মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মৎস মন্ত্রনলয়ের প্রণোদনায় ব্যাপক হরিলুট

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২, ৬:১৭ পিএম
মৎস মন্ত্রনলয়ের প্রণোদনায় ব্যাপক হরিলুট
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মৎস সেক্টরের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ঋন সহায়তায় পরিচালিত সর্ববৃহৎ প্রকল্প ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ ২০১৮ সালের জুলাই মাস হতে বাংলাদেশ সরকারের মৎস অধিদপ্তর কতৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা আগামী ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হবে। উক্ত প্রকল্পটি দেশের ৪ টি বিভাগের উপকূলীয় ১৬ টি জেলার ৭৫ টি উপজেলা এবং ৭৫০ টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ৫ বছর এই প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ১৮৬৮.৮৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিলো মৎস জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে সামুদ্রিক প্রজাতির মৎসের মজুদ নিরূপন করা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে মৎস মজুদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, মৎস সম্পদের অধিকতর কার্যকর পরিবীক্ষন, নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি (এমসিএস) পদ্ধতির বাস্তবায়ন; উপকূলীয় অঞ্চলে মৎসবাজার উন্নতকরন, বাগদা চিংড়ির উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি বৃদ্ধি করা, দরিদ্র মৎসজীবী জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকায়নে সহায়তা করা এবং ‘সামুদ্রিক মৎস সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ‘ প্রণয়ন করা।

কিন্ত ২০২০ সালে দেশব্যাপি কোভিড-১৯ সংক্রমনের ফলে অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় মৎস সেক্টরও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশব্যাপী পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও চলাচলে বিধিনিষেধাজ্ঞার ফলে মৎসচাষে ব্যবহৃত পোনা, মৎসখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও মৎস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়। বাজারজাতকৃত মৎসের দাম কমে যাওয়ায় মৎস সেক্টর তথা মৎস সেক্টরের সাথে জড়িত সকল চাষি, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জনগণ অার্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এরই প্রেক্ষিতে সরকারের অন্যান্য সেক্টরের ন্যায় মৎস অধিদপ্তরও ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস সেক্টরের জন্য ১০০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৎস অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা যায়, উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ টি উপজেলা থেকে কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত মৎস খাতের ৭৮ হাজার ৭৪ জনকে ৭ টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন হারে ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই না করে খুব তাড়াহুড়ো করেই এই প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। উপরোক্ত প্রণোদনার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। জানা গেছে যে, প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই সুফলভোগীদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং উক্ত তালিকা প্রণয়নে অনেকাংশেই মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ স্বজনপ্রীতি এবং অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেছেন। অনেক মৎসচাষী জানিয়েছেন, মৎস অধিদপ্তর কতৃক প্রদানকৃত প্রণোদনার অার্থিক সহায়তা গ্রহনের জন্য প্রনোদনা পাওয়ার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উৎকোচ প্রদান করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেটার পরিমান ছিলো প্রণোদনায় গৃহীত টাকার অর্ধেক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, মৎস অধিদপ্তরের প্রণোদনার তালিকা প্রণয়নে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলো না। তবে উক্ত প্রণোদনার তালিকা প্রণয়ন ও দুর্নীতির বিষয়ে তারা মাঠ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তার নাম বলতে রাজি হননি। তারা বলেছেন ভালোভাবে তদন্ত করলেই নাম জানাটা কষ্টকর কোন বিষয় নয়। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও জোর দাবী তোলেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা মেরিন ফিসারিজ অফিসারদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, প্রণোদনার সময়ে তারা এখানে যোগদান করেননি। তবে উক্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত অফিসাররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো দুর্নীতির অাভাস দেন। তারা জানান, এই প্রকল্পের চুক্তিভিত্তিক প্রায় ২০০ মেরিন ফিশারিজ অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বানিজ্য হয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে মৎস অধিদপ্তরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, প্রণোদনার নগদ সহায়তা এবং মাঠ পর্যায়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সকল কিছু তদানীন্তন প্রকল্প পরিচালকের সার্বিক সহায়তা ও নির্দেশনায় হয়েছে। তাই, তাদের এ বিষয়ে কোন কিছুই বলার সুযোগ নেই। এরকম পরিস্থিতিতে মৎস অধিদপ্তর ও মৎস মন্ত্রনালয়ের অধীনে ‘ সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ এর উল্লেখিত দুর্নীতিগুলো তদন্ত কমিটি গঠন করে ভালোভাবে তদন্ত করা হলে আরো বড় ধরনের দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। খুব শিগগির এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×