লালমাইয়ে গাছ কেটে উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস
Oplus_131072
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা থেকে হাজতখোলা বাজার সড়কে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরুর আগেই বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই রাস্তার পাশের ২৩টি গাছ কেটে ফেলেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংসের এমন ঘটনা শুধু অবৈধই নয়, ভয়াবহ উদ্বেগজনক।
প্রায় ৬.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ১০ ফুট থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করার জন্য ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পায়। তবে চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরুর নির্ধারিত তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হলেও তার আগেই গাছ কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটের সময় গাছগুলো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল, তাই অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে ফেলা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এভাবে গাছ কাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং আইন লঙ্ঘনের শামিল।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, বিষয়টি জানার পরপরই বন বিভাগকে কাটা গাছ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের কোনো অনুমতি ছিল না। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দিয়ে গাছ কর্তন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালমাই বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর ইসলাম হিরন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাটা গাছ জব্দ করে কুমিল্লা বিভাগীয় বন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকার আমলে এই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক প্রকল্পের কাজ ছিল।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে পরিবেশ ধ্বংস মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।




















