মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সুস্থতা ও প্রবাস জীবন নিয়ে চিন্তিত ৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ চৌদ্দগ্রামের আজাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
সুস্থতা ও প্রবাস জীবন নিয়ে চিন্তিত ৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ চৌদ্দগ্রামের আজাদ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে থানা পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা মধ্যমপাড়ার মৃত আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে প্রবাসী মো: আজাদ হোসেন। গুলিটি তার পিঠে লেগে বাম বুকের উপরের অংশের হাড় ভেঙ্গে ও মাংশ ছিড়ে বেরিয়ে যায়। এতে তার বাম হাতটি একেবারেই ঝুলে পড়ে এবং রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকে থানা চত্ত¡রে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মুমূর্ষু জামশেদুর রহমান জুয়েল এর সাথে তাকেও একই অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চোখের সামনে জামশেদুর রহমান জুয়েল ইন্তেকাল করলে আহত আজাদ হোসেন ও তার আত্মীয় স্বজনরাও হতাশ হয়ে পড়েন। কায়োমনো বাক্যে স্বজনরা মহান রবের নিকট আজাদ হোসেনের প্রাণ রক্ষার আকুতি জানান। আজাদ হোসেনও শাহাদাতের মৃত্যুর প্রস্তুতি স্বরূপ কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকাবস্থায় কালেমা সহ দোয়া-দরুদ পড়তে শুরু করেন। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ও ডাক্তারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে দীর্ঘসময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। উপস্থিত স্বজনরা মহান রবের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সমস্বরে বলে উঠেন আলহামদুলিল্লাহ্। ছয়দিন পর হাসপাতালের বেড ছেড়ে বাসায় ফিরেন আজাদ হোসেন। ঔষধ সেবন সহ যথাযথ চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরও ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষতে পচনের চিন্তা গেড়ে বসে সকলের মনে। এরপর আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পান ক্ষতস্থানের ভেতরে ব্যান্ডেজ কাপড় (গজ) রেখেই সে স্থানে সেলাই করা হয়েছিলো। এটি নিতান্তই চিকিৎসা ভুল নাকি পরিস্থিতির বাস্তবতা সেটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্সুস্থতা ও প্রবাস জীবন নিয়ে চিন্তিত ৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ চৌদ্দগ্রামের আজাদ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে থানা পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা মধ্যমপাড়ার মৃত আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে প্রবাসী মো: আজাদ হোসেন। গুলিটি তার পিঠে লেগে বাম বুকের উপরের অংশের হাড় ভেঙ্গে ও মাংশ ছিড়ে বেরিয়ে যায়। এতে তার বাম হাতটি একেবারেই ঝুলে পড়ে এবং রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকে থানা চত্ত¡রে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মুমূর্ষু জামশেদুর রহমান জুয়েল এর সাথে তাকেও একই অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চোখের সামনে জামশেদুর রহমান জুয়েল ইন্তেকাল করলে আহত আজাদ হোসেন ও তার আত্মীয় স্বজনরাও হতাশ হয়ে পড়েন। কায়োমনো বাক্যে স্বজনরা মহান রবের নিকট আজাদ হোসেনের প্রাণ রক্ষার আকুতি জানান। আজাদ হোসেনও শাহাদাতের মৃত্যুর প্রস্তুতি স্বরূপ কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকাবস্থায় কালেমা সহ দোয়া-দরুদ পড়তে শুরু করেন। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ও ডাক্তারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে দীর্ঘসময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। উপস্থিত স্বজনরা মহান রবের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সমস্বরে বলে উঠেন আলহামদুলিল্লাহ্। ছয়দিন পর হাসপাতালের বেড ছেড়ে বাসায় ফিরেন আজাদ হোসেন। ঔষধ সেবন সহ যথাযথ চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরও ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষতে পচনের চিন্তা গেড়ে বসে সকলের মনে। এরপর আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পান ক্ষতস্থানের ভেতরে ব্যান্ডেজ কাপড় (গজ) রেখেই সে স্থানে সেলাই করা হয়েছিলো। এটি নিতান্তই চিকিৎসা ভুল নাকি পরিস্থিতির বাস্তবতা সেটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। পরে আজাদ হোসেনকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি আবার বসতে হয় অপারেশন টেবিলে। কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরেকটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে গজ কাপড় বের করে পুনরায় ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়। ৫ দিন পর রিলিজ হয়ে বাড়ী ফিরেন আজাদ হোসেন। এরপর থেকে অদ্যবদি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ঠিক ভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এখনো। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে কমপক্ষে আরো ছয় মাসের অধিক সময় লাগবে। গুলির আঘাতে ভাঙ্গা হাড়ের চিকিৎসায় লাগতে পারে আরো একটি জটিল অপারেশন। এরমধ্যে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখার পাশাপাশি ভারি কাজ এড়িয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে।

হৃদয়বিদারক এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আজাদ হোসেন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা কর্তৃক চৌদ্দগ্রাম থানায় হামলার ঘটনা রুখতে উপজেলার বিভিন্ন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে থানা ভবনের ভেতরে গিয়েছিলাম। ঘটনা কিছুটা সামাল দিয়ে থানা গেইট থেকে বের হতে গিয়ে হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি গুলি লাগে পিঠের বাম পাশে। যা বুক বেঁদ করে হাড়-মাংশ নিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর গুলিবিদ্ধ হাতটি একেবারে ঝুলে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। দীর্ঘক্ষণ পরে হাসপাতালের বেডে নিজেকে খুঁজে পাই। এদিন মৃত্যু যন্ত্রণাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাঁচার শেষ ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করা ছাড়া আর কোনো প্রত্যাশা ছিলোনা তখন। আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ রহমতে সকলের দোয়ার বরকতে বেঁচে ফিরেছি। এখন সুস্থতার জন্য সংগ্রাম করছি। