মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবীদ্বার রাজামেহারে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর আহত ১

মোঃ বিল্লাল হোসেন, দেবীদ্বার : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৩৮ এএম
দেবীদ্বার রাজামেহারে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর আহত ১
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের উখারী গ্রামে গত ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১:১৫ মিনিটের সময় স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নবী মেম্বারের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি একটি সন্ত্রাসী দল বে আইনি জনতাবদ্ধ হয়ে ৪ টি বসত ঘরে হামলা, ভাংচুর ও পুরুষ শূন্য ঘরের দরজায় লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে একাধিক নারীকে লাঞ্ছিত এবং অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হলে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসলে পরদিন ৩১ ই অক্টোবর সকালে উখারী গ্রামে সরেজমিনে গেলে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের পর চলে আসার পরেই দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটের সময় আবারো অভিযুক্ত ৯ নং ওয়ার্ডের নবী হোসেন মেম্বারের নেতৃত্বে মোঃ আবু ইউসুফ, মোঃ জামাল হোসেন, মোঃ আবুল বাশারসহ আরো ৮/১০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জুয়েল মিয়া নামক এক অটোরিক্সা চালককে মরহুম সোবহান কারীর মাদ্রাসার উওর পাশে রাস্তার উপর এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করলে স্হানীয় আশেপাশের লোকজন গুরুত্বর আহত অটোরিক্সা চালক জুয়েল মিয়াকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত জুয়েল এর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

আহত অটোরিক্সা চালক জুয়েল মিয়ার স্ত্রী জানান, আমার স্বামীকেসহ আমাকে আরো আগে ও একাধিকবার নবী মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে মারধর করেছিল। সেই কারনে আমার স্বামী জুয়েল বাদী হয়ে নবী মেম্বারকে ৩ নং আসামি করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় একটি সি আর মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি আর- ৩৮৭/ ২২ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৩০৭/৩৫৪/১০৯ দঃবি সেই মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক ওসি দেবীদ্বার থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি দেবীদ্বার থানার এসআই মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। আমার স্বামীকে মারধর করে আমাদের বসতঘরের সামনে নবী মেম্বার বেড়া দিয়ে আমাদেরকে অবরোধ করে রাখে।নবী মেম্বার প্রভাবশালী আর আমরা গরীব দেখে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এলাকায় নবী মেম্বারের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না।

উখারী গ্রামের একাধিক ভোক্তভোগী, আবুল কালাম (ভুট্রু) ড্রাইভার, জহিরুল ইসলাম, কামাল হোসেন বলেন, নবী মেম্বার এলাকার মাদক কারবারি,জুয়াড়ী ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। নবী মেম্বারের অত্যাচারে এলাকার নিরীহ জনগণ আজ দিশেহারা‌। ৩০ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে আমাদের বাড়িতে চাঁরটি বসতঘরে হামলা করে ঘর এবং ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মহিলাদের লাঞ্ছিতসহ ঘরের ভিতরে সজ্জিত অনেক মূল্যবান মালামাল ভাংচুর করেছে। রাতে আমাদের চাঁরটি বসতঘরে হামলা করে ভাংচুর করার পরদিন দুপুরে অটোরিক্সা চালক জুয়েলকে মারধর করে গুরুত্বর রক্তাক্ত করে নবী মেম্বার। এর আগে ও তার বিরুদ্ধে অটোরিক্সা চুরির মামলা ও সন্ত্রাসী মামলাসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আমরা এই নবী মেম্বারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিচার চাই।

উখারী গ্রামের শামছুল ইসলাম সর্দার বৃদ্ধ বায়োজৌষ্ঠ ব্যক্তি জানান,গত ১৭ ই আগষ্ট ও ১৮ ই আগষ্ট-২২ ইং তারিখে নবী মেম্বার ও তার বড় ভাই আবু ইউসুফ, আবুল বাশার, মাহাবুব, তুহিন এই পাঁচ জন মিলে চুলাশ বাজারের স্যানিটারী ব‌্যবসায়ী শামছুল ইসলাম সর্দারের দোকানের সামনে স্যানিটারী স্লেপ ও রিং ভাংচুর করলে নবী মেম্বার কে ১ নং আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় একটি নন-জিআর মামলা নং-৮৮/২২ ইং ধারা- ৪২৭/৩২৩/৫০৬ দ্রঃবি রুজু হলে নবী মেম্বারসহ সকল আসামীর বিরুদ্ধে গ্ৰেফতারী পরোয়ানা জারি করেন বিজ্ঞ আদালত। পরে দেবীদ্বার থানা পুলিশ গ্ৰেফতারী পরোয়ানাভুক্ত নবী মেম্বার পালিয়ে গেলেও তার বড় ভাই আবু ইউসুফসহ আবুল বাশার নামক দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করলে আসামীরা জামিনে এসে অটোরিক্সা চালক জুয়েলসহ একাধিক ব্যাক্তিদের মারধর করে কিন্তু নবী মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনের দারস্হ হওয়ার পরেও তাকে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে থামানো যাচ্ছে না।

তাছাড়া ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় উখারী গ্রামের মৃত রাজ্জাক মাষ্টারের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ ই আগষ্ট ২২ ইং তারিখে অভিযুক্ত নবী মেম্বারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা দায়ের করেন । মামলা নং সিআর – ৩৮৮/২২ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৩৭৯/৫০৬ দঃবি অএ মামলাটি বিজ্ঞ আদালত ডিবি কুমিল্লাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি ডিবি কুমিল্লায় তদন্তাধীন রয়েছে ।একই গ্ৰামের মৃত ইয়াছিন মিয়ার পুত্র মোঃ ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে অভিযুক্ত নবী মেম্বার, মোঃ আবুল বাশার, মোঃ জামাল হোসেনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় আরেকটি মারামারির মামলা দায়ের করেন বলে জানা যায়।

তবে ৩১ ই অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্ত নবী মেম্বার গংদের বিরুদ্ধে গত ৩০ ই অক্টোবর দিবাগত রাতে উখারী গ্রামের ০৪ টি বসতবাড়িতে হামলা,ভাংচুর, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩১ ই অক্টোবর দুপুর ১২:৩০ মিনিটের সময়ে অটোরিক্সা চালক মোঃ জুয়েল মিয়াকে মারধর বিষয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান জুয়েল মিয়ার বাবা মোঃ জয়নাল আবেদীন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নবী মেম্বারের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, উখারী গ্রামের ০৪ টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×