শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্রি হচ্ছেন বিএনপির ৮০ নেতা!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৫:৫৬ এএম
বিক্রি হচ্ছেন বিএনপির ৮০ নেতা!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

হাইকমান্ডের আস্থায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির ৮০ নেতা ফসকে যাচ্ছেন বলে চাউর হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের ‘টোপ’ গিলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। আসন্ন এ নির্বাচনকে ঘিরে যে ভাগবাটোয়ারা প্রক্রিয়ার কথা এতদিন নানা মহলে আলোচনা হচ্ছিল, তা যেন এবার সত্যি হতে চলেছে। বিএনপির ওই ৮০ নেতাকে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ছকমতো নির্বাচনে নিতে দলটিরই এক ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক এক সাংগঠনিক সম্পাদক ও একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ আলোচিত সংস্কারপন্থি একাধিক নেতা তৎপর রয়েছেন। দলটির একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

 

নির্বাচন নিয়ে নানা সমীকরণের মধ্যে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা শঙ্কা। নির্বাচন হবে কি হবে না এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনাও। সরকার যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করেই ফেলে তাহলে বিএনপির অবস্থান কি হবে- এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে নানা মত। তবে খোদ বিএনপিতেই আলোচনা আছে সরকার তাদের দলের একটা অংশকে নিয়ে নির্বাচন করার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে। দলের ৭২ থেকে ৮০ জন নেতাকে নির্বাচন নেওয়ার জন্য কয়েক মাস ধরে তৎপরতা চলছে ক্ষমতাসীনরা।

দলীয় সরকারে অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেও, দলের মধ্যে একটি অংশ ভেতরে ভেতরে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অনেক দিন ধরে। সে অংশটি দলের হাইকমান্ডকে এ-ও বোঝানোর চেষ্টা করেছে, সরকার বর্তমানে দেশ-বিদেশে নানামুখী চাপে আছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা সম্ভব। হিসেব-নিকেশ তাদের পক্ষে থাকলে তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতেও পরামর্শ দিয়ে আসছিলো দলের হাইকমান্ডকে। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের অনড় অবস্থানের কারণে ওই অংশটি নেপথ্যে থেকে সরকারের ছকে নির্বাচনের রোডম্যাপে হাঁটছে।

দল নির্বাচনে গেলে তারা দলের হয়েই নির্বাচনে লড়াই করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল যদি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না আসে সেক্ষেত্রে সম্প্রতি নিবন্ধন পাওয়া কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে তারা ভোটে অংশ নেবে। প্রয়োজনে তারা পৃথক জোট গঠন করে ‘জাতীয়তাবাদী’ আদর্শের ব্যানারে নির্বাচনের পরিকল্পনা নিচ্ছেন। এসবের পেছনে বেশ কিছুদিন ধরেই কলকাঠি নাড়ছে ক্ষমতাসীনরা।

এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে সংসদে একটি বিরোধীদল গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বকে দেখানো হবে- বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। এ সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলও রয়েছে। বলা হবে- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দণ্ডিত তাই তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। দলের বেশ কয়েকজন নেতাও দণ্ডিত হওয়ায় নির্বাচনে আসতে পারেননি। এমনকি তারা বিএনপির ব্যানারও ব্যবহার করবে এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদেরকে নির্বাচনের জন্য বৈধ মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে অনুমোদন দেবে।

দুই শীর্ষ নেতা দণ্ডিত হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এ প্রক্রিয়ায় জড়িত ওই ভাইস-চেয়ারম্যানকে দলের চেয়ারম্যানও ঘোষণা করা হবে। দলের নির্বাচনকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে ইসি তাকে বৈধতা দেবে। তিনি ওই ৭২ থেকে ৮০ জন নেতাকে নির্বাচনে নিয়ে আসবেন। এতে ৩০-৩৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র। এছাড়া দলে বঞ্চিতদের অনেককেই এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য খোলা কাগজকে বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে ইতোমধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দলের দায়িত্বশীল এক নেতা একাধিকবার এ প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া প্রভাবশালী দেশের একজন কূটনীতিকও তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তারেক রহমান তার কাছে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানিয়ে দেন- বিএনপির তৃণমূল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা আরও বলেন, আমরা (নেতারা) যে যাই বলি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কিন্তু প্রতিনিয়তই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তারা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা খোলা কাগজকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক হয়েছে। গেল জুন মাসেও এ বৈঠক হয়। কিন্তু তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হননি। উপদেষ্টা জানান, দলের ৭২ জনকে টার্গেট করে পরিকল্পনা সাজানো হয়। কিন্তু ৩২ জনকে সিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরে তারা ৪০ জনকে টার্গেট করে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

