মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ফ্যানের সিলিংয়ে ঝুলন্ত গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
দেবীদ্বারে ফ্যানের সিলিংয়ে ঝুলন্ত গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাস ফেরত স্বামীর নেশার টাকা জোগানে ব্যর্থ স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত শরীরে যন্ত্রনায় এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোনে আসা পুলিশের সহযোগীতায় নিহত গৃহবধূ ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর ১ টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারী কলেজের উত্তর গেইট সংলগ্ন মোসলেম মিয়ার পঞ্চম তলা ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া আবু ইউছুফের বাসায়। নিহত গৃহবধূ সাবিনা ইয়াছমিন (৩২) মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নং দারোরা ইউনিয়নের দারোরা গ্রামের আবুল কাসেম খানের মেয়ে। প্রায় দেড় বছর পূর্বে প্রতিবেশী একই ইউনিয়নের পালাসূতা গ্রামের জাহাঙ্গীর মার্কেট সংলগ্ন আব্দুল বারেকের ছেলে বাহরাইন ফেরত আবু ইউছুফ (৩৩)’র সাথে সাবিনা ইয়াছমিন(৩২)’র পরকীয়ায় প্রেমে জড়িয়ে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর উভয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেয়ায়, দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় গত দেড় বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।


পুলিশ ও স্বজনরা জানান, গত ঈদে গৃহবধূ ও স্বামী যার যার পিত্রালয়ে চলে যায়। ঈদের পর গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্বামী বাসায় আসবে বলে সাবিনা তার পিত্রালয় থেকে বাসায় চলে আসে। এরই মধ্যে সাবিনার দুটি সিমকার্ড তার স্বামী নস্ট করে দিলে, সমস্ত ডকুমেন্টস হারিয়ে যায়। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সিমকার্ড তুলে সকালে সাবিনা তার মায়ের সাথে কথা বলেন। সন্ধ্যার পর থেকে আর কারোর সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি তার। রোববার দুপুরে পঁচা গন্ধ পুরো ফ্লাট ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশী মোসা: আসমা আক্তার দুর্গন্ধযুক্ত কক্ষের ভেতর থেকে লক করা ঘরের দরজা নক করে কোন সাড়া পাননি। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির মালিকের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন।
এ ব্যপারে নিহতার খালা ইয়াছমিন আক্তার নিপা জানান, তার বোনের মেয়ে সাবিনা খুবই সুন্দরী ছিলেন। তাকে নেশার টাকার জন্য তার স্বামী প্রায়ই নির্যাতর করত। ফর্সা শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন ছিলনা। গত কিছুদিন পূর্বে বাবার বাড়ি থেকে নেশার টাকা এনে দিতে নির্যাতনে একটি চোখ ক্ষত করে ফেলে। সংবাদ পেয়ে অচেতন অবস্থায় হাসপাতাল নিয়ে আসি। তার স্বামী সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে এসেও তাকে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে হত্যার চেষ্টা করে। আমি তাকে হাতে পায়ে ধরে মারধরে বিরত রাখার চেষ্টা করি।


নিহতার ছোট ভাই মো. রাসেল খান জানান, পূর্বে তার বোনকে একজন ওয়ার্কশপ মালিকের সাথে বিয়ে দেন। ওই সংসার কয়েক বছর স্থায়ী হলেও টেকে নাই। পরে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরো একজনের সাথে বিয়ে হয়। এসময় প্রতিবেশী বাহরাইন প্রবাসী আবু ইউছুফ প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে বিয়ে করে। এ ঘটনায় আমরা আর বোনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। আবু ইউছুফ নেশাগ্রস্থ ছিল। মাদকের দায়ে বাহরাইন ২ মাসের জেল খাটার পর ওই দেশের সরকার তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়।
নিহতার মা’ নিলু বেগম জানান, তার সাথে শেষ কথা হয়েছে গত শুক্রবার, আজ সে আমাদের বাড়ি আসার কথা ছিল।
দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাগর জানান, স্থানীয় ও পরিবারের পক্ষ থেকে যা জেনেছি, তাতে মনে হয়, স্বামী নেশাখোর হওয়ায় স্ত্রীকে নেশার টাকার জন্য প্রায়ই চাপে রাখত, মারধর ও নির্যাতন করত। নিহতার ৩ বিয়ে হয়েছে তবে কোন সন্তান নাই। বর্তমান স্বামীর ১১ বছর বয়সী একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে। ময়না তদন্তের পর এবং মোবাইল ট্রেকিং ও পলাতক স্বামী আবু ইউছুফকে আটকের পর তদন্ত স্বাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে। ইউডি মামলা দায়ের পূর্বক লাশ ছোরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে মর্গে পাঠিয়েছি।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×