শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সুস্থতা ও প্রবাস জীবন নিয়ে চিন্তিত ৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ চৌদ্দগ্রামের আজাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
সুস্থতা ও প্রবাস জীবন নিয়ে চিন্তিত ৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ চৌদ্দগ্রামের আজাদ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে থানা পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা মধ্যমপাড়ার মৃত আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে প্রবাসী মো: আজাদ হোসেন। গুলিটি তার পিঠে লেগে বাম বুকের উপরের অংশের হাড় ভেঙ্গে ও মাংশ ছিড়ে বেরিয়ে যায়। এতে তার বাম হাতটি একেবারেই ঝুলে পড়ে এবং রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকে থানা চত্ত¡রে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মুমূর্ষু জামশেদুর রহমান জুয়েল এর সাথে তাকেও একই অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চোখের সামনে জামশেদুর রহমান জুয়েল ইন্তেকাল করলে আহত আজাদ হোসেন ও তার আত্মীয় স্বজনরাও হতাশ হয়ে পড়েন। কায়োমনো বাক্যে স্বজনরা মহান রবের নিকট আজাদ হোসেনের প্রাণ রক্ষার আকুতি জানান। আজাদ হোসেনও শাহাদাতের মৃত্যুর প্রস্তুতি স্বরূপ কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকাবস্থায় কালেমা সহ দোয়া-দরুদ পড়তে শুরু করেন। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ও ডাক্তারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে দীর্ঘসময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। উপস্থিত স্বজনরা মহান রবের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সমস্বরে বলে উঠেন আলহামদুলিল্লাহ্। ছয়দিন পর হাসপাতালের বেড ছেড়ে বাসায় ফিরেন আজাদ হোসেন। ঔষধ সেবন সহ যথাযথ চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরও ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষতে পচনের চিন্তা গেড়ে বসে সকলের মনে। এরপর আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পান ক্ষতস্থানের ভেতরে ব্যান্ডেজ কাপড় (গজ) রেখেই সে স্থানে সেলাই করা হয়েছিলো। এটি নিতান্তই চিকিৎসা ভুল নাকি পরিস্থিতির বাস্তবতা সেটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্সুস্থতা ও প্রবাস জীবন নিয়ে চিন্তিত ৫ আগস্টে গুলিবিদ্ধ চৌদ্দগ্রামের আজাদ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে থানা পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা মধ্যমপাড়ার মৃত আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে প্রবাসী মো: আজাদ হোসেন। গুলিটি তার পিঠে লেগে বাম বুকের উপরের অংশের হাড় ভেঙ্গে ও মাংশ ছিড়ে বেরিয়ে যায়। এতে তার বাম হাতটি একেবারেই ঝুলে পড়ে এবং রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকে থানা চত্ত¡রে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মুমূর্ষু জামশেদুর রহমান জুয়েল এর সাথে তাকেও একই অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চোখের সামনে জামশেদুর রহমান জুয়েল ইন্তেকাল করলে আহত আজাদ হোসেন ও তার আত্মীয় স্বজনরাও হতাশ হয়ে পড়েন। কায়োমনো বাক্যে স্বজনরা মহান রবের নিকট আজাদ হোসেনের প্রাণ রক্ষার আকুতি জানান। আজাদ হোসেনও শাহাদাতের মৃত্যুর প্রস্তুতি স্বরূপ কিঞ্চিৎ জ্ঞান থাকাবস্থায় কালেমা সহ দোয়া-দরুদ পড়তে শুরু করেন। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় ও ডাক্তারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে দীর্ঘসময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। উপস্থিত স্বজনরা মহান রবের শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সমস্বরে বলে উঠেন আলহামদুলিল্লাহ্। ছয়দিন পর হাসপাতালের বেড ছেড়ে বাসায় ফিরেন আজাদ হোসেন। ঔষধ সেবন সহ যথাযথ চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পরও ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষতে পচনের চিন্তা গেড়ে বসে সকলের মনে। এরপর আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পান ক্ষতস্থানের ভেতরে ব্যান্ডেজ কাপড় (গজ) রেখেই সে স্থানে সেলাই করা হয়েছিলো। এটি নিতান্তই চিকিৎসা ভুল নাকি পরিস্থিতির বাস্তবতা সেটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। পরে আজাদ হোসেনকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি আবার বসতে হয় অপারেশন টেবিলে। কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরেকটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে গজ কাপড় বের করে পুনরায় ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়। ৫ দিন পর রিলিজ হয়ে বাড়ী ফিরেন আজাদ হোসেন। এরপর থেকে অদ্যবদি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ঠিক ভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এখনো। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে কমপক্ষে আরো ছয় মাসের অধিক সময় লাগবে। গুলির আঘাতে ভাঙ্গা হাড়ের চিকিৎসায় লাগতে পারে আরো একটি জটিল অপারেশন। এরমধ্যে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখার পাশাপাশি ভারি কাজ এড়িয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে।

হৃদয়বিদারক এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আজাদ হোসেন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা কর্তৃক চৌদ্দগ্রাম থানায় হামলার ঘটনা রুখতে উপজেলার বিভিন্ন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে থানা ভবনের ভেতরে গিয়েছিলাম। ঘটনা কিছুটা সামাল দিয়ে থানা গেইট থেকে বের হতে গিয়ে হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি গুলি লাগে পিঠের বাম পাশে। যা বুক বেঁদ করে হাড়-মাংশ নিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর গুলিবিদ্ধ হাতটি একেবারে ঝুলে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। দীর্ঘক্ষণ পরে হাসপাতালের বেডে নিজেকে খুঁজে পাই। এদিন মৃত্যু যন্ত্রণাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাঁচার শেষ ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করা ছাড়া আর কোনো প্রত্যাশা ছিলোনা তখন। আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ রহমতে সকলের দোয়ার বরকতে বেঁচে ফিরেছি। এখন সুস্থতার জন্য সংগ্রাম করছি। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়করা অন্যদের মতো আমারও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনদের পড়তে হয়েছে নানান ভোগান্তিতে। প্রিয়তমা স্ত্রী, ভাই-বোন সহ পরিবারের সকলেই আন্তরিকভাবে আমার সেবা করেছেন। এখনো যাহা চলমান। বাড়িতে আসার পর স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ আত্মীয়-স্বজনরা সবসময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। এদিকে গত ১৪ আগস্ট-ই প্রবাস গমনের রিটার্ন টিকেট থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। পরে মেডিকেল সনদ দেখিয়ে ছুটি বাড়িয়ে নিতে পেরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে বহু সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বিদেশের আইনী জটিলতা থাকায় এবং জীবিকার তাগিদে আগামী এক মাসের মধ্যেই হয়তো পাড়ি দিতে হবে নিজ কর্মস্থলে। এ সময় তিনি পরিবার সহ সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে দ্রুত আরোগ্য লাভ ও সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আজাদ হোসেন এর ছোট বোন রহিমা আক্তার রুমা বলেন, ঐদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেওয়া এখন স্বাভাবিক মনে হলেও তখনকার পরিস্থিতি ছিলো ভিষণ কষ্টের ও বেদনাদায়ক। তারপরও ঐদিন আহত ভাইয়ার যন্ত্রণাগুলো কাছ থেকে দেখতে হয়েছে আমাকে। যা মুখে বলার মত ভাষা আমার নেই। আমি দোয়া করি, এমন পরিস্থিতি যেন কারো জীবনে কখনো না আসে। ঐদিন পুলিশি ঝামেলা থাকায় প্রথমে যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পেরে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। মহাসড়ক-হাসপাতাল সহ প্রতিটি স্থানেই নানান বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে আল্লাহর অশেষ রহমতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ঘটনার দিন রাত অনুমান তিনটায় সফল অপারেশন করার পর ভাইয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসা শেষে ভাইয়া এখন বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, আমার প্রিয় ভাইটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।ক রয়েছে। পরে আজাদ হোসেনকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি আবার বসতে হয় অপারেশন টেবিলে। কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরেকটি সফল অপারেশনের মাধ্যমে গজ কাপড় বের করে পুনরায় ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়। ৫ দিন পর রিলিজ হয়ে বাড়ী ফিরেন আজাদ হোসেন। এরপর থেকে অদ্যবদি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ঠিক ভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এখনো। চিকিৎসক জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে কমপক্ষে আরো ছয় মাসের অধিক সময় লাগবে। গুলির আঘাতে ভাঙ্গা হাড়ের চিকিৎসায় লাগতে পারে আরো একটি জটিল অপারেশন। এরমধ্যে চিকিৎসা সেবা চলমান রাখার পাশাপাশি ভারি কাজ এড়িয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে।

হৃদয়বিদারক এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ আজাদ হোসেন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা কর্তৃক চৌদ্দগ্রাম থানায় হামলার ঘটনা রুখতে উপজেলার বিভিন্ন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে থানা ভবনের ভেতরে গিয়েছিলাম। ঘটনা কিছুটা সামাল দিয়ে থানা গেইট থেকে বের হতে গিয়ে হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি গুলি লাগে পিঠের বাম পাশে। যা বুক বেঁদ করে হাড়-মাংশ নিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর গুলিবিদ্ধ হাতটি একেবারে ঝুলে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। দীর্ঘক্ষণ পরে হাসপাতালের বেডে নিজেকে খুঁজে পাই। এদিন মৃত্যু যন্ত্রণাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাঁচার শেষ ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করা ছাড়া আর কোনো প্রত্যাশা ছিলোনা তখন। আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ রহমতে সকলের দোয়ার বরকতে বেঁচে ফিরেছি। এখন সুস্থতার জন্য সংগ্রাম করছি। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধিন অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়করা অন্যদের মতো আমারও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনদের পড়তে হয়েছে নানান ভোগান্তিতে। প্রিয়তমা স্ত্রী, ভাই-বোন সহ পরিবারের সকলেই আন্তরিকভাবে আমার সেবা করেছেন। এখনো যাহা চলমান। বাড়িতে আসার পর স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ আত্মীয়-স্বজনরা সবসময় খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। এদিকে গত ১৪ আগস্ট-ই প্রবাস গমনের রিটার্ন টিকেট থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। পরে মেডিকেল সনদ দেখিয়ে ছুটি বাড়িয়ে নিতে পেরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে বহু সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বিদেশের আইনী জটিলতা থাকায় এবং জীবিকার তাগিদে আগামী এক মাসের মধ্যেই হয়তো পাড়ি দিতে হবে নিজ কর্মস্থলে। এ সময় তিনি পরিবার সহ সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে দ্রুত আরোগ্য লাভ ও সুস্থতার জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আজাদ হোসেন এর ছোট বোন রহিমা আক্তার রুমা বলেন, ঐদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেওয়া এখন স্বাভাবিক মনে হলেও তখনকার পরিস্থিতি ছিলো ভিষণ কষ্টের ও বেদনাদায়ক। তারপরও ঐদিন আহত ভাইয়ার যন্ত্রণাগুলো কাছ থেকে দেখতে হয়েছে আমাকে। যা মুখে বলার মত ভাষা আমার নেই। আমি দোয়া করি, এমন পরিস্থিতি যেন কারো জীবনে কখনো না আসে। ঐদিন পুলিশি ঝামেলা থাকায় প্রথমে যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পেরে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। মহাসড়ক-হাসপাতাল সহ প্রতিটি স্থানেই নানান বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে আল্লাহর অশেষ রহমতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ঘটনার দিন রাত অনুমান তিনটায় সফল অপারেশন করার পর ভাইয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসা শেষে ভাইয়া এখন বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি, আমার প্রিয় ভাইটি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×