সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতারক শাহিন আলমের বিরুদ্ধে নিজ গ্রামে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫, ২:৪১ পিএম
প্রতারক শাহিন আলমের বিরুদ্ধে নিজ গ্রামে মানববন্ধন
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় কথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহিন আলমের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভণ্ডামি, ব্ল্যাকমেইল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে নিজ গ্রামেই মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর চৌমুহনী বাজারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। কনেশতলা, একবালিয়া, ডলখুলিয়া এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই প্রতিবাদে যোগ দেন।

মানববন্ধন ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বক্তারা শাহিনকে প্রতারক বলে আখ্যা দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, শাহিন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।

স্থানীয়দের দাবি, শাহিন কখনো অ্যাডভোকেট, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে নানা রকম প্রলোভন দেখান। তিনি ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাহিন প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অনেক ভুক্তভোগী লজ্জা এবং ভয় থেকে প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না।

শুধু প্রতারণা নয়, তার বিরুদ্ধে নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে একাধিক বিয়ের অভিযোগও রয়েছে। প্রবাসী এক নারীকে ব্ল্যাকমেইল করে তিনি জোরপূর্বক বিয়ে করেন। পরে ফাঁদে ফেলে আরও চারটি বিয়ে করেন। অভিযোগ রয়েছে, নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি তাদের আর্থিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেন।

স্থানীয় ঠিকাদাররাও শাহিনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বক্তাদের দাবি, গুলিয়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিনি জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করেছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করেন।

বক্তারা বলেন, শাহিন আলম দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছেন। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা বলেন, শাহিন আলমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা দীর্ঘদিন নির্যাতিত হয়েছি। আজ আমরা সাহস করে রাস্তায় নেমেছি। আমরা চাই দ্রুত তার গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

পরে উত্তেজিত জনতা শাহিন আলমের ছবি পায়ে দলিত করে জুতা নিক্ষেপ করেন।

এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা আর নীরব থাকব না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।

অভিযুক্ত শাহিন আলম এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। তিনি ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×