানার জাল সনদের বিষয়ে টিএন্ডটি বিশ্বদ্যিালয় কলেজের অধ্যক্ষ কাজী কামরুজ্জামান জানান, হিজবুল বাহার রানা নামে তাদের কোন ছাত্র ছিল না।এমনকি ডিগ্রি পাসের সনদে ব্যবহৃত রোল নাম্বার ও রেজিষ্ট্রেশন নাম্বারের কোন অস্তিত্ব নেই।
তবে হিজবুল বাহার রানা সনদ জালিয়াতির বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। তিনি দাবি করেছেন, তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
জাল সনদ জমা দিয়ে প্রাথমিকের সভাপতি হওয়ায় কি ধরনের ব্যবস্থা নিবেন জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষা কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন।
জোর করে সদস্য সচিব ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বকুলকে বোর্ডে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা নিবেন জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে রানার অপকর্মের বিষয়ে লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, রানার বিষয়ে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাথে কথা বলবেন, সত্যতা পেলে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।





















