মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকিস্তান জাতীয় দল ও ঢাকা মোহামেডানের প্রবীন ফুটবলার হুমায়ুন কবীর নীরবে চলে গেলেন না ফেরার দেশে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৩৬ পিএম
পাকিস্তান জাতীয় দল ও ঢাকা মোহামেডানের প্রবীন ফুটবলার হুমায়ুন কবীর নীরবে চলে গেলেন না ফেরার দেশে

মৃত্যুর কিছুদিন আগের ছবি ২০১৯

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জন্ম ১৯৩৪ ইং সালের ৫ নভেম্বর কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী জনপদ ময়নামতির সিন্ধুরিয়াপাড়া গ্রামে। মৃত্যু ২০১৯ ইং সালের ২৭ নভেম্বর। ১৯৪৮ সালে কৈশোরেই খেলা শুরু করে ১৯৫০ সালে নবম শ্রেনীতে পড়ার সময় প্রথম বিভাগের ফুটবল দল কুমিল্লা ইউনিয়ন ক্লাবে খেলা শুরু। এসময় তিনি কুমিল্লা জিলা স্কুল ও কুমিল্লা ইউসুফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫২, ৫৩ ইং সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ টিমেও অধিনায়ক হয়ে খেলেছেন কৃতিত্বের সাথে। জীবদ্দশায় স্মৃতি চারণে বলেছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. আখতার হামিদ খানের উৎসাহ, অনুপ্রেরণার।

২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর ৮৬তম জন্মদিনে পরিবারের সদস্যদের সাথে হুমায়ুন কবীর

১৯৫১ থেকে এসময় তিনি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জ মোহামেডানে খেলার পাশাপাশি ১৯৫৪ সালে ঢাকা জিমখানা স্পোর্টিং ক্লাবে খেলেন। ১৯৫৬-১৯৫৯ পর্যন্ত কুমিল্লা পাক ইউনাইটেড, ১৯৫৫ সালে পাকভারতের বিখ্যাত ফুটবলার মরহুম শাহজাহানের অনুরোধে পুর্ণগঠিত ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগদান করেন। সেসময় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর শেরে বাংলা একেএম ফজলুল হক মোহামেডান ক্লাব টেণ্ট উদ্বোধন করতে এসে তার সাথে করমর্দন করেন এবং ভালো খেলার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন।

 

৫৬ সালে মোহামেডান অপরাজিত লীগ রানার্স-আপ হয়। ১৯৫৭ ইং সালে মোহামেডান ঢাকা লীগ চ্যাম্পীয়ান হয়। সেই দলের গর্বিত সদস্য ছিলেন হুমায়ুন। জীবদ্দশায় স্মৃতিচারণ করে হুমায়ুন বলেছিলেন, ১৯৫৭ সালে মোহামেডানের সেসময়ের লেফটআউট মরহুম শাহআলমের অনুপস্থিতিতে তিনি (হুমায়ুন) রাইটআউট পজিশন ছেড়ে লেফট আউট পজিশনে খেলেন। একদিন মাঠে খেলা ছিল মোহামেডানের সাথে পুলিশের। সেটা দেখছিলেন বিগত উনিশ শতকের ৩০ দশকের উপমহাদেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হাফিজ রশিদ।

খেলোয়াড় হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন ট্রফি-২

তিনি বিরতি’র সময় মাঠে এসে হুমায়ুনকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, তোমার খেলা দেখে আমার মনে হয়েছে “আজ মাঠে আমি জুনিয়র নুর মোহাম্মদের খেলা দেখেছি”। জুনিয়র নুর ছিলেন উপমহাদেশের ৩০ দশকের সেরা লেফট আউট। আরেকটি স্মৃতিচারণ ছিল, ১৯৫৬ সালে ঢাকা ষ্টেডিয়াম মাঠে। খেলাটি ছিল মোহামেডানের সাথে ফায়ার সার্ভিসের। ওইদিন তিনি রাইট আউট খেলছিলেন। পুরো খেলায় মোহামেডান প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে খেললেও গোল পাচ্ছিলনা। খেলা শেষ হওয়ার ৩ মিনিট পূর্বে মোহামেডান একটি কর্ণার পায়।

 

লেফট আউট শ্হাআলম বল বসায় কিক নিতে। শাহজাহান ভাই গ্যালারী থেকে দৌড়ে চিৎকার করতে করতে এসে বলে শালআলম তুমি না হুমায়ুন কিক নিবে। এসময় তিনি বলটি নিজ হাতে বসিয়ে হুমায়ুনকে বলেছিল রেইনবো কিক করো। এদিকে মাঠের খেলা পরিচালনায় থাকা রেফারী ঈসা খাঁন এসে শাহজাহানকে কিছুটা ধমক দিয়ে বলটি নেড়ে দিলেন। পরে হুমায়ুন আবারো বলটি নিজের মতো করে বসিয়ে রেইনবো শট করেন। ফায়ার সার্ভিসের ডিফেন্ডার চাঁদ ভাই আপ্রাণ চেষ্টা করেও মাথায় লাগাতে পারেনি বলটি। ফলে সরাসরি বল ফায়ার সার্ভিসের জালে ঢুকে যায়। মোহামেডান এক গোলে বিজয়ী হয়। তার স্মৃতি চারণে আরো ছিল ’৫৭ সালের একটি ঘটনা। মোহামেডানের সাথে খেলা ছিল তৎকালীন ইপিআর এর। মধ্যমাঠের কিছুটা কাছাকাছি ফ্রি কিক পায়। হুমায়ুন ফ্রি কিক নিতে বল বসালে দৌড়ে এসে মারি বললো সে কিক নিবে। বলটি ইপিআরের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসলে সামনে থাকা হুমায়ুন চলন্ত বলে গোলবারে কিক নেন।

