সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সংরাইশের সেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আল-আমীন বিএনপি পন্থী সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায়!

মোঃ বিল্লাল হোসেন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:০০ পিএম
সংরাইশের সেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আল-আমীন বিএনপি পন্থী সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায়!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা শহরে আল-আমিন বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই তাকে ‘ভয়ংকর কিলার’ হিসেবে চেনে।
স্থানীয় সূত্র জানান, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শহিদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও দিন-দুপুরে চাঁদা চেয়ে চিরকুট পাঠাত তার বাহিনী, সঙ্গে পাঠাতো কাফনের কাপড়। অনেকেই নীরবে দাবিকৃত সেই চাঁদা দিয়ে দিত। না দিলে জীবন দিতে হতো। দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী সরকারের নেতাদের আশ্রয়ে, ছিনতাই, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, ব্যাংক লুট ও ডাকাতি, দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষ আল-আমীন বাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। স্বৈরশাসকের বিদায়ের পর সাধারণ মানুষ স্বস্তির আশা করলে-ও তা ভেস্তে যায় কারণ আল-আমীন অবৈধ টাকার প্রভাবে বিএনপি পন্থী সন্ত্রাসীদের সাথে আঁতাত করে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
সূত্র জানান, সর্বশেষ ৩ আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে কুমিল্লায় পিস্তল দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলেও এখনো প্রকাশ্যে চলছে কুমিল্লা নগরীতে আল-আমিন বাহিনীর সন্ত্রাসীর রাজত্ব। গুঞ্জন ছিলো মহানগর যুবলীগের ভালো পদের আশায় পিস্তল দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে আল-আমিন।
জেলা পুলিশের হিসাবে ২০ মামলার চিহ্নিত এই আসামির পুরো নাম আল-আমিন (২৭)। কুমিল্লার নগরীর সংরাইশ এলাকার মো. ইদু মিয়ার ছেলে তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকা ও কিলার হওয়ায় পুলিশের বিশেষ শাখার তালিকায় তাকে ‘কিলার আল-আমিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভয়ংকর এই খুনির নামে পুলিশের কাছে রয়েছে চারটি হত্যা মামলার নথি। এ ছাড়াও চাঁদাবাজি, অপহরণ, বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবহার, হত্যাচেষ্টা, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের উপর গুলিসহ ১২টি মামলা হয়েছে। গত ৫ই আগস্টের পর নগরীর সংরাইশ এলাকা থেকে এক তরুণীকে বাসা থেকে নিয়ে চারদিন অপহরণ করে ধর্ষণের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এ নিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
এছাড়া অর্ধশতাধিক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পড়ে আছে দেশের বিভিন্ন থানায়। সর্বশেষ ছাত্র জনতার আন্দোলনে কুমিল্লায় ৩ আগস্ট তার বাহিনী গুলি করে। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ ও কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক একাধিক মামলা করেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক সংরাইশ, শুভপুর, বজ্রপুর, সুজানগর, পাথুরিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকাতে নতুন বাড়ি করতে গেলে আল-আমিন বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না পেলে প্রকাশ্যে বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয়, প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ করে কোনো সুফল মিলে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা আছে অথচ সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে, কিভাবে সম্ভব? কুমিল্লা শহরের সব মাদক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণকারি আল-আমিন, তার হাত অনেক উপরে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে, জীবনে নেমে আসে অভিশাপ।
দ্বীন ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ছাতিপট্টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করার সুবাদে আল-আমিনের বাহিনী বাৎসরিক ১ লক্ষ চাঁদা দিতাম। গত পাঁচ আগস্টের পর টাকা দিতে আপত্তি জানালে আমাকেও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমি আমার পরিবারের পালিয়ে ঢাকা শহরে বসবাস করতেছি এখন। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
মামলার একাধিক বাদী অভিযোগ করে বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলে-ও কি কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আমরা বুঝতেছি না। শুধুমাত্র মামলার বাদী হওয়ার কারণে আমাদের জীবন এখন হুমকির মুখে পড়েছে। আল-আমিন এখন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় শুধু মহড়া দিচ্ছে।
কুমিল্লায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, আমরা ছাত্র সমন্বয়কের পক্ষে সন্ত্রাসী আল-আমিনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দিয়েছি। শিক্ষার্থীর ওপর আল-আমিনের নেতৃত্বে গুলি বর্ষণ হয়েছে। অথচ এই আল-আমিন এখন কুমিল্লা শহরে ঘুরছে, অথচ প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখছি না।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে, তার (আল-আমিন) বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার আসফিকুজ্জামান আকতার বলেন, সারা দেশের ন্যায়ে কুমিল্লাতে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। সর্বশেষ ছয় জনকেমআটককল করা হয়েছে বিভিন্ন স্থান থেকে। আল-আমিনসহ চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় পরনে কোনো কাপড় না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

 

ঝোপের নিচে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার

 

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আয়েশার পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল; কিন্তু উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। এই পার্থক্য নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

চিকিৎসক পুলিশকে জানালেও ময়নাতদন্ত হলো না কেন?

 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় তিনি বিষয়টি হোমনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

তবে এরপরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

 

এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা চিকিৎসক পুলিশকে জানানোর পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হলো না কেন?

 

আরও প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে তার পরনে পোশাক না থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়গুলো পুলিশ কীভাবে মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই লাশ দাফন করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কতটা সহজ হবে, সেটিও এখন আলোচনায়।

 

পরিবারের অভিযোগ নেই, তাই কি তদন্তের প্রয়োজন নেই?

 

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মেয়েকে ফেলে রেখেছে, তা তিনি জানেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তবে শিশুটির কাকা দাবি করেন, আয়েশাকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পরিবারের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিল কি না।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

 

আয়েশার মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×