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়করা অন্যদের মতো আমারও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনদের পড়তে হয়েছে নানান ভোগান্তিতে। প্রিয়তমা স্ত্রী, ভাই-বোন সহ পরিবারের সকলেই আন্তরিকভাবে আমার সেবা করেছেন। এখনো যাহা চলমান। বাড়িতে আসার পর স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ আত্মীয়-স্বজনরা সবসময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। এদিকে গত ১৪ আগস্ট-ই প্রবাস গমনের রিটার্ন টিকেট থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। পরে মেডিকেল সনদ দেখিয়ে ছুটি বাড়িয়ে নিতে পেরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে বহু সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বিদেশের আইনী জটিলতা থাকায় এবং জীবিকার তাগিদে আগামী এক মাসের মধ্যেই হয়তো পাড়ি দিতে হবে নিজ কর্মস্থলে। এ সময় তিনি পরিবার সহ সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে দ্রুত আরোগ্য লাভ ও সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আজাদ হোসেন এর ছোট বোন রহিমা আক্তার রুমা বলেন, ঐদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেওয়া এখন স্বাভাবিক মনে হলেও তখনকার পরিস্থিতি ছিলো ভিষণ কষ্টের ও বেদনাদায়ক। তারপরও ঐদিন আহত ভাইয়ার যন্ত্রণাগুলো কাছ থেকে দেখতে হয়েছে আমাকে। যা মুখে বলার মত ভাষা আমার নেই। আমি দোয়া করি, এমন পরিস্থিতি যেন কারো জীবনে কখনো না আসে। ঐদিন পুলিশি ঝামেলা থাকায় প্রথমে যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পেরে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। মহাসড়ক-হাসপাতাল সহ প্রতিটি স্থানেই নানান বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে আল্লাহর অশেষ রহমতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ঘটনার দিন রাত অনুমান তিনটায় সফল অপারেশন করার পর ভাইয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসা শেষে ভাইয়া এখন বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, আমার প্রিয় ভাইটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।ক রয়েছে। পরে আজাদ হোসেনকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি আবার বসতে হয় অপারেশন টেবিলে। কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরেকটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে গজ কাপড় বের করে পুনরায় ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়। ৫ দিন পর রিলিজ হয়ে বাড়ী ফিরেন আজাদ হোসেন। এরপর থেকে অদ্যবদি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ঠিক ভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এখনো। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে কমপক্ষে আরো ছয় মাসের অধিক সময় লাগবে। গুলির আঘাতে ভাঙ্গা হাড়ের চিকিৎসায় লাগতে পারে আরো একটি জটিল অপারেশন। এরমধ্যে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখার পাশাপাশি ভারি কাজ এড়িয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে।

হৃদয়বিদারক এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আজাদ হোসেন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা কর্তৃক চৌদ্দগ্রাম থানায় হামলার ঘটনা রুখতে উপজেলার বিভিন্ন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে থানা ভবনের ভেতরে গিয়েছিলাম। ঘটনা কিছুটা সামাল দিয়ে থানা গেইট থেকে বের হতে গিয়ে হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি গুলি লাগে পিঠের বাম পাশে। যা বুক বেঁদ করে হাড়-মাংশ নিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর গুলিবিদ্ধ হাতটি একেবারে ঝুলে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। দীর্ঘক্ষণ পরে হাসপাতালের বেডে নিজেকে খুঁজে পাই। এদিন মৃত্যু যন্ত্রণাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাঁচার শেষ ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করা ছাড়া আর কোনো প্রত্যাশা ছিলোনা তখন। আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ রহমতে সকলের দোয়ার বরকতে বেঁচে ফিরেছি। এখন সুস্থতার জন্য সংগ্রাম করছি। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়করা অন্যদের মতো আমারও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনদের পড়তে হয়েছে নানান ভোগান্তিতে। প্রিয়তমা স্ত্রী, ভাই-বোন সহ পরিবারের সকলেই আন্তরিকভাবে আমার সেবা করেছেন। এখনো যাহা চলমান। বাড়িতে আসার পর স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ আত্মীয়-স্বজনরা সবসময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। এদিকে গত ১৪ আগস্ট-ই প্রবাস গমনের রিটার্ন টিকেট থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। পরে মেডিকেল সনদ দেখিয়ে ছুটি বাড়িয়ে নিতে পেরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে বহু সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বিদেশের আইনী জটিলতা থাকায় এবং জীবিকার তাগিদে আগামী এক মাসের মধ্যেই হয়তো পাড়ি দিতে হবে নিজ কর্মস্থলে। এ সময় তিনি পরিবার সহ সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে দ্রুত আরোগ্য লাভ ও সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আজাদ হোসেন এর ছোট বোন রহিমা আক্তার রুমা বলেন, ঐদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেওয়া এখন স্বাভাবিক মনে হলেও তখনকার পরিস্থিতি ছিলো ভিষণ কষ্টের ও বেদনাদায়ক। তারপরও ঐদিন আহত ভাইয়ার যন্ত্রণাগুলো কাছ থেকে দেখতে হয়েছে আমাকে। যা মুখে বলার মত ভাষা আমার নেই। আমি দোয়া করি, এমন পরিস্থিতি যেন কারো জীবনে কখনো না আসে। ঐদিন পুলিশি ঝামেলা থাকায় প্রথমে যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পেরে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। মহাসড়ক-হাসপাতাল সহ প্রতিটি স্থানেই নানান বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে আল্লাহর অশেষ রহমতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ঘটনার দিন রাত অনুমান তিনটায় সফল অপারেশন করার পর ভাইয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসা শেষে ভাইয়া এখন বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, আমার প্রিয় ভাইটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×