সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

দেবীদ্বার রাজামেহারে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর আহত ১

মোঃ বিল্লাল হোসেন, দেবীদ্বার : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৩৮ এএম
দেবীদ্বার রাজামেহারে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর আহত ১
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের উখারী গ্রামে গত ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১:১৫ মিনিটের সময় স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নবী মেম্বারের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি একটি সন্ত্রাসী দল বে আইনি জনতাবদ্ধ হয়ে ৪ টি বসত ঘরে হামলা, ভাংচুর ও পুরুষ শূন্য ঘরের দরজায় লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে একাধিক নারীকে লাঞ্ছিত এবং অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হলে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসলে পরদিন ৩১ ই অক্টোবর সকালে উখারী গ্রামে সরেজমিনে গেলে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের পর চলে আসার পরেই দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটের সময় আবারো অভিযুক্ত ৯ নং ওয়ার্ডের নবী হোসেন মেম্বারের নেতৃত্বে মোঃ আবু ইউসুফ, মোঃ জামাল হোসেন, মোঃ আবুল বাশারসহ আরো ৮/১০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জুয়েল মিয়া নামক এক অটোরিক্সা চালককে মরহুম সোবহান কারীর মাদ্রাসার উওর পাশে রাস্তার উপর এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করলে স্হানীয় আশেপাশের লোকজন গুরুত্বর আহত অটোরিক্সা চালক জুয়েল মিয়াকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত জুয়েল এর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

আহত অটোরিক্সা চালক জুয়েল মিয়ার স্ত্রী জানান, আমার স্বামীকেসহ আমাকে আরো আগে ও একাধিকবার নবী মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে মারধর করেছিল। সেই কারনে আমার স্বামী জুয়েল বাদী হয়ে নবী মেম্বারকে ৩ নং আসামি করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় একটি সি আর মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি আর- ৩৮৭/ ২২ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৩০৭/৩৫৪/১০৯ দঃবি সেই মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক ওসি দেবীদ্বার থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি দেবীদ্বার থানার এসআই মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। আমার স্বামীকে মারধর করে আমাদের বসতঘরের সামনে নবী মেম্বার বেড়া দিয়ে আমাদেরকে অবরোধ করে রাখে।নবী মেম্বার প্রভাবশালী আর আমরা গরীব দেখে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এলাকায় নবী মেম্বারের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না।

উখারী গ্রামের একাধিক ভোক্তভোগী, আবুল কালাম (ভুট্রু) ড্রাইভার, জহিরুল ইসলাম, কামাল হোসেন বলেন, নবী মেম্বার এলাকার মাদক কারবারি,জুয়াড়ী ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। নবী মেম্বারের অত্যাচারে এলাকার নিরীহ জনগণ আজ দিশেহারা‌। ৩০ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে আমাদের বাড়িতে চাঁরটি বসতঘরে হামলা করে ঘর এবং ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মহিলাদের লাঞ্ছিতসহ ঘরের ভিতরে সজ্জিত অনেক মূল্যবান মালামাল ভাংচুর করেছে। রাতে আমাদের চাঁরটি বসতঘরে হামলা করে ভাংচুর করার পরদিন দুপুরে অটোরিক্সা চালক জুয়েলকে মারধর করে গুরুত্বর রক্তাক্ত করে নবী মেম্বার। এর আগে ও তার বিরুদ্ধে অটোরিক্সা চুরির মামলা ও সন্ত্রাসী মামলাসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আমরা এই নবী মেম্বারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিচার চাই।

