মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ইপিজেডে কোটি টাকার পণ্য পাচার অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১:২৪ এএম
পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ইপিজেডে কোটি টাকার পণ্য পাচার অব্যাহত
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চট্টগ্রামের ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডে দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে যারা শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার পণ্য দেশের অভ্যন্তরে পাচার করছে। এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন পলাতক নেতা ও ব্যবসায়ী। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত এসব নেতাদের মদদে অন্তত ১০টি কারখানা নিয়মিতভাবে ঝুট ও ভাঙারি মাল পরিবহনের আড়ালে পোশাক, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য পাচার করছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেডে উৎপাদিত পোশাক, কাপড়, সুতা, জুতা, খেলনা, তাঁবুসহ বিভিন্ন পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয়। এসব পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তা উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে এসব পণ্য সরবরাহ করছে। আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়ের ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণি বিতানেও এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এত বড় পরিসরে পাচার চললেও ধরা পড়ার ঘটনা অত্যন্ত কম।

 

পাচার সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক সুমন এবং ব্যবসায়ী মোর্শেদুল ইসলাম তাজু। এরা সিইপিজেড ও কেইপিজেডের বিভিন্ন কারখানা থেকে অবৈধভাবে পণ্য বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি দেবাশিস পাল দেবু, শাহিন চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের কর্মী শাহেদ চৌধুরী রবিনও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদের অধিকাংশই বর্তমানে বিদেশে পলাতক।

 

পণ্য পাচারে জড়িত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে জে জে মিলস, প্রিমিয়ার ১৮৮৮, সেকশন সেভেন অ্যাপারেলস, এমএনসি অ্যাপারেলস, মেরিমো, মেরিমো কো. লি., ক্যান পার্ক, রিজেন্সি, প্যাসিফিক ক্যাজুয়াল এবং এমজেডএম টেক্সটাইল। এসব কারখানা থেকে পণ্য বের করে আনার সময় ঝুট ও ভাঙারি মাল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি ঝুটের গাড়ি থেকে পুলিশের জন্য ৩০০ টাকা, কাস্টমসের জন্য ৮০০ টাকা এবং বেপজার নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। ভাঙারি মাল পরিবহনের ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য ১০ হাজার, কাস্টমসের জন্য ১৫ হাজার এবং বেপজার জন্য ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এই অর্থের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাড়ি চেক না করে ছেড়ে দেয়।

 

এই পাচার কার্যক্রমে জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন সিইপিজেডে কর্মরত বেপজার গোয়েন্দা রমিজ ও জামির, কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সমীরন সরকার, সাব ইন্সপেক্টর সিরাজ সিপাহী শাহীন, কেইপিজেডের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পরিদর্শক নজরুল ইসলাম, রাজস্ব কর্মকর্তা আজম উল্লাহ, সিপাহী মাহফুজ ও সিপাহী হরি দাস। এদের মাধ্যমে ইপিজেড থানার পুলিশের জন্য কাস্টমস গেটে টাকা সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তীতে থানার ওসি আক্তারুজ্জামান বিপ্লবের কাছে জমা দেওয়া হয়। তিনি এই অর্থ বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জুন মাসে আক্তারুজ্জামান বিপ্লবকে ইপিজেড থানা থেকে বদলি করে রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। তিনি জানান, পুলিশ ও বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করেছেন এবং প্রতিবেদনে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। বর্তমান ওসি জামির হোসেন বলেন, ইপিজেডের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে একটি ফাঁড়ি রয়েছে এবং ফাঁড়ির পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে।

 

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পণ্য পাচার রোধে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ইপিজেড এলাকার গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা এবং সিইপিজেড ও কেইপিজেডের কাস্টমস আউট গেটে ওজন মাপার স্কেল স্থাপন করা। সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সোবহান জানান, পুলিশ, বেপজা ও কাস্টমস পৃথকভাবে তদন্ত করেছে এবং পণ্য পাচার রোধে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রায়শই ইপিজেডের গেট থেকে ঘোষণার অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক আটক করে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আন্তঃসংস্থার সমন্বয় বাড়ানো হলে পণ্য পাচার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×