চৌদ্দগ্রামে প্রভাবশালী কর্তৃক প্রতিপক্ষের বসতঘর নির্মাণে বাধার অভিযোগ, নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী
মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রভাবশালী কর্তৃক মো: খোকন (৫০) নামে এক ব্যক্তির পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণ কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়া সহ ভুক্তভোগির লাখ লাখ টাকার লোকসান হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা সহ ভুক্তভোগিকে ব্যাপক হয়রানি করে আসছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা গেছে, উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামের মো: আব্দুল মজিদের ছেলে মো: খোকন তার অপর দুই ভাই বসতবাড়ির পৈত্রিক সম্পত্তিতে দালানঘর নির্মাণ করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার চাচা মো: বাচ্চু মিয়া দলবল নিয়ে এসে নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার জেরে হয়রানির লক্ষ্যে বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো: শাহজাহান বাদী হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধের হীন উদ্দেশ্যে গত ৬ মে ১৪৫ ধারায় কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো: আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোকন এর ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পিতার সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করছে খোকন সহ তার অপর ভাইগণ। এতে অনৈতিকভাবে বাধা প্রদান করে বাচ্চু মিয়া। সামাজিক গণ্যমান্য লোকজনের কথা উপেক্ষা করে তারা ১৪৫ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করে খোকনের পরিবারকে অযথা হয়রানি করছে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।
ভুক্তভোগি মো: খোকন, তার ভাই গিয়াস উদ্দীন ও নাছির উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, আমরা পৈত্তিক সম্পত্তিতে পাকা দালানঘর নির্মাণ করতে গেলে আমার চাচা বাচ্চু মিয়া অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা দায়ের করে বাধা প্রদান করছে। আমার পিতা ওয়ারিশ সূত্রে ডাকরা মৌজার ৩৫৩ দাগে ৭ শতক জায়গার মালিকানা নিশ্চিত ও দখল স্বত্ত¡বান হইয়া উক্ত জায়গায় টিনসেড ঘর নির্মাণ করে। দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ আমরা এখানে বসবাস করে আসছি। এখন নতুন করে পাকা ঘর নির্মাণ করতে গেলে আমার চাচা বাচ্চু মিয়া অবৈধভাবে আমাদের নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে হয়রানি করছে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে একাধিকবার মীমাংশার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি গ্রাম্য শালীস অমান্য করে আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ এসে আমাদের চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে রড, সিমেন্ট, বালু সহ লাখ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৯ জুন আদালতে মামলাটির শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমরা আদালতে হাজির হব। বিষয়টি নিয়ে আদালতে সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।
অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি পুরান বাড়িতে আমার ভাইদের কাছে প্রায় ৩ শতক জায়গা পাই। উক্ত জায়গার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি কাউকে ছাড় দেবনা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিবাদী পক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত উভয়পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।