উখারী গ্রামের শামছুল ইসলাম সর্দার বৃদ্ধ বায়োজৌষ্ঠ ব্যক্তি জানান,গত ১৭ ই আগষ্ট ও ১৮ ই আগষ্ট-২২ ইং তারিখে নবী মেম্বার ও তার বড় ভাই আবু ইউসুফ, আবুল বাশার, মাহাবুব, তুহিন এই পাঁচ জন মিলে চুলাশ বাজারের স্যানিটারী ব‌্যবসায়ী শামছুল ইসলাম সর্দারের দোকানের সামনে স্যানিটারী স্লেপ ও রিং ভাংচুর করলে নবী মেম্বার কে ১ নং আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় একটি নন-জিআর মামলা নং-৮৮/২২ ইং ধারা- ৪২৭/৩২৩/৫০৬ দ্রঃবি রুজু হলে নবী মেম্বারসহ সকল আসামীর বিরুদ্ধে গ্ৰেফতারী পরোয়ানা জারি করেন বিজ্ঞ আদালত। পরে দেবীদ্বার থানা পুলিশ গ্ৰেফতারী পরোয়ানাভুক্ত নবী মেম্বার পালিয়ে গেলেও তার বড় ভাই আবু ইউসুফসহ আবুল বাশার নামক দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করলে আসামীরা জামিনে এসে অটোরিক্সা চালক জুয়েলসহ একাধিক ব্যাক্তিদের মারধর করে কিন্তু নবী মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনের দারস্হ হওয়ার পরেও তাকে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে থামানো যাচ্ছে না।

তাছাড়া ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় উখারী গ্রামের মৃত রাজ্জাক মাষ্টারের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ ই আগষ্ট ২২ ইং তারিখে অভিযুক্ত নবী মেম্বারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা দায়ের করেন । মামলা নং সিআর – ৩৮৮/২২ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৩৭৯/৫০৬ দঃবি অএ মামলাটি বিজ্ঞ আদালত ডিবি কুমিল্লাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি ডিবি কুমিল্লায় তদন্তাধীন রয়েছে ।একই গ্ৰামের মৃত ইয়াছিন মিয়ার পুত্র মোঃ ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে অভিযুক্ত নবী মেম্বার, মোঃ আবুল বাশার, মোঃ জামাল হোসেনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় আরেকটি মারামারির মামলা দায়ের করেন বলে জানা যায়।

তবে ৩১ ই অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্ত নবী মেম্বার গংদের বিরুদ্ধে গত ৩০ ই অক্টোবর দিবাগত রাতে উখারী গ্রামের ০৪ টি বসতবাড়িতে হামলা,ভাংচুর, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩১ ই অক্টোবর দুপুর ১২:৩০ মিনিটের সময়ে অটোরিক্সা চালক মোঃ জুয়েল মিয়াকে মারধর বিষয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান জুয়েল মিয়ার বাবা মোঃ জয়নাল আবেদীন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নবী মেম্বারের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, উখারী গ্রামের ০৪ টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এম কে আনোয়ার ছিলেন রাজনীতির তারকা পুরুষ, তাঁর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করব-মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি

কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং হোমনা-তিতাস আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে এ উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া।

মরহুম এম কে আনোয়ারের জ্যেষ্ঠ সন্তান মাহমুদ আনোয়ার কাইজার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। পরে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ায় অংশ নেন।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি বলেন, এম কে আনোয়ার শুধু হোমনা কিংবা কুমিল্লার ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন তারকা পুরুষ। সততা, দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, এম কে আনোয়ার হোমনা, তিতাসসহ বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়ন-ভাবনা ও অসমাপ্ত কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সেলিম ভুঁইয়া এমপি আরও বলেন, এম কে আনোয়ারের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ করে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হোমনা-তিতাসের উন্নয়নে তাঁর যেসব স্বপ্ন ও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।

এ সময় তিনি মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেন।

মরহুম এম কে আনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

হোমনা-তিতাস ও মেঘনা অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সমন্বয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা তাঁকে হোমনার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি মো. শাহ আলম হিমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা (চেয়ারম্যান) ও মো. সাইফুল ইসলাম (ভিপি রাজা)।

পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলহাজ আবদুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোমনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাইজুদ্দিন (শাজু)।

এ ছাড়া মরহুমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×