সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের যত দুর্নীতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৫২ পিএম
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের যত দুর্নীতি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. মোজাম্মেল হক। এক যুগ ধরে কর্মরত আছেন একই কার্যালয়ে। যার সুবাধে এখানকার নাড়ি-নক্ষত্র সবই তার নখদর্পনে। দীর্ঘদিন যাবৎ একই কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাধে অনুসারী ও সুবিধাভোগিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন আলাদা সিন্ডিকেট। তিনিই যেন সর্বেসর্বা। অফিসের অলিখিত বস তিনি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন সময় নাজেহাল করতেন অফিসের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বড় বড় কর্তাবাবুরাও তার কাছে বাধ্য হয়ে ধরা দিতেন নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও কাজ আদায় করে নিতে। মোজাম্মেলের ক্ষমতার দাপটে তারাও ঐসময় ছিলেন একেবারে অসহায়। ঘুষ না দিলে কারোই কাজ করতো না সে। আর ঘুষ দিলে নিমিষেই হয়ে যেত সকল কাজ। এ যেন টাকার নৌকা পাহাড়ে চলার মত অবস্থা! দুর্নীতি-অনিয়ম আর ঘুষ বানিজ্যে নিজের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। কিনেছেন বিলাশবহুল গাড়ি। আছে দামি ফ্ল্যাটও। এসব বিষয়ে ক্ষিপ্ত কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষ বরাবর দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ।

প্রত্যয়নপত্র, বদলি আদেশপত্র প্রস্তুত করে দেওয়া, শান্তি বিনোদন ভাতা, ছুটির দরখাস্ত, বর্ধিত বেতন প্রক্রিয়া, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কাজে কেউ তার কাছে গেলেই নানান অজুহাতে তাদের কাছে সে অর্থ দাবি করতো। কর্মচারীদের মুখের উপর সরাসরি বলে দিতো ঘুষের টাকা না দিলে কোন কাজ হবেনা। প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের বিষয় নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দিতো বিভিন্ন হুমকি-ধমকি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. মোজ্জামেল হক বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনের নাম ভাঙ্গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে নানান কৌশলে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে আটকে দিতেন প্রশাসনিক ও অফিসিয়াল প্রয়োজনীয় সকল কাজ। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ীকরণ, বদলি ফরোয়ার্ডিং, মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর, ছুটি পরবর্তী যোগদান বাবদও তাকে দিতে হতো নগদ টাকা। কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরির কাজ সম্পাদনে জনপ্রতি তাকে দিতে হয় কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। জিপিএফ ঋণ উত্তোলনের জন্য সুবিধাভোগিদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নিতেন গড়ে ১,৫০০-২,০০০ টাকা করে। শান্তি বিনোদন, ল্যামগ্র্যান্ড, পেনশন, পিআরএল মঞ্জুরি করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাজেট শাখার মোহাম্মদ হানিফের নাম ভাঙ্গিয়ে কর্মচারিদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগও রয়েছে অসৎ এই প্রধান সহকারী মোজ্জামেলের বিরুদ্ধে। তার হাত থেকে রেহাই পায় না হাসপাতালের অভ্যন্তরীন কোন দপ্তর। কমিউনিটি ক্লিনিকের বিভিন্ন ভাউচার পাশ করার নামেও নগদ অর্থ গ্রহণ করেন তিনি। টাকা না দিলে কর্মচারীদের পিআরএল নির্দিষ্ট সময়ে মঞ্জুর না করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার নজির আছে অহরহ। কখনো কখনো মোটা অঙ্কের টাকা দিলেও সময় অতিক্রান্ত করেই পিআরএল মঞ্জুর কাজ সম্পাদন করেন।

