বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : কুমিল্লা জিলা স্কুল

অ্যাডভোকেট এফ. আহমদ শান্ত : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫, ৮:২৫ এএম
গৌরবময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : কুমিল্লা জিলা স্কুল

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা জিলা স্কুল বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৮৭ বছরের সুদীর্ঘ যাত্রায় এটি শুধু জ্ঞান বিতরণই করেনি, জন্ম দিয়েছে এমন সব ব্যক্তিত্বের যারা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে রেখেছেন অবদান।

১. প্রতিষ্ঠার সূচনা ও ঐতিহাসিক পটভূমি:

প্রতিষ্ঠা: ২০ জুলাই, ১৮৩৭

প্রতিষ্ঠাতা: হেনরি জর্জ লেসিস্টার

প্রথম নাম: Comilla Government School (মাত্র ৪০ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হয়)

স্বীকৃতি: ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য: ব্রিটিশ ভারতে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

২. অবস্থান ও অবকাঠামো:

কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে ৫.৬৯ একর সুবিশাল ক্যাম্পাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়। এর সমৃদ্ধ অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করে:

একাডেমিক ভবন: ৩টি, হোস্টেল: ২টি

অন্যান্য সুবিধা: প্রশাসনিক ভবন, ৫টি সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, সুপরিসর অডিটোরিয়াম, মসজিদ, শহীদ মিনার, আবু জাহিদ মিলনায়তন, একটি বড় খেলার মাঠ এবং বাস্কেটবল কোর্ট।

৩. একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব ও সহশিক্ষা কার্যক্রম:

কুমিল্লা জিলা স্কুল শিক্ষাক্ষেত্রে বরাবরই শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

পরীক্ষার ফলাফল: কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত SSC ও JSC পরীক্ষায় একাধিকবার শীর্ষস্থান অধিকার করেছে।

সাম্প্রতিক সাফল্য: ২০১৯ সালে ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী GPA 5 পেয়ে প্রায় ৯০% সাফল্যের হার অর্জন করে।

৪. শিক্ষা কাঠামো ও হাউজ সিস্টেম:

বিদ্যালয়ে প্রভাতি ও দিবা — দুটি শিফটে প্রায় ২,০০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। ৫৩ জন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিযুক্ত আছেন। প্রতিটি শ্রেণিতে ৪ থেকে ৬টি সেকশন রয়েছে।

৫. মুক্তিযুদ্ধে গৌরবজনক ভূমিকা:

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা জিলা স্কুলের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

অংশগ্রহণ: মোট ১৩৯ জন শিক্ষার্থী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

শাহাদাতবরণ: ১০ জন Zillian দেশের জন্য শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার ও আবু জাহিদ মিলনায়তন নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদ আবু জাহিদ ছিলেন এই বিদ্যালয়েরই গর্বিত ছাত্র, যাঁর নামে মিলনায়তনটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

৬. ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন – ১৯৮৯

১৯৮৯ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে Zillians-রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ. এম. এরশাদ-এর বিমান কুমিল্লা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না দিয়ে ছাত্ররা প্রতিবাদ জানায় ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই ঘটনা গণতান্ত্রিক চেতনার ছাত্র নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

৭. বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্রবৃন্দ:

কুমিল্লা জিলা স্কুল অসংখ্য কৃতী সন্তানের জন্ম দিয়েছে, যাঁরা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন:

 চিফ জাস্টিস এবিএম খায়রুল হক

 চিফ জাস্টিস সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

বিচারপতি মামনুন রহমান

বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসান সুমন

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ – বাংলাদেশের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।

গোলাম রহমান – বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান।

কামরুল আহসান –বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব এবং বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া (সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান)

 ড. কনক কান্তি বড়ুয়া (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য)

 শচীন দেববর্মণ (কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী)

 হিমাংশু দত্ত (খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী)

শিব নারায়ণ দাশ (বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রথম ডিজাইনার)

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (সংবিধান প্রণেতা ও ভাষা আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব)

(শীঘ্রই কুমিল্লা জিলা স্কুলের ৫০ জন খ্যাতনামা ও কৃতী প্রাক্তন ছাত্রকে নিয়ে একটি পৃথক লেখা প্রকাশিত হবে।)

 

৮. প্রশাসন, আইন, সশস্ত্র বাহিনী ও কূটনীতিতে Zillians

শুধু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গই নন, কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা (Zillians) প্রশাসন, আইন, সশস্ত্র বাহিনী, কূটনীতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পেশায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।

আইন: জেলা ও দায়রা জজ, হাইকোর্টের বিচারপতি, বহু জেলা পিপি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

প্রশাসন ও কূটনীতি: সচিব, অতিরিক্ত সচিব, কূটনীতিক, রাষ্ট্রদূত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ডিআইজি, এসপি, র‍্যাব, ও BGB-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন।

সশস্ত্র বাহিনী: আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্সে কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার, মেজর জেনারেল, রিয়ার অ্যাডমিরাল, এয়ার ভাইস মার্শাল পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা ও গবেষণা: দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক।

আন্তর্জাতিক সংস্থা: WHO, UNDP, World Bank, IOM-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

✅ “Zillians are shaping the nation—in courtrooms, campuses, command centers, and cabinets.”

৯. বন্ধুদের গৌরব ও ব্যাচের কৃতিত্ব:

আমার সহপাঠীরা আজ দেশের গর্ব। তাঁদের সততা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা জাতির সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্নেল ও ব্রিগেডিয়ার।

এআইজি, এডিআইজি, এসপি এবং প্রশাসনিক পুলিশ কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত সচিব ও ক্যাডার প্রশাসক।

বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা।

❤ ব্যক্তিগত অনুভব:  আমি গর্বিত যে আমার সহপাঠীরা সততা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ব নিয়ে জাতির সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। তারা শুধু ক্লাসে আমার পাশে বসেছিল না, আজ তারা জাতির পাশে দাঁড়িয়েছে।

১০. আধুনিকীকরণ ও ভবিষ্যতের পথ

কুমিল্লা জিলা স্কুল আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে:

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: ব্রিটিশ কাউন্সিলের “Connecting Classrooms” প্রকল্পে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

ডিজিটাল রূপান্তর: প্রাক্তন ছাত্রদের সহায়তায় বিদ্যালয় ডিজিটাল রূপান্তরের পথে হাঁটছে।

শিক্ষার্থী সহায়তা: বৃত্তি প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী প্রাক্তন ছাত্রদের (Alumni) সক্রিয় অধ্যায় (Chapters) রয়েছে, যা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।

উপসংহার:

কুমিল্লা জিলা স্কুল কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি ইতিহাস, আন্দোলন, প্রজন্মের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের পথনির্দেশ। ১৮৩৭ সাল থেকে শুরু করে আজ অবধি Zillians যে গৌরবময় ধারা সৃষ্টি করেছে, তা আগামী শতাব্দীতেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

 “জ্ঞানই শক্তি”— এই মূলমন্ত্রে এগিয়ে যাক কুমিল্লা জিলা স্কুল। Once a Zillaian, always a Zillaian.

 

লেখক: অ্যাডভোকেট এফ. আহমদ শান্ত

(প্রাক্তন ছাত্র, কুমিল্লা জিলা স্কুল) 

জজ কোর্ট, কুমিল্লা 

মোবাইল : 01724813670

advocate.shanto1973@gmail.com

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×