কুবিতে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগে আইন ভঙ্গের অভিযোগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬ অনুযায়ী ‘বিভাগীয় অধ্যাপকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে তিন বৎসর মেয়াদে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক বিভাগীয় প্রধান নিযুক্ত হইবেন’। আইন না মেনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে এক সহযোগী অধ্যাপককে পুণরায় বিভাগীয় প্রধান করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিভাগের এক সিনিয়র অধ্যাপক বিষয়টিকে আইনের পরিপন্থি দাবি করে বিভাগীয় পদ পেতে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন।
জানা যায়, আইন অনুযায়ী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে কোনো অধ্যাপক না থাকায় ২০২০ সালের ১৭ জুন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া পায় সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া। বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ১৫ জুন জুলহাস মিয়াকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে চিঠি দেয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহালের কথা বলা হয়।
এদিকে আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধানের পদ পেতে প্রশাসন বরাবর চিঠি দিয়েছে বিভাগটির অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। চিঠিতে তিনি বলেন, বিভাগে অধ্যাপক কর্মরত থাকা অবস্থায় সহযোগী অধ্যাপককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করা সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন। ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া গত ১৬ জুন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তাঁর মেয়াদপূর্ণ করেছেন এবং বর্তমানে বিভাগে দুইজন অধ্যাপক কর্মরত আছেন।
এবিষয়ে ড. আবু তাহের বলেন, ‘বিভাগের জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী আমি ১৭ জুন থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রাপ্য হই। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ড. জুলহাস মিয়াকে বিভাগীয় প্রধানের পুনঃদায়িত্ব প্রদান করায় সুস্পষ্টভাবেই আইনের ব্যত্যয় হয়েছে এবং আমার ওপরও অবিচার করা হয়েছে।
এ নিয়োগে অধ্যাপক তাহেরের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্নের শিকার হয়েছেন দাবি করে তাঁকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে সমুন্নত রাখার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ড. জুলহাস মিয়া বলেন, প্রশাসন আমাকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলেছে। আইনের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, ওনাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছিনা। চিঠিটি যদি আমার কাছে আসে; আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী পরামর্শ দিবো।















