দেবিদ্বারে কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, প্রেমিকের নাম ঘুরছে মুখে মুখে
Oplus_131072
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বিউটি পার্লার থেকে তাহারিয়া তাবাসসুম নাদিয়া (১৯) নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলা গেইট সংলগ্ন ওমেন্স পারসোনা বিউটি পার্লার থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত নাদিয়া উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামের সফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
নাদিয়া গত দেড় বছর ধরে ওই পার্লারে কাজ শিখছিলেন। সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে পার্লারের কর্মীরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে সৌদি প্রবাসী কাউছার নামের এক যুবক পার্লারের কর্মী শাহিনুর আক্তারকে ফোন করে নাদিয়ার খোঁজ নিতে বলেন। এতে সন্দেহ জাগে এবং শাহিনুর নাদিয়ার রুমে গিয়ে তাকে না পেয়ে বারান্দায় যান। বারান্দার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখে বিষয়টি জানানো হয় পার্লার মালিক সীমা রানী পালকে। পরে বাড়ির মালিক মানিক চন্দ্র পাল রেঞ্চ দিয়ে দরজা ভেঙে নাদিয়াকে বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পার্লার মালিক জানান, নাদিয়া প্রায়ই ফোনে কথা বলতেন, তবে বিষয়টি ব্যক্তিগত হওয়ায় কেউ কিছু জিজ্ঞেস করতেন না। সৌদি প্রবাসী কাউছারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাদিয়ার বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি ঢাকায় একটি হোটেলে চাকরি করি। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে সকালে থানায় আসি। কী কারণে সে আত্মহত্যা করলো, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
দেবিদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। এখনো পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”


















