মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কাউন্সিলর কিবরিয়াসহ পাঁচ জনের নামে হত্যা মামলা, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সাইদুর রহমান আবির : প্রকাশিত: রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২, ৭:৪৯ এএম
কাউন্সিলর কিবরিয়াসহ পাঁচ জনের নামে হত্যা মামলা, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা নগরীর টিক্কারচর গোমতি ব্রীজের নিচে অটোচালককে খুন করে ফেলা রাখা আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নগরীর বজ্রপুর কাশারীপট্রি এলাকার নিহত মোঃ ইয়াছিন হোসেন রবির মা শিরিন আক্তার। খুনের সাথে জরিত কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্যা আসামীদের ফাসি দাবী করেন তিনি। গতকাল নগরীর কান্দিরপাড় একটি রেস্টুরেন্টে এ এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রবির মা বলেন, আমার ছেলে পেশায় একজন অটো চালক। আটো চালিয়ে সে পরিবারের জীবিকা র্নিবর করে। গেল ৩জুন প্রতিদিনের মত আমার ছেলে রবি অটো রিস্কা নিয়ে বের হয়ে চকবাজার থেকে কান্দিরপাড় যাওয়ার পথে সুজানগর হাড্ডি খোলার ডিস সুজন তাকে ভাড়ায় ঠিক করে। সদর উপজেলার শাহাপুর থেকে জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ডে একটি কসমেটিক্স এর পার্সেল পৌছে দিতে হবে। তিনশ টাকার বিনিমিয়ে এ ভাড়া ঠিক করে। রবি অটো রিস্কা যোগে এ পার্সেলটি জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ড এর উদ্যাশ্যে রওয়ানা হন। পথিপধ্যে টমছমব্রীজ এলাকায় পৌছলে র‌্যাব সংকেত দিয়ে বিভিন্ন গাড়ী তল্লাশীকালে রবি গাড়ীতে থাকা মালামাল সম্পর্কে সন্দেহ হলে পার্সেলটি অটো রিস্কা থেকে নামিয়ে রেখে ১০০ গজ সামনে চলে আসে। পরে র‌্যাব পার্সেলটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পেয়ে খুলে দেখে পার্সেলের ভিতরে গাঁজা। র‌্যাব এ গাঁজা উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এসময় রবিও ভয় পেয়ে পালিয়ে চলে আসে এবং ঘটনাটি ডিস সুজনকে জানায়। ডিস সুজন এ বিষয়টি বিশ্বাস না করে তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসার অপর সিন্ডিকেট সদস্য সুজানগর হাড্ডিখোলা এলাকার রনি ও নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুন্সেফ কোয়াটার এলাকার কিবরিয়াসহ অন্যান্যদের জানায়। পরে কাউন্সিলর কিবরিয়ার নেতৃত্বে ৮/৯জন এসে বিভিন্ন হুমকি দামকি দেয়। মালামাল উদ্ধার না করে দিলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ দিনই আমার ছেলে রবি অটো রিস্কার মালিকের নিকট রিস্কাটি জমা দিয়ে আর বাড়িতে আসেনি। পরে ৮ জুন টিক্কারচর এলাকার গোমতি নদী ব্রীজের নিচ থেকে স্থানীয়দের তথ্যর ভিত্তিতে পুলিশ রবির লাশ উদ্ধার করে। লাশের গলার গামছা পেচানো এবং চোখে বুকে গলায় এবং বাম চোখ সম্পূর্ণ থেতলানো ছিলো। কোতয়ালী থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমার ছেলের দাফন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় জয় নামে একজনকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ আমাকে ডেকে অলিখিত সাদা ৫টি কাগজে স্বাক্ষর রেখে চলে যেতে বলেন। এ বিষয়ে মামলা করার কথা বললে পুলিশ নির্বাচনের পরে থানায় যোগাযোগ করতে বলেন এবং মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন। কিন্তু এখন পযর্ন্ত থানা কতৃপক্ষ কোন মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করতে বলেন। পরে আমি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেটের ১নম্বর আমলী আদালতে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ জ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের নামে মামলা দায়ের করি।আদালতের নির্দেশে ২৯ জুন কোতোয়ালি মডেল থানা মামলাটি নথিভূক্ত করে। মামলায় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার সুজানগর হাড্ডিখোলা এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ রনি (৩০), বিষ্ঞুপুর মুন্সেফ কোয়াটার এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান এর ছেলে কাউন্সিলর মোঃ কিবরিয়া, সুজানগর হাড্ডিখোলা এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে সুজন প্রকাশ ডিস সুজন, কুমিল্লার মুরাদ নগর উপজেলার মুরাদনগর মধ্যপাড়ার শাহ আলমের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম, কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার বাটকাশ্বর এলাকার মৃত ইদুন মিয়ার ছেলে এছহাকসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনকে আসামী করা হয়। এ মামলার পর আসামীরা মামলা উঠিয়ে নিলে ভবিষতে চলার জন্য টাকা পযসা দিবে। মামলা তুলে না নিলে আমাকেও খুন করার হুমকি দামকি দিচ্ছে। আমি এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রবির মা শিরিন আক্তার বলেন, জামাত নেতা কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলের হত্যাকারীরা মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ও চোরাচালানের সাথে জড়িত। কিবরিয়ার নামে অস্ত্র আইন, সন্ত্রাস দমন আইন, বিষ্ফোরণ আইন, দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন অপরাধের ২৭টি মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে এমন আরো ১০ টি মামলা ছিলো।

সংবাদ সম্মেলনে শিরিন আক্তার তার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার দাবী করেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×