বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

তিতাসে ইটভাটার ৯ বছরের সরকারি বিভিন্ন বকেয়া বিলসহ, বাৎসারিক ভাড়া নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

হালিম সৈকত প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২১ পিএম
তিতাসে ইটভাটার ৯ বছরের সরকারি বিভিন্ন বকেয়া বিলসহ, বাৎসারিক ভাড়া নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার তিতাসে ইটভাটা ভাড়া নিয়ে সরকারি লাইসেন্স নবায়ন ফি, বিদুৎ বিল, ৯ বছরের পরিবেশগত নবায়ন ফিসহ মালিক পক্ষকে বাৎসরিক ভাড়া প্রদানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে জোরপূর্বক ইটভাটা দখলে রেখে বেআইনীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে শফিউল হোসেন নামের এক ইটভাটার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামের মেসার্স মুজিবুর রহমান এম.এম.আর ব্রিকসে। ঘটনায় অভিযুক্ত ইটভাটার ভাড়াটিয়া শফিউল হোসেন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মরহুম সাহিদুল হকের ছেলে।

এদিকে ব্রিকস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ব্যতীত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করার নির্দেশনা প্রদান করে নোটিশ দিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর। এঘটনায় ব্রিকস ফিল্ডের ব্যবসায়ীর নিকট পাওনা টাকা না পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পাওনাদারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এম.এম.আর ব্রিকসের মালিক মো. মজিবুর রহমান ২০১২ সালে এই ইট ভাটাটি তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে মজিবুর রহমান ইটভাটাটি দিয়ে কিছুটা আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখলেও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা ও নিজের খামখেয়ালিপনার কারণে ২০১৫ সালের মধ্যেই ক্ষতির দারপ্রান্তে গিয়ে দাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি।

একপর্যায় ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে হয় প্রতিষ্ঠানের মালিক মজিবুর রহমানকে। পরবর্তীতে ইটভাটাটির কার্যক্রম এক বছর বন্ধ থাকার পর পূনরায় মজিবুর রহমানের স্ত্রী মো: হাসিয়া বেগম প্রতিষ্ঠান মালিকের এজেন্ট হয়ে ব্যবসায়ী সফিউল হোসেনকে ১০ বছরের জন্য বাৎসরিক চুক্তিতে ইটভাটাটি ভাড়া দেন।

ভাড়া নেওয়ার পর থেকে সফিউল হোসেন প্রথম দুই-তিন বছর ঠিক মতো ইটভাটা পরিচালনা করে আসলেও এরপর থেকে শুরু করেন নানা রকমের প্রতারণা। মালিক পক্ষকে বাৎসরিক ভাড়া প্রদানে কালক্ষেপণ করা থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম। এনিয়ে তিতাস থানায় একাধিকবার দুপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার সালিসির মাধ্যমে ইটভাটাটি চলছিল।

এমন অবস্থায় ২০২৪ সালে ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং ইটভাটার ভাড়াটিয়া সফিউল হোসেন এর বিরুদ্ধে চুক্তিনামার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তিতাস থানায় এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা দেন। এদিকে শফিউল হোসেনও মজিবুর গং এর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারধর এবং ভাটা পরিচালনায় বাধা প্রদানের অভিযোগ তুলে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেন।

এইসব ঘটনায় দুপক্ষকে নিয়ে থানায় একাধিকবার সামাজিক ভাবে বিচার সালিস বসলেও সমস্যাগুলো নিরসন না হলে দুপক্ষই বিভিন্ন অভিযোগে পাল্টা-পাল্টি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান ইটভাটাটি দখলে যান। দখলের সপ্তাহ ক্ষানিকের মধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ইটভাটায় গিয়ে সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়।

এরই মধ্য দেশে গনঅভুথ্যান ঘটলে ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান পূর্বে আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগে প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা ট্যাগ দিয়ে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে বিভিন্ন রকমের লিখিত অভিযোগ জমা দেন শফিউল হোসেন। তবে স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, মজিবুর রহমান ঋণগ্রস্ত হয়ে ২০১৪ সালে বিদেশ চলে যান এবং ২০২৪ সালে দেশে আসেন৷ আওয়ামী লীগ করলেও তিনি ব্যবসার সমস্যার কারণে দলীয় কার্যক্রম পালন করেনি। স্থানীয়রা আরো জানান, সেনাবাহিনী শফিউল ইসলামের অভিযোগের পেক্ষিতে ব্রিকস ফিল্ডে যান এবং দু’পক্ষের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানার পর তাদেরকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে উপস্থিত হতে বলেন দু’পক্ষ উপস্থিত হলে তাদের এ সমস্যাগুলো নিরসনে দুপক্ষের সম্মতিক্রমে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে পূনরায় অঙ্গিকারনামার মাধ্যমে সফিউল হোসেনকে ইটভাটাটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়৷

