মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুককে দারোগা গিরির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, গুণ্ডামির নয়: ডা: জাফরুল্লাহ

জামাল উদ্দিন স্বপন : প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মে, ২০২২, ১০:০৫ এএম
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুককে দারোগা গিরির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, গুণ্ডামির নয়: ডা: জাফরুল্লাহ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চালাকি, কারচুপি ছেড়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাঁটুন। আর তা না হলে দেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুফিবাদী কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ গোলাম মঈনুদ্দীনের ওপর বিচারবহির্ভূত নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোট এবং পীর মাশায়েখ ঐক্য পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক শাহ সুফি শামসুল আলম চিশতির সভাপতিত্বে সভায় পীরজাদা আনিছুর রহমান জাফরী বক্তব্য রাখেন।
ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেখেন শান্তির দ্বীপ ছিল শ্রীলঙ্কা। শিক্ষিত মানুষ। শান্তির দেশে কী হচ্ছে। আগুন জ্বলছে। গণহারে দারিদ্র্য বাড়ছে। আমরা সে দিকে যাবো না তো! আমাদের সবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের উচিত আল্লাহকে বলা আমাদের সঠিক পথ দেখাও। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে না হাঁটলে অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে। সেখানে যা ঘটছে তেমন কাহিনী এখানেও সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং সাবধান, সাবধান।
গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে সুফিবাদী গায়ক সৈয়দ গোলাম মইনুদ্দিন টিপুকে থানায় ডেকে মারধর ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ইসলাম গুণ্ডামি করার অবকাশ দেয়নি। ফারুককে দারোগা গিরির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, গুণ্ডামির নয়। কে কী করেছে এটির বিচার করবেন আল্লাহ। আমি আপনি না।
তিনি আরো বলেন, কুরআন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার বই। কুরআনকে বহুবার নোবেল প্রাইজ দেয়া উচিত ছিল। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য মুসলমানরা নিজেরা নিজেদের ভালো কিছু করতে চাই না। ইসলাম যুক্তিতর্কের ধর্ম। তিনি বলেন, ইসলামে কোনো মহিলার নামে গিবত করা সবচেয়ে কঠিনতম গিবত। গিবত করার আগে তার প্রমাণ থাকতে হবে। দেখেন কী জ্ঞানের কথা। ক’টা প্রমাণ থাকতে হবে, একজন মানুষ ভুল করতে পারে কিন্তু তার একাধিক প্রমাণ থাকতে হবে। দেখেন কিভাবে সবগুলো জিনিসের সৃষ্টি করেছে।
সুফিদেরকে গ্রামগঞ্জের সর্বত্র ইসলামের বাণীকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ডা: জাফরুল্লাহ বলেন, এখনো অনেক আলেম জেলে আছে। আপনারা কী করে এখনো চুপ করে আছেন আমি জানি না। এখনো তাদের জামিন হয়নি।
তিনি বলেন, মুসলমানদের উদার হওয়ার প্রয়োজন আছে। কারণ আমি আমরা মিথ্যাচার করব না। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে সুখী সমৃদ্ধি বাংলাদেশ জন্য দোয়া করব। মুসলমানরা অন্য ধর্মের প্রতি পরমত সহিষ্ণুতার গুরুত্ব দেবে। অন্যের ব্যাপারে জোর জবরদস্তি করা চলবে না। আমরা যদি ভালো মুসলমান হই ভালো মুসলমান হওয়া আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রতিটি স্কুল-কলেজে আরবি পড়ানো উচিত। বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোটের সমন্বয়ক, পীরজাদা আনিসুর রহমান জাফরীর পরিচালনায় এবং বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোট এবং পীর মাশায়েখ ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক, শাহ সুফি শামসুল আলম চিশ্তীর সভাপতিত্বে এই প্রতিবাদ সভায়, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান আলোচক, আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদের মহাসচিব, নুরে হক দরবার শরীফের পীর শাহসূফি আল্লামা হানিফ নূরী, সমন্বয়ক, বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোট। বিশেষ আলোচক, জাতীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত আধ্যাপক, ড. সুমল বড়ুয়া, এবিপার্টির সদস্য সচিব, জননেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক, সৈয়দ তারিক, পীরে তরিকত আবুল বাশার খান্দানী, সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম শাহিন নুরী সুরেশ্বরী, পীর সামসুজ্জামান চৌধূরী (সজিব), শাহসূফী কাজি জাবের আহম্মদ আল জাহাঙ্গিরী, ও অন্যান্য পীর-মাশায়েখগণসহ এই সভায় বিশিষ্ট উদারনৈতিক, সুফিবাদী ও মানবতাবাদী চিন্তকেরা বক্তব্যে বলেন- “বাংঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা দেখতে পাই, শহীদ গাজী রাজা বাদশাহ বা কোন সেলিব্রিটির মরণকালে দাফনকালে বিউগলে করুণ সুর বাজানো চিরাচরিত রীতি। সুফীমতে পীর মাশায়েখরা রূহানী বাদশাহ বা আধ্যাত্মিক সম্রাট খাজা আজমেরীকে এইজন্যই সুলতানুল হিন্দ বলা হয়। তাই তাদের মরণকালে ঢোলবাঁশি বাজানোর কথা বলা তাদের প্রেমের দাবী এটা শরঈ কোন বিধান নয়। এই ভিত্তিহীন অজুহাতে তার উপর বিচার বহির্ভূত অমানবিক নির্যাতন নাগরিক অধিকার পরিপন্থি। বক্তারা এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় এনে সুবিচারের ব্যবস্থা করার জন্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী সর্বাপরি সুফিবাদে বিশ্বাসী মহিয়সী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সুদৃষ্টি কামনা করেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×