মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোমতীর বুকে মাটি খেকোদের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২৬ পিএম
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোমতীর বুকে মাটি খেকোদের উৎসব
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

গোমতী নদীর বুক চিরে চলছে অবৈধ মাটি উত্তোলনের উৎসব। নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক নির্দেশনা, এমনকি পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও থামাতে পারছে না এই লুটপাট। কুমিল্লার গোমতী নদী ও তার চরাঞ্চল যেন পরিণত হয়েছে প্রভাবশালী মহলের দখল ও বিক্রির এক ভয়াবহ বাণিজ্যকেন্দ্রে।

 

সরকারি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে নদীর চর থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, বাঁধ দুর্বল হয় এবং নদীভাঙন তীব্রতর হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই নিষেধাজ্ঞা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

 

চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে প্রভাবশালী মহল গড়ে তুলছে অবৈধ প্লটিং প্রকল্প। হাজার হাজার একর জমি দখল করে চলছে স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রির মহোৎসব। এসব জমি বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা, ভূমি অফিসের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এই দখলদারদের করেছে আরও বেপরোয়া।

 

বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পরপরই দখলের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। যেন নতুন করে শুরু হয়েছে ‘কে কত বেশি দখল করতে পারে’ সেই প্রতিযোগিতা। নদীর বুক শুকিয়ে যাচ্ছে, চরাঞ্চলের কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তিনটি সংস্থার দায়িত্ব থাকার পরও গোমতীর বুক চিরে চলে মাটিকাটার উৎসব। প্রশ্ন উঠছে এই মাটি খেকোদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে?

 

গোমতী নদী কেবল একটি জলধারা নয়, এটি কুমিল্লার প্রাণ। তার বুকের মাটি, তার তীরের জীবন, তার প্রবাহের ভবিষ্যৎ—সবই জনগণের। যদি রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন না করে, তবে কি গোমতীর মাটি কেবল গুটিকয়েকের সম্পদ হয়ে থাকবে?

 

এই নদী কাঁদে, আর কাঁদে তার দুই তীরের মানুষ। গোমতীর কান্না থামুক। চরাঞ্চলের মানুষ বাঁচুক। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করুক এটাই আজকের দাবি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ১১ দলীয় জোটের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিশেষ দায়িত্বশীল পর্যায়ে প্রস্তুতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান এর সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের কর্ম-পরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, উপজেলা জামায়াতের কর্ম-পরিষদ সদস্য ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, মো. কামাল উদ্দিন মজুমদার প্রমুখ। এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সহ বিশেষ দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে কেন্দ্র করে আগামী শনিবার বেলা ১২ ঘটিকায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে চৌদ্দগ্রামে বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও ১১ দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বরণ করা সহ উত্থাপিত সকল গণদাবী আদায়ের লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে উক্ত পথসভায় উপস্থিত থাকার জন্য উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×