বিএনপির বাইরে গিয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া তারা এখনই সামনে আনতে চাইছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আনার চেষ্টা চালাবে ওই অংশটি। যদি তারা সফল না হয় তাহলে বিএনপির ৪০ নেতাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এবং তৃণমূল বিএনপির ব্যানারে তাদেরকে ভোটে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে তাদের একটি তালিকাও করা হয়। মূলত এই তালিকা ধরেই কাজ চলছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা বলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্নেল এবং এক ব্রিগেডিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতই যোগাযোগ করে চলেছেন। দ্ইু-চারজনের সঙ্গে তাদের বৈঠকও হয়েছে। তারা হয়তো পরিস্থিতির বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিএনপি ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপির সরকারের সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ সংস্কারপন্থিদের কয়েকজনের নাম সরকারের ছক বাস্তবায়নের এ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে পরিচিত দলের অনেকে ‘সংস্কারপন্থি’ তকমা আর নিতে রাজি নন। তারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু ভাবছেন না।

সরকারের ছক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার আরও যেসব নাম সূত্র জানিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছনÑ যুবদলের সাবেক দুই প্রভাবশালী নেতা, ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেতা, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সঙ্গে যুক্ত এক নেতা, রাজশাহী, সিলেট এবং বরিশাল বিভাগের একাধিক নেতা। এর বাইরে দল থেকে বহিষ্কৃত দুজন ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পর্যায়ের এক প্রভাবশালী নেতাও রয়েছেন।
সূত্র জানায়, ওই অংশের অনেকের সঙ্গে সদ্য নিবন্ধন পাওয়া বিএনএম-এর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। বিএনএমের দায়িত্বশীল এক নেতাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে বিএনপির ক’জন নেতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তা জানাতে চাননি তিনি। তারা বিএনএম-এর ব্যানারে নির্বাচন করতে চাইলে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান ওই দায়িত্বশীল নেতা।

এদিকে, প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দল ‘তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারেও নির্বাচনে যেতে পারেন বিএনপির কেউ কেউ। ইতোমধ্যে বিএনপির সাবেক দুই নেতা তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে খবর বেরিয়েছে। তারা হলেন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

এ খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আসার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তৈমূর আলম খন্দকার ও শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপির সদস্য নন। তারা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তারা আরেকটা দল করতেই পারেন। বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। এই দলে এমন খড়কুটো অনেক এসেছে আবার চলে গেছে। এতে বিএনপির কিছু যায়-আসে না।

বিএনএম-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলের মুখপাত্র ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন খোলা কাজগকে বলেন, আমাদের সঙ্গে বিএনপি ৫-৭ জন নেতার যোগাযোগ হয়েছে। শুধুই যে বিএনপি নেতাদের যোগাযোগ হয়েছে এমনটা নয়, আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের দল থেকে নির্বাচন করতে চান। দলীয় মনোনয়ন না পেলে বিএনএম থেকেই নির্বাচন করবেন। তারা যদি দুর্নীতিমুক্ত হন, সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হন তাহলে আমাদের দলের ব্যানারে নির্বাচন করতে আপত্তি নেই। জাতীয়তাবাদী আর্দশের সঙ্গে মিল হলে জোট গঠন হতে পারে বলেও জানান সারোয়ার হোসেন।

সরকারের ছকে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য বিএনপির একটি অংশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু খোলা কাগজকে বলেন, বিএনপিতে থাকলেই গুরুত্ব বহন করে। যে মুহূর্তে বিএনপি থেকে বের হয়ে যাবেন তখন তাদের আর গুরুত্ব থাকবে না। বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবেন তারা। অতীতেও সেরকম হয়েছে।

তিনি বলেন, সব সময় একই প্রক্রিয়া কাজ করে না। ২০১৪ সালে বিনাভোটে, ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছে আওয়ামী লীগ। এবার নতুন প্রক্রিয়ায় ভোট করতে চাইবে। কিন্তু সরকারের সব খেলা শেষ। এবার আর একতরফা ভোট করতে পারবে না।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যদি বিএনপির কেউ নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে আপনাদের ভূমিকা কি হবে? এমন প্রসঙ্গে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সে ধরনের কোনো খবর আমি এখন পর্যন্ত শুনিনি। ষড়যন্ত্র সব সময় ব্যর্থ হয়। স্বৈরাচারী সরকার এসব করে গণতন্ত্রকামী মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে রাখে। কেউ এই ফ্যাসিবাদী, অবৈধ সরকারের সাথে যাবে বলে আমার মনে হয় না।

তিনি বলেন, সবসময় ষড়যন্ত্র হয়েছে, বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করেছে, তাতে কেউ সফল হয়নি। মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সফল হয়নি, এরশাদও সফল হয়নি। শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে সফল হতে পারবেন না। যারা চোরাবালিতে পা দেবে, তারাই হারিয়ে যাবে। এ দেশের তরুণ সমাজ কখনো তা মেনে নেবে না, গণতন্ত্রকামী মানুষ কখনো মেনে নেবে না। তরুণসমাজ সব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে।

সূত্র : খোলা কাগজ

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×