শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজাচ্ছে ইসি

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৩:২৮ এএম
মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজাচ্ছে ইসি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতে নতুন করে মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে প্রশাসন ও পুলিশে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করেছে সংস্থাটি। ইসির পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ওসিদের বদলি করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তা বিভাগে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদেও বদলি করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে এক বছর ধরে কর্মরত আছেন এমন সাড়ে তিনশর বেশি ইউএনও এবং ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এমন চারশ ওসিকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে বদলি করা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করতে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের বদলি প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে করা হয়। প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে থাকা ইউএনওদের এবং একই থানায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে থাকা ওসিদের বদলির প্রস্তাব ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। ইসি ওই প্রস্তাব অনুমোদন করলে বদলির আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তা বিভাগ। পর্যায়ক্রমে অন্য ইউএনও ও ওসিদেরও বদলি করা হবে।

এ ছাড়া প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় কজন ডিসি-এসপিকে প্রত্যাহার ও বদলির কথাও বলেছে ইসি। ইসির এই নির্দেশনার পর শনিবার দুই জেলায় ডিসি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ডিসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। আর সুনামগঞ্জের ডিসি দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীকে ময়মনসিংহের নতুন ডিসি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীকে করা হয়েছে সুনামগঞ্জের ডিসি। গতকাল এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, ময়মনসিংহের ডিসিকে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যাহার করেছে মন্ত্রণালয়। অন্যদের বদলি করা হয়েছে।

সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।’ আর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচনি কাজে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পাওয়ার পর তাকে অব্যাহতি না দেওয়া পর্যন্ত চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি ইসির অধীনে প্রেষণে আছেন বলে গণ্য হবে। নির্বাচনের সময়সূচি জারি থেকে ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত ইসির অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না।

আরপিও অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের কোনো বিভাগ বা কোনো সংস্থার যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিতে পারে ইসি। নির্দেশনা পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা বস্তবায়ন করা ওই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অবশ্য এর আগে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসিকে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে ইসি সচিব, জনপ্রশাসন ও পুলিশের ৯২ জন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে তখনকার বিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইসিকে চিঠি দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, সংবিধান ও আইনে দেওয়া ক্ষমতাবলে ইসি চাইলে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশে রদবদল করার উদ্যোগ নিতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ এর আগেও জাতীয় নির্বাচনের সময় ইসির পক্ষ থেকে নিতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে পুলিশ প্রশাসন নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হয়ে। তবে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা কিংবা না করা হলে সে ক্ষেত্রে কমিশন কী করতে পারে তা নিয়ে আইনে কিছু বলা নেই। সংবিধানে বলা আছে, নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। কিন্তু যদি না করে তা হলে কী করা হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা না থাকায় ইসিকে বিভিন্ন সময়ে বিপাকে পড়তে হয়।

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর। জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকে পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ডিসি, ইউএনও, এসপি ও থানার ওসিরা। এর মধ্যে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা, ইউএনওরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠ পর্যায়ে তারাই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় থাকছেন। এ কারণে সবসময় দেখা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারও নির্বাচন সামনে রেখে গত জুন ও জুলাইয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। গত জুলাইয়ে ৩০টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক এবং ৫ বিভাগে নতুন বিভাগীয় কমিশনার পদে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অন্তত ৭০টি উপজেলায় ইউএনও বদল করা হয়। এ ছাড়া কাছাকাছি সময়ে পুলিশের ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৬৯ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়। তখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করেছিল, সরকার নির্বাচন সামনে রেখে পছন্দমতো মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন পর্যায়ক্রমে সব ইউএনও ও ওসিদের বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সারা দেশে ৬৪টি জেলায় ৪৯৫টি উপজেলা এবং সাড়ে ছয়শ থানা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গণমাধ্যমকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে মাঠ পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতেই এই বদলি করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনারদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই বদলির কারণে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকদেরও বদলি করা হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে পুলিশ বা মাঠ প্রশাসনে রদবদল প্রয়োজন, তা হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তারা নির্দেশনা দিতে পারে। এর আগেও এমন হয়েছে। কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সরকার যদি কাজ না করে তা হলে আইনের বরখেলাপ হবে।

মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লা মনোহরগন্জ, প্রতিনিধি ইমরান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত জাহানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ইউএনও কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মনোহরগঞ্জে স্বাগতম ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তাঁরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×