২০২৩ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদ থেকে পিআরএলে যান আবুল বাশার। ২০২৪ সালের ফেব্রæয়ারিতে এসে গিয়েছেন পেনশনে। আবুল বাশার স্বীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের সমস্যার কথা জানিয়ে বারবার অফিসে ধরনা দিয়েও কাজ আদায় করতে পারেননি। হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের সাথে মোটা অঙ্কের টাকার (১৪ হাজার) চুক্তি না করায় আজও হাসপাতালের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছেন। ২ বছর যাবৎ ঘুরেও এখনো পাননি চাকুরির পেনশনের টাকা। ফাইল আটকে রেখেছেন অভিযুক্ত মোজাম্মেল। এভাবেই পেনশন মঞ্জুর করার সময় টাকার জন্য কর্মচারীদেরকে জিম্মি করেন মোজাম্মেল। একপর্যায়ে টাকা পেলে পেনশন মঞ্জুর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

আবুল বাশার জানান, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর বহু আশা-আকাঙ্খার পিআরএল ও পেনশনের টাকার জন্য এতটা হয়রানির শিকার হতে হলে কিভাবে চলবে তার সংসার। অথচ এ অর্থ দিয়ে অবসর পরবর্তী সময়ে চলে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক-সাংসারিক চাহিদা নিবারনের সকল কাজ। হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের হয়রানির কারণে যথাসময়ে পিআরএল ও পেনশন এর টাকা না পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে এবং পারিবারিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। শুধু আমি নই, যারাই কোনো অফিসিয়াল কাজ করতে যায়, টাকা না দিলে মোজ্জামেল তাদেরকে ভিষণ হয়রানি করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেক্মো) আবুল হাশেম সবুজ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত শতকরা ৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীই হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোজ্জামেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ দিবে। টাকার লেনদেন ছাড়া তার কাছ থেকে কোনো অফিসিয়াল কাজ সম্পাদন করা যায় না। একজনের বদলীর জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়েও কাজ করেননি তিনি। তাহার হয়রানি ও অত্যাচারে আমরা দিশেহারা। যেকোনো প্রয়োজনে হয়রানি আতংকে থাকে অফিসের সবাই। এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসদ্বাচরণ যেন তার নিত্য সঙ্গী। তাহার হয়রানি ও সার্ভিস বুকের জটিলতার ভয়ে আমরা এতদিন তাহার বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও পারিনি। বর্তমানে তাহার আচার-আচরণ ও দুর্নীতির মাত্রা তুলনামূলক বৃদ্ধি পাওয়ায় উপর মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হলাম আমরা।

উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ১২ বছর ধরে বেশ ভোগান্তিতে আছে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অফিসের যেকোনো কাজ আদায়ে প্রধান সহকারী মোজ্জামেল হককে প্রকাশ্যে ঘুষ দিতে হয়। টাকা ছাড়া কাজ করাতে চাইলে সবার সাথে সে খারাপ ব্যবহার করে। অবৈধ সম্পদে তিনি কুমিল্লা শহরে একাধিক বিলাশবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে শুনেছি। হরহামেশা চড়েন দামি গাড়িতে। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে নিজস্ব দামি গাড়িও আছে তার। রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য কিছুদিন পরপরই কক্সবাজার-সাজেকসহ দেশের দর্শনীয় নানান জায়গায় স্বপরিবারে ঘুরতে যান তিনি। আমরা তার দুর্নীতি থেকে মুক্তি চাই।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘আমি কোন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই, ঘুস গ্রহণের কোনো প্রমাণ কারো কাছে নেই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো ডাহা মিথ্যা। প্রয়োজনে আপনারা অফিসে এসে স্যারের (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা) সাথে কথা বলতে পারেন। এসব বিষয় নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাইনা।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ‘আমি যোগদানের পরই প্রধান সহকারী মোজ্জামেল হক এর নামে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে তাকে সংশোধন হতে বলেছি। পরবর্তীতে অফিসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী লিখিত অভিযোগ দেয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো পর মোজ্জামেল হকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজ্জামেল হকের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কর্মচারীরা একটি যৌথ অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। আপাতত এসব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ভুক্তভোগিদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আরও ভালো হয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×