রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

তিতাসে ইটভাটার ৯ বছরের সরকারি বিভিন্ন বকেয়া বিলসহ, বাৎসারিক ভাড়া নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

হালিম সৈকত প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২১ পিএম
তিতাসে ইটভাটার ৯ বছরের সরকারি বিভিন্ন বকেয়া বিলসহ, বাৎসারিক ভাড়া নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার তিতাসে ইটভাটা ভাড়া নিয়ে সরকারি লাইসেন্স নবায়ন ফি, বিদুৎ বিল, ৯ বছরের পরিবেশগত নবায়ন ফিসহ মালিক পক্ষকে বাৎসরিক ভাড়া প্রদানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে জোরপূর্বক ইটভাটা দখলে রেখে বেআইনীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে শফিউল হোসেন নামের এক ইটভাটার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামের মেসার্স মুজিবুর রহমান এম.এম.আর ব্রিকসে। ঘটনায় অভিযুক্ত ইটভাটার ভাড়াটিয়া শফিউল হোসেন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মরহুম সাহিদুল হকের ছেলে।

এদিকে ব্রিকস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ব্যতীত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা না করার নির্দেশনা প্রদান করে নোটিশ দিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর। এঘটনায় ব্রিকস ফিল্ডের ব্যবসায়ীর নিকট পাওনা টাকা না পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পাওনাদারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এম.এম.আর ব্রিকসের মালিক মো. মজিবুর রহমান ২০১২ সালে এই ইট ভাটাটি তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথম দিকে মজিবুর রহমান ইটভাটাটি দিয়ে কিছুটা আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখলেও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা ও নিজের খামখেয়ালিপনার কারণে ২০১৫ সালের মধ্যেই ক্ষতির দারপ্রান্তে গিয়ে দাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি।

একপর্যায় ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে হয় প্রতিষ্ঠানের মালিক মজিবুর রহমানকে। পরবর্তীতে ইটভাটাটির কার্যক্রম এক বছর বন্ধ থাকার পর পূনরায় মজিবুর রহমানের স্ত্রী মো: হাসিয়া বেগম প্রতিষ্ঠান মালিকের এজেন্ট হয়ে ব্যবসায়ী সফিউল হোসেনকে ১০ বছরের জন্য বাৎসরিক চুক্তিতে ইটভাটাটি ভাড়া দেন।

ভাড়া নেওয়ার পর থেকে সফিউল হোসেন প্রথম দুই-তিন বছর ঠিক মতো ইটভাটা পরিচালনা করে আসলেও এরপর থেকে শুরু করেন নানা রকমের প্রতারণা। মালিক পক্ষকে বাৎসরিক ভাড়া প্রদানে কালক্ষেপণ করা থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম। এনিয়ে তিতাস থানায় একাধিকবার দুপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার সালিসির মাধ্যমে ইটভাটাটি চলছিল।

এমন অবস্থায় ২০২৪ সালে ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং ইটভাটার ভাড়াটিয়া সফিউল হোসেন এর বিরুদ্ধে চুক্তিনামার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তিতাস থানায় এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জমা দেন। এদিকে শফিউল হোসেনও মজিবুর গং এর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারধর এবং ভাটা পরিচালনায় বাধা প্রদানের অভিযোগ তুলে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেন।

এইসব ঘটনায় দুপক্ষকে নিয়ে থানায় একাধিকবার সামাজিক ভাবে বিচার সালিস বসলেও সমস্যাগুলো নিরসন না হলে দুপক্ষই বিভিন্ন অভিযোগে পাল্টা-পাল্টি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান ইটভাটাটি দখলে যান। দখলের সপ্তাহ ক্ষানিকের মধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ইটভাটায় গিয়ে সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়।

এরই মধ্য দেশে গনঅভুথ্যান ঘটলে ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমান পূর্বে আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগে প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা ট্যাগ দিয়ে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে বিভিন্ন রকমের লিখিত অভিযোগ জমা দেন শফিউল হোসেন। তবে স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, মজিবুর রহমান ঋণগ্রস্ত হয়ে ২০১৪ সালে বিদেশ চলে যান এবং ২০২৪ সালে দেশে আসেন৷ আওয়ামী লীগ করলেও তিনি ব্যবসার সমস্যার কারণে দলীয় কার্যক্রম পালন করেনি। স্থানীয়রা আরো জানান, সেনাবাহিনী শফিউল ইসলামের অভিযোগের পেক্ষিতে ব্রিকস ফিল্ডে যান এবং দু’পক্ষের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানার পর তাদেরকে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে উপস্থিত হতে বলেন দু’পক্ষ উপস্থিত হলে তাদের এ সমস্যাগুলো নিরসনে দুপক্ষের সম্মতিক্রমে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে পূনরায় অঙ্গিকারনামার মাধ্যমে সফিউল হোসেনকে ইটভাটাটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়৷

