শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার তিন

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার তিন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে পুরাতন মামলার এক আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অপর দুই ব্যক্তি মাদক সেবনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রত্যেককে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় থানার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোতালেব (৪৫) চান্দিনা উপজেলার টামটা গ্রামের মৃত মুন্নাফ মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে থাকা পুরাতন একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে চান্দিনা উপজেলার মাদারপুর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে হাসান মাহমুদ (৩০) এবং করতলা গ্রামের মহিবুল্লাহর ছেলে মো. সুমনকে (২১) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর হাসান মাহমুদ ও মো. সুমনকে মাদক সেবনের অপরাধে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে পরে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ওয়াইফাই ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু, থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ওয়াইফাই ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু, থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে বুধবার গভীর রাতে আবুল কালাম মোহাম্মদ মুরাদ প্রকাশ এ কে এম মুরাদ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। নিহত মুরাদ পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ এর বড় ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিওড়া বাজার সহ আশেপাশের এলাকায় বেশ সুনামের সাথে ডিস, ওয়াইফাই ও ডেকোরেশন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো বলে জানা গেছে।

নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে চিওড়া এলাকায় মরহুমের প্রথম জানাযা এবং রাত নয়টায় নিজ গ্রাম উত্তর মাহিনীতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রাতের আঁধারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘঠিত এ মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সহ পরিবারের কেউই এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে রাজী নন। তারা এ মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ব্যবসায়ীর রহস্যজনক এ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত অনুমান ১২টায় ব্যবসায়ীক কাজকর্ম শেষে মুরাদ উপজেলা চিওড়া কাজীর বাজারস্থ তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আসেন। অফিসটি দোতলায় হলেও সাটার খোলা থাকায় এবং অফিস কক্ষে বৈদ্যুতিক বাতি জ¦লন্ত অবস্থায় থাকায় রাত অনুমান দেড়টায় বাজারের দায়িত্ব পালনরত নৈশপ্রহরীরা সেখানে মুরাদের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমার নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে পরিবারের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বিকালে চিওড়ায় নিহতের প্রথম জানাযা এবং রাত নয়টায় নিজ গ্রাম উত্তর মাহিনীতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। প্রাণচঞ্চল এক ব্যবসায়ীর আকষ্মিক এ মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলাবলি করছেন, বিবাহিত জীবনে মুরাদের দুজন স্ত্রী ছিল। দুই সংসারেই সন্তানদিও ছিল। পারিবারিক কলহের কারণে চাপ সইতে না পেরে গলায় রশি বেঁধে নিজ অফিসের ফ্যানের সাথে ঝুলে মুরাদ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে একটি শর্ট প্যান্ট ও গায়ে একটি স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ধোঁয়াশা কাটাতে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা সহ সন্দেহভাজন সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে চিওড়া বাজারের নৈশপ্রহরীরা জানান, রাত ১২টায় ব্যবসায়ী মুরাদকে দেখেছি নিজ অফিসে ঢুকতে। এ সময় তিনি অফিসের নিচের মূলফটকে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন। এক-দেড় ঘন্টা পরে স্থানীয় সিএনজি চালক শাহাদাতের মাধ্যমে জানতে পেরে উঁকি দিয়ে মুরাদের নিজ অফিসে তার লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তারা।

নিহতের বাবা পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ মৃত্যুকে ঘিরে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং ব্যাপক রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ সময় তিনি মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন। রহস্য উদঘাটন করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আমরা বেশ উদগ্রীব। আশা করছি, পুলিশ এ মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমা জানান, বুধবার রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে মুরাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তাস্তর করা হয়েছে। জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ সহ বিস্তারিত বলা যাবে।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, ‘সংবাদ পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ রয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করছে বলে শুনেছি। তবে, কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে তা গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।’

কুমিল্লায় পুলিশিং কমিটিতে আওয়ামী লীগ! তৃণমূলে ক্ষোভ

আয়েশা আক্তার : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম
কুমিল্লায় পুলিশিং কমিটিতে আওয়ামী লীগ! তৃণমূলে ক্ষোভ

কুমিল্লা মহানগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে কাজী নজরুল নজিরকে সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তুষার খান রাব্বিকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য একটি পক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কমিটিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।

তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তারে সহযোগিতার সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের দাবি, অতীতে যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা যাচাই না করে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী আরও অভিযোগ করেন, কাজী নজরুল নজির ও তুষার খান রাব্বি সাবেক যুবলীগ নেতা জি এস শহীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে, কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের আগেই তুষার খান রাব্বি নিজেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে পরিচয় দিচ্ছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন বা অনুমোদন করা হয়নি।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, মাসুম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সুজন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল হোসেন কাউছার এবং জেলা যুবদলের সদস্য আফজাল হোসেন নয়ন বলেন, “যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের বাড়িতে ঘুমাতে দেয়নি, সেই লোকগুলোকে এখন বিএনপির কিছু নামধারী নেতা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বিএনপি নেতা ফরিদ মিয়া ও নাদের আহমেদ বাপ্পি বলেন, “যখন দেখি আওয়ামী লীগের লোকেরা বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্ব নিতে চায়, তখন বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জাকর। তৃণমূল বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আশা করি, শিগগিরই কুমিল্লা জেলা ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।”

তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা যাচাই এবং এরপর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিটি গঠনের আগে কেউ নিজেকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে কাজী নজরুল নজির ও তুষার খান রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

দেবিদ্বারে পুলিশের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
দেবিদ্বারে পুলিশের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

মাদকের বিরুদ্ধে হই সচেতন, বাঁচাই এ প্রজন্ম, বাঁচাই জীবন’ এমন স্লোগানে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা মোহনপুরে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে দেবিদ্বার থানা পুলিশের উদ্যোগে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাইরুজ্জামান।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বাবুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও দেবিদ্বার উপজেলা এনসিপির সদস্য মোসলে উদ্দিন।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা শাহজালাল হেলালি, মুফতী মাসুম বিল্লাহ, মাওলানা মোস্তফা, স্কুল শিক্ষক রিয়াদ, বিএনপি নেতা আলি আকবর, যুব প্রতিনিধি মহিউদ্দিন, নাজির প্রধান প্রমূখ।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে সমাবেশস্থল থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি মোহনপুর বাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

×