মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

লাঙ্গলকোট পৌরসভায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ : পৌরবাসীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মোঃ জামাল উদ্দিন স্বপন : প্রকাশিত: রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১:৩০ পিএম
লাঙ্গলকোট পৌরসভায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ : পৌরবাসীর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

লাঙ্গলকোট পৌরসভায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পৌরবাসী সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোতে নিয়োগে অনিয়ম, সোলার লাইট প্রকল্পে দুর্নীতি, যাত্রী ছাউনির কক্ষ ভাড়া, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং অপব্যবহার ও আত্মসাৎ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিয়োগে অনিয়ম : পৌরসভায় বিভিন্ন পদে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইশরাত জাহান নামে একজনকে পাম্প চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও পৌরসভায় এখনো পাম্পই বসানো হয়নি। তাকে বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে। সোহেল রানা নামে একজনকে বিদ্যুৎ হেলপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও সে বিদ্যুতের কিছুই জানে না। রহিমা নামে একজনকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি মেয়র আবদুল মালেকের দুর সম্পর্কের আত্মীয়। এছাড়া, মেয়রের ভাগিনা নিজাম উদ্দিন কালুকে টিকাদানকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউছুফ নবী নামে একজনকে জীপ চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অথচ পৌরসভায় কোন জীপ নেই এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। তাকে বসিয়ে-বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে।
সোলার লাইট প্রকল্পে দুর্নীতি : নিম্নমানের সোলার লাইট উচ্চমূল্যে ক্রয় দেখানো হয়েছে এবং অনেক স্থানে সোলার লাইট বসানো হয়নি। প্রতিটি সোলার লাইটের দাম ৩০ হাজার টাকা হলেও টেন্ডারে দেখানো হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬ মাসের মধ্যে অধিকাংশ সোলার লাইট নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় সোলার লাইটের খাম্বা পর্যন্ত নেই। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে সোলার লাইটের জন্য বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও সোলার লাইট না বসিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হরিপুর পশ্চিমপাড়া কাজী রিয়াজদের মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে সোলার লাইটের বেইস ঢালাই দেওয়া হলেও গত তিন বছরেও সোলার লাইট বসানো হয়নি।
যাত্রী ছাউনির কক্ষ ভাড়া : যাত্রী ছাউনির একটি কক্ষ ২০১১ সাল থেকে তরুণলীগ সভাপতি এয়াছিন ব্যবহার করে আসছেন। জানা যায়, এয়াছিনের শ্বশুর যাত্রী ছাউনির কক্ষটি ব্যবহার করছেন। যাত্রী ছাউনির কক্ষটি পৌরমেয়র আবদুল মালেককে ৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়ে ৩ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। তবে, এই ভাড়ার টাকা পৌরসভার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি।
উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি : আর সি সি সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্ট, গার্ডওয়ালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ করা হয়েছে এবং মেয়রের আত্মীয়দের মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ঢালাইয়ের কাজ পৌরমেয়র আব্দুল মালেকের ছেলে করেছেন এবং বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করেছেন। হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের শহীদ মিনারের কাজটিও তার ছেলেকে দিয়ে করানো হয়েছে।
অপব্যবহার ও আত্মসাৎ : বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এবং পৌরসভার ইজারার টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন সংলগ্ন হরিপুর উত্তরপাড়া রেললাইন গেট থেকে বাজার রেললাইন গেট পর্যন্ত আর সি সি ঢালাই কাজ এখানে না করে উপজেলা পরিষদের ভিতরে করা হয়েছে। পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছাদেক হোসেন কাজটি করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় মোশারফ হোসেনসহ এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে আবার টাকা আসলে পরে করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
পৌরবাসী সাবেক মেয়র আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং পৌরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে না।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×