সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

জনগণের কাছ থেকে আদায়কৃত কর তাদের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে : ডিসি আমিরুল কায়সার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:২৯ পিএম
জনগণের কাছ থেকে আদায়কৃত কর তাদের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে : ডিসি আমিরুল কায়সার
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, এক সময় আমাদের দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর চারটি স্তর ছিল: জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম সরকার। এখন গ্রাম সরকারটি কার্যকর নেই, বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনটি স্তর রয়েছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা। এ হলো স্থানীয় সরকার কাঠামো।

তিনি আরও বলেন, যদি আমরা আরও গভীরে যাই, জেলা ও উপজেলা পরিষদও মূলত উপজেলা পর্যায়েই কাজ করে। তার মানে কোন কোন কাজটি ইউনিয়ন পর্যায়ে হচ্ছে তারা এর সাবির্ক তদারকি করে। ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রাচীনতম স্তর। আমাদের সরকার ব্যবস্থাপনার দুইটি নাম। একটি সরকার, অপরটি স্থানীয় সরকার। পৃথিবীর সকল উন্নত দেশে কেন্দ্রীয় সরকার মূলত নীতি নির্ধারণের কাজ করে, স্থানীয় জনগণের সেবামূলক কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদ সম্পাদন করে। স্থানীয় সরকার স্থানীয় পর্যায়ে আয় করবে এবং সেই আয় জনগণের কল্যাণে ব্যয় করবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো সক্ষম করে তুলতে পারিনি।

সোমবার বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক/চেয়ারম্যান/প্যানেল চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত অবহিতকরণ, স্থানীয় সম্পদ আহরণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার আরও বলেন, এখনও আমাদের স্থানীয় সরকার রিলিফ নির্ভর। আগে রিলিফ আসতো, স্থানীয় সরকারে যারা ছিলাম আমরা তা বিতরণ করতাম। সেই কনসেপ্ট থেকে আমরা এখনও বের হয়ে আসতে পারিনি। টিআর, কাবিখা, এডিবি, জেলা পরিষদ বরাদ্ধ, এসব ছাড়াও স্থানীয় সরকারে যতো আয় হচ্ছে, সেই আয় ও ব্যয়ের হিসাব দেখলে বোঝা যাবে আমাদের কার্যক্রম কতটা স্থায়ী। স্থানীয় সরকার মানেই হলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করবে। নাগরিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত সে অর্থ তাদের কল্যাণেই ব্যয় করবে। কল্যাণ বলতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবেশ, বিনোদনসহ অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রম বোঝায়। স্থানীয় সরকারে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ও আইন থাকলেও আমরা কতটুকু আদায় করতে পারছি, তা নিয়ে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় কোর্স পরিচালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দ। কোর্স সমন্বয়ক ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জামাল হোসেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাফকাত আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জুবায়ের আহমেদ। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রশাসক, চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, পরিষদ সচিব, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর সহ প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×