অঙ্গিকারনামা থেকে জানা যায়, ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন এই মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন যে, মেসার্স মজিবুর রহমান ব্রিকস ফিল্ড (M.M.B) বকেয়া জমির ভাড়া ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা) করে ০৩ (তিন) বৎসরের মোট এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং ২ বৎসরের ব্রিকফিল্ডের ভাড়া বাবদ পনের লাখ পঞ্চাশ হাজার সর্বমোট ১৭,০০,০০০/- (সতের লক্ষ টাকা) ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন।

এছাড়াও ব্যবসায়ী শফিউল হোসেন M.M.B ২০১৭ সাল হইতে ২০২৫ইং জুলাই পূর্বের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, ট্যাক্স, লাইসেন্স নবায়ন বিল ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন ও আগামী ০৩ (তিন) বছরের সরকারী পরিবেশ দপ্তরের ট্যাক্স পরিশোধ এবং বার্ষিক ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ব্রিকস ফিল্ডের ভাড়া ২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৬-২৭ অর্থ বৎসরের ভাড়া জুন ২০২৬ইং তারিখের মধ্যে পরিশোধ করে দিবেন বলে মুচলেকা দিয়ে অঙ্গিকারনামার ভিত্তিতে ইটভাটাটি পূনরায় বুঝে নেন। কিন্তু অঙ্গিকারনামা অনুযায়ী শর্ত পূরণের তিন মাস শেষ হয়ে প্রায় ৭ মাস হতে চললেও শফিউল হোসেন সরকারি বকেয়া ফিসহ অন্যান্য কোন বিলই পরিশোধ করেনি। ইটভাটাটি জোরপূর্বক দখলে রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেন ইটভাটার মালিক পক্ষ। মালিক পক্ষের আরো অভিযোগ এসব বিষয়ে সফিউল হোসনের সাথে কথা বলতে গেলেই ইটভাটাটি দখলে রাখতে থানায় হামলার মিথ্যা অভিযোগ দেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ইটভাটার ভাড়াটিয়া শফিউল হোসেন দাবি করেন অঙ্গিকার অনুযায়ী মালিক পক্ষকে ৯০ দিনের মধ্যে ১৭ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল তিনি ভাড়া বাবদ ইটভাটার মালিক মুজিবুর রহমানকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছেন। কৃষি ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে শেষবার সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বিতর্ক সৃষ্টি হলে মালিক পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে সামাজিক ভাবে দু’পক্ষকে নিয়ে সমস্যার নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিসিতে বসলে শফিউল হোসেন যে মজিবুর রহমানকে চেকের মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন তা প্রমান করতে দু’পক্ষের চারজন লোক সাথে নিয়ে উপরোক্ত অর্থ লেনদেন এর ব্যাংকের শাখায় গিয়ে টাকাটি ভাটার মালিক মজিবুর রহমান উত্তোলন করেছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য সিসিটিভির ফুটেজ দেখিয়ে আনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু শফিউল হোসেন থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে শালিসীতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন জানিয়ে পরে নানা তালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করা শুরু করেন এবং মালিক পক্ষকে ভাড়ার টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কোন প্রমাণপত্র না দিয়েই ইটভাটার মালামাল বিক্রিসহ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, অঙ্গীকার নামার শর্ত অনুযায়ী আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিয়ে পূনরায় ভাটার মালিক মজিবুর গং ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী সফিউল হোসেনের কাছে বিষয়টির সমাধান চাইতে গেলে তিনি টাকা দিয়েছেন বলে জানিয়ে দু’পক্ষ বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন। পরে মালিক পক্ষ মুজিবুর গং ভাটায় তালা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেন এবং স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও অন্যান্য লোকজনের উপস্থিততে ভাটার ভাড়াটিয়া সফিউল হোসনের ম্যানেজার কে দিয়ে ভাটার অফিস কক্ষটি তালা দেওয়ান মজিব গং। বিষয়টির সমাধানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহলের লোকজন।

বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

কুমিল্লার ডাক ডেস্ক।। প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম
বিপদে মানুষের ভরসা -নেতৃত্বে আলোচনায় দানবীর জুনাব আলীর উত্তরসূরি গোলাম সারোয়ার

 

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও আশপাশের এলাকায় বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে পরিচিতি পেয়েছেন মো. গোলাম সারোয়ার। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দানবীর হাজী জুনাব আলী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সেই সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে গোলাম সারোয়ারের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশ।

বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং মহানগর দোকান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফাইন টাওয়ারের চেয়ারম্যান। এছাড়া কয়েকটি কমপ্লেক্সের পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গোলাম সারোয়ার সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম সারোয়ার নিজেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এলাকার যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সচেতনতা কার্যক্রম, খেলাধুলার প্রসারে সহযোগিতা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অনুদান দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।

করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন সংকটময় সময়ে নিজ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তাঁদের মতে, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার মানসিকতাই গোলাম সারোয়ারকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
স্থানীয় ভোটার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনে সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, গোলাম সারোয়ারের সততা, নম্রতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাঁকে স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

নিমসার ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, গোলাম সারোয়ার আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে এলাকার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশাকে ঘিরে গোলাম সারোয়ারের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নিমসার ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিপদে মানুষের পাশে থাকার যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছেন, সেটিই এখন সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের সাথে বেঈমানি করেছে। যেই জুলাই সনদকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছে, আজকে তারাই সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানী তেল নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই শব্দ। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তাহলে কি মাত্র ছয়মাসেই উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেছে? উনি এখন বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চায়। আমরা তাকে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান দিয়েছি, সেই প্ল্যান শোনার পর আর কোন কথা নাই। বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সুফলও দেখাতে পারছেনা বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি আপনার প্ল্যান শেষ হয়ে যায় তাহলে জনগণের কাছে স্যারেন্ডার করুন। অন্যথায় আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সকল কিছু পালন করবো।

তিনি শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে দুটি পৃথক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সরকারকে গালি দিয়ে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো, দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ আর আসছিলো না। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরঝর করে পড়ছিলো। রাগে ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। আমরা তার করা এসব অশালীন গালমন্দকে কখনোই সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর দলীয় সন্ত্রাসীরা সিফাত আব্দুল্লাহকে ব্যাপক প্রহার করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর হাতে কি কোন অস্ত্র ছিলো? কুড়াল ছিলো? দা ছিলো? পিস্তল ছিলো? যদি নাই বা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে। এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরাও তো সরকারের বিরোধীতা করে থাকি। আপনার যদি সাহস থাকে তাহলে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় আমার দেশের দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করেছে, শাপলা চত্ত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করুন। বিনিময়ে যদি কাউকে জেলে নিতে হয়, তাহলে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান। তারপরও এই সকল হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করুন।

জামায়াতের আমীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আপনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। সেই ওয়াদা পূরণ করুন। আমরা সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. শাহজালাল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তুষার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মো. আবুল খায়ের, মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা এনসিপি নেতা মো. মামুন মজুমদার, জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল রেজাউল করিম শামীম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিবির নেতা মো. মোজাম্মেল হক সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে দিনমজুর আবুল হাশেম ও বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়ে যুবক আবদুর রহমান সহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৬০) ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (২২)। পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ও বাতিসা বৈদ্দ্যের বাজার নামক এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহাম্মেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পাড়াপারের সময় দিনমজুর আবুল হাশেমকে অজ্ঞাতনামা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী শাহেনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ^বর্তী স্থানে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমরা আজ পথের পথিক।

অপরদিকে একইদিন বেলা ১২টায় উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, নিহত আবদুর রহমান শনিবার দুপুরে তার এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে গিয়ে একটি ভ্যানগাড়ীর সাথে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় পেছন দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হাশেম এবং আব্দুর রহমান নামের দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আনা হলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহম্মেদ জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই নিহত আব্দুর রহমানের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই স্বজনরা নিয়ে যায়। অপর দুর্ঘটনায় নিহত আবুল হাশেমের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

×