অঙ্গিকারনামা থেকে জানা যায়, ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন এই মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন যে, মেসার্স মজিবুর রহমান ব্রিকস ফিল্ড (M.M.B) বকেয়া জমির ভাড়া ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা) করে ০৩ (তিন) বৎসরের মোট এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং ২ বৎসরের ব্রিকফিল্ডের ভাড়া বাবদ পনের লাখ পঞ্চাশ হাজার সর্বমোট ১৭,০০,০০০/- (সতের লক্ষ টাকা) ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন।

এছাড়াও ব্যবসায়ী শফিউল হোসেন M.M.B ২০১৭ সাল হইতে ২০২৫ইং জুলাই পূর্বের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, ট্যাক্স, লাইসেন্স নবায়ন বিল ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন ও আগামী ০৩ (তিন) বছরের সরকারী পরিবেশ দপ্তরের ট্যাক্স পরিশোধ এবং বার্ষিক ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ব্রিকস ফিল্ডের ভাড়া ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৬-২৭ অর্থ বৎসরের ভাড়া জুন ২০২৬ইং তারিখের মধ্যে পরিশোধ করে দিবেন বলে মুচলেকা দিয়ে অঙ্গিকারনামার ভিত্তিতে ইটভাটাটি পূনরায় বুঝে নেন। কিন্তু অঙ্গিকারনামা অনুযায়ী শর্ত পূরণের তিন মাস শেষ হয়ে প্রায় ৭ মাস হতে চললেও শফিউল হোসেন সরকারি বকেয়া ফিসহ অন্যান্য কোন বিলই পরিশোধ করেনি। ইটভাটাটি জোরপূর্বক দখলে রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেন ইটভাটার মালিক পক্ষ। মালিক পক্ষের আরো অভিযোগ এসব বিষয়ে সফিউল হোসনের সাথে কথা বলতে গেলেই ইটভাটাটি দখলে রাখতে থানায় হামলার মিথ্যা অভিযোগ দেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ইটভাটার ভাড়াটিয়া শফিউল হোসেন দাবি করেন অঙ্গিকার অনুযায়ী মালিক পক্ষকে ৯০ দিনের মধ্যে ১৭ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল তিনি ভাড়া বাবদ ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমানকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। কৃষি ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে শেষবার সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বিতর্ক সৃষ্টি হলে মালিক পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে সামাজিক ভাবে দু’পক্ষকে নিয়ে সমস্যার নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসিতে বসলে শফিউল হোসেন যে মজিবুর রহমানকে চেকের মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন তা প্রমান করতে দু’পক্ষের চারজন লোক সাথে নিয়ে উপরোক্ত অর্থ লেনদেন এর ব্যাংকের শাখায় গিয়ে টাকাটি ভাটার মালিক মজিবুর রহমান উত্তোলন করেছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য সিসিটিভির ফুটেজ দেখিয়ে আনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু শফিউল হোসেন থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে শালিসীতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন জানিয়ে পরে নানা তালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করা শুরু করেন এবং মালিক পক্ষকে ভাড়ার টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কোন প্রমাণপত্র না দিয়েই ইটভাটার মালামাল বিক্রিসহ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, অঙ্গীকার নামার শর্ত অনুযায়ী আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিয়ে পূনরায় ভাটার মালিক মজিবুর গং ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী সফিউল হোসেনের কাছে বিষয়টির সমাধান চাইতে গেলে তিনি টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়ে দু’পক্ষ বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন। পরে মালিক পক্ষ মুজিবুর গং ভাটায় তালা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেন এবং স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও অন্যান্য লোকজনের উপস্থিততে ভাটার ভাড়াটিয়া সফিউল হোসনের ম্যানেজার কে দিয়ে ভাটার অফিস কক্ষটি তালা দেওয়ান মজিব গং। বিষয়টির সমাধানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহলের লোকজন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×