২০১৪ সালে প্রয়াত হুমায়ুন কবীর প্রিয় ক্লাব মোহামেডান’েএ গেলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু, ফুটবলার কায়কোবাদ,বাবলুসহ অন্যান্যরা

বলটি সরাসরি ইপিআরের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে গোলবারে প্রবেশ করে। পরদিন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার লাডু ভাই আজাদ পত্রিকায় লিখেছিলেন, “এতোদুর থেকে এরকম একটি দর্শনীয় গোল সত্যিই বিরল”। তিনি ১৯৫৬ থেকে ৬০ সাল খেলোয়াড় থাকাকালিন কুমিল্লা ৩ বার আন্তঃজেলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ান হয়। ১৯৫৬ সালে কুমিল্লা চ্যাম্পিয়নের পর তৎকালীন রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজার এস এ বারী বাংলাশে রেলওয়েতে খেলোয়াড় হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব করলে পিতা মরহুম ফরিদ উদ্দিনের অনুমতি নিয়ে সেখানে কর্মজীবন শুরু করেন। এসময় তিনি রেলওয়ে ছাড়াও জাতীয় দলের হয়ে বার্মা, ভারত, পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্নস্থানে সুনামের সাথে খেলায় অংশ নেন। পুরস্কার হিসেবে পান অনেক মেডেল, কাপ, সার্টিফিকেট।

১৯৫৬ সালে ঢাকা ষ্টেডিয়াম মাঠে পাকিস্তান অর্থমন্ত্রী আমজাদ আলী একাদশ বনাম পূর্ব পাকিস্তান চীফ মিনিষ্টার আবু হোসেন সরকার একাদশের প্রদর্শনী ফুটবল খেলোয় প্রধান অতিথি আমজাদ আলীর সাথে হাত মেলানো হুমায়ুন কবীর।

খেলোয়াড়ী জীবনে ১৯৫৫ সালে কুমিল্লা জেলা দলের হয়ে কুমিল্লা ষ্টেডিয়ামে ভারতের বিখ্যাত সেন্টার ফরোয়ার্ড মেওয়া লালের অধীন কলকাতার ইষ্টবেঙ্গল দলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছিলেন। খেলা শেষে কুমিল্লা নবাব বাড়িতে রাতের ডিনারে একই টেবিলে বসেছিলেন তিনি ও মেওয়া লাল। এসময় মেওয়া লাল তাকে ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবে তার সাথে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে কুমিল্লা ষ্টেডিয়ামে ভারতের অপর বিখ্যাত ফুটবল দল কলকাতা মোহামেডানের বিরুদ্ধে খেলায় তৎকালীন কলকাতা মাঠের অপরাজিত গোলরক্ষত ইলিয়াসকে প্রথম মিনিটেই গোল করেছিলেন হুমায়ুন। পরে কলকাতা মোহামেডানের অধিনায়ক সালাম তার পিতাকে (ফরিদ উদ্দিন) অনুরোধ করেছিলেন কলকাতায় ফুটবল খেলার অনুমতি দিতে। তিনি বিখ্যাত ইংলিশ কোচ জন ম্যাকব্রাইড, যাদুকর সামাদ, কলকাতা মোহামেডানের শাহজাহান, কলকাতা মোহামেডানের সাত্তার প্রমূখের কাছেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে খেলা শুরু করে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত খেলেছেন।

১৯৫৬ সালের ব্লেজার পরিহিত ছবি

চাকুরীকালীন রেলওয়ের হয়ে ফুটবল খেলাছাড়া সংগঠক, বিভিন্ন গেম এ বিচারকসহ বাংলাদেশ রেলওয়ে ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৭ নভেম্বর ২০১৯ ইং ডায়বেটিকস্সহ নানারোগে আক্রান্ত অবস্থায় কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি’র নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন। বার্ধক্য অবস্থায় তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের কাছে আক্ষেপ করতেন সারাদেশে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের কথা বলে সরকার কত অখ্যাত লোকজনদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্মাননা কিংবা বাৎসরিক পেনশন বা ভাতা দিলেও তার কপালে জুটেনি কোন পুরস্কার, স্বীকৃতি কিংবা ভাতা।

 

১৯৫৬ সালে ঢাকা ষ্টেডিয়ামে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আমজাদ আলী একাদশ বনাম পূর্ব পাকিস্তান চীফ মিনিষ্টার আবুল হোসেন সরকার একাদশ প্রদর্শনী ফুটবল শুরুর আগে প্রধান অতিথি আমজাদ আলীর সাথে হাত মেলাচ্ছেন হুমায়ুন কবীর। পাশে বা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী সৈয়দ নান্না মিয়া (একে ফজলুল হকের ভাগিনা), চীফ মিনিষ্টার আবুল আবুল হোসেন সরকার, অর্থমন্ত্রী একাদশের গোলরক্ষক ওয়াজেদ মিয়া, সামসু, কবির। ছবিটি কিংবদন্তী ফটোগ্রাফার আব্দুল মান্নান ওরফে লাডু ভাইয়ের তোলা। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর হাতে এই ফটোগ্রাফার শহীদ হয়েছিলেন।

 

এ্যালবাম থেকে।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×