মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

র‍্যাব'র সোর্স হত্যাকান্ড

একটি মৃত্যুর পর, যেন আরেকটি অন্যায় না জন্ম নেয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : প্রকাশিত: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৫৮ এএম
একটি মৃত্যুর পর, যেন আরেকটি অন্যায় না জন্ম নেয়

Oplus_131072

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ছয় দিন আগে ঘটে যাওয়া একটি সন্ত্রাসী হামলার রেশ আজও কাটেনি। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে র‍্যাবের সোর্স দিদার সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে ঢাকায় রেফার করেন। দীর্ঘ ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে আজ ৬ অক্টোবর সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়-এটি আমাদের সমাজ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য এক কঠিন নৈতিক পরীক্ষা। দিদারের মৃত্যুর আগে এ্যাম্বুলেন্সে ধারণকৃত একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন। এই ভিডিও এখন জনমনে আলোড়ন তুলেছে, এবং অনেকেই সেই নামগুলোকে অপরাধীর তালিকা হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।

 

আমরা ভুলে যাচ্ছি, একজন আহত ব্যক্তির বক্তব্য-যদিও তা গুরুত্বপূর্ণ-তবু তা এককভাবে অপরাধ প্রমাণের ভিত্তি হতে পারে না। আইন, তদন্ত, এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে একধরনের ত্বরিত প্রতিক্রিয়া, যেখানে দিদারের মৃত্যুকে পূঁজি করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে টার্গেট করা হচ্ছে।

 

এমনকি কিছু এলাকায় নির্দোষ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ, সামাজিকভাবে হেয় করা, এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এটি শুধু অমানবিক নয়, বরং আইনের অপব্যবহার এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

 

দিদারের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কিন্তু সেই শোককে যদি কেউ ঘৃণার হাতিয়ার বানায়, তাহলে আমরা আরেকটি অন্যায় জন্ম দিচ্ছি। আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া হোক নিরপেক্ষ, তথ্যনির্ভর, এবং মানবিক।

 

রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ—এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে পূঁজি করে যেন কোনো নির্দোষ মানুষকে হয়রানি না করা হয়। দিদারের মৃত্যুকে যেন কেউ রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার না বানায়। বরং এই মৃত্যু হোক আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার, মানবতা এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।

 

এই মুহূর্তে গণমাধ্যমের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। তারা যেন উত্তেজনা না বাড়িয়ে, তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রশাসন যেন রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে তদন্ত পরিচালনা করে। এবং নাগরিক সমাজ যেন আবেগ নয়, যুক্তি দিয়ে বিচার করে।

 

আমরা চাই, দিদারের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি, সমাজে যেন আর কোনো পরিবার এমন শোকের ভার বহন না করে। এজন্য প্রয়োজন-সতর্কতা, সংযম, এবং নৈতিক নেতৃত্ব।

 

দিদারের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, কুমিল্লার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে সন্ত্রাস, অপরাধ, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। এই মুহূর্তে আমাদের সবার দায়িত্ব-এই মৃত্যু যেন আরেকটি অন্যায়ের জন্ম না দেয়।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×