ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশের খবর, ভেরিফায়েড পেজে প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পদত্যাগসংক্রান্ত খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত আজকের পত্রিকা ও বার্তা২৪.কম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। আজকের পত্রিকা সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করে। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করে।
অন্যদিকে, ইশরাক হোসেন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে পদত্যাগসংক্রান্ত খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন এবং তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং আজকের পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধাওয়া এবং তাঁদের আটকের দৃশ্য উঠে আসে। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া এবং অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে চলাচলের আইনগত দিক কী।
আত্মরক্ষার কথা বললেন ইশরাক
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং আগে থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ এবং ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত দৃশ্য ও তথ্য প্রকাশ করে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে তুলে ধরেনি। তাঁর মতে, এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।
অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ
এদিকে, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার ও আজকের পত্রিকা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অর্থাৎ, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হলেও পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবরের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
পদত্যাগের খবরের সত্যতা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
১৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের কয়েকটিতে নাম প্রকাশ না করা সরকারি সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ খবর অস্বীকার করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঘোষণা কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সুতরাং, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হলেও নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত সরকারি তথ্য দিয়ে এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি।