সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে বাধা, আটক ২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩, ৬:০৪ পিএম
তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে বাধা, আটক ২২
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার হচ্ছিল কুমিল্লায় যুবদলের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায়

 

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার হচ্ছিল কুমিল্লায় যুবদলের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা ও ইফতার মাহফিলে। এতে বাধা দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এরই মধ্যে দুইতিন মিনিটে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখে ভিডিও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ২২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান।

জানা গেছে, যুবদলের কুমিল্লা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি বরকত উল্লা বুলু। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। প্রতিনিধি সভা চলাকালে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে লন্ডন থেকে স্কাইপে সংযুক্ত হয়ে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনতে শুরু করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। এরপর ঘোষণা করা হয় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। ঘোষণার সাথে সাথেই টাউন হলে সঙ্গীয় ফোর্সসহ প্রবেশ করেন কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন বাগচি। এসময় তিনি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে স্কাইপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলেন। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা হুলস্থল শুরু করেন। প্রায় ৫ মিনিট বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির পর পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে গেলে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরান হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করেন। ফের শুরু হয় হুলস্থুল। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করে স্কাইপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর সেখান থেকে চলে আসেন পুলিশ কর্মকর্তাগণ।

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, পুলিশ দিয়ে বাধা দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে রাখা যাবে না। আমরা এখানে ছোট্ট পরিশরে ইফতার আয়োজন করেছি, এতেও বাধা দিচ্ছেন। আগামী রমজানে তারেক রহমান দেশবাসীকে সাথে নিয়ে ইফতার করবেন বলেও জানান তিনি।

রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান বলেন, তারা (টাউন হলে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা) পুলিশকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছে। পরে সেখান থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে প্রতিনিধি সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহবায়ক উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী জসিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শেষ হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তখন পুলিশ সভাস্থলে ঢুকে এলইডি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়। পুলিশ ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এরই মধ্যে তারেক রহমান পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তাঁর বক্তব্য সম্পন্ন করেন। পরে আমাদের ২২ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আলম, লালমাই উপজেলা যুবদল নেতা কবির হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরীফ সওদাগর, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল নেতা অনি,কাফি,অর্ণব, শরিফ, রবি, প্রীতম, মেহেদী, নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক ওমর ফারুক সবুজসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ জন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×