ভারতের ভয়ে মুখে তালা নয়-স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন এনসিপি
Oplus_131072
“ভারতের ভয়ে মুখে তালা নয়-বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপসহীন থাকতে হবে।” এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার বিকেলে দেবিদ্বারের ফুলতলী এলাকায় এক উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। একতরফা বন্ধুত্ব আর চলবে না।”
ভারতের কাছে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ডেকে ধমক দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে শুধু ধমক নয়-প্রতিবাদ জানানোই উচিত ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ভারত বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তার দাবি, “ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়াই অন্তত ৩০ হাজার আওয়ামী লীগ কর্মী ভারতে আশ্রয় পেয়েছে।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “যদি এক পক্ষ ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতিতে চলে, তবে অন্য পক্ষ কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না—প্রতিবাদ জানাতেই হবে।” তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে ফেলানীর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর মেনে নেওয়া হবে না।”
হাসনাত আবদুল্লাহ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভারতীয় নির্ভরতা তৈরি করে আমাদের সংস্কৃতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভারতের বিরাগের ভয় দেখিয়ে মুখে তালা দেওয়া রাজনীতি আর চলবে না।”
আওয়ামী লীগ আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে তিনি ‘স্বামী-স্ত্রীর’ অসম সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “সেই অধ্যায় শেষ। এখন সম্পর্ক হবে সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশের মুসলমানদের ভারতে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে অনেকেই টার্গেট হয়েছেন। আমার সহযোদ্ধা হাদিও হামলার শিকার হয়েছেন। তবে আন্দোলন থামবে না-ন্যায় ও স্বাধীনতার লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
উঠান বৈঠকে এনসিপির দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





















