মডার্ন হাসপাতালের সামনে মৃত্যুর ফাঁদে জনপথ, ড্রাম ট্রাকের অবৈধ রাজত্ব
Oplus_131072
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন মডার্ন হাসপাতালের সামনে দিয়ে চলাচলকারী জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের দখলে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে, যা জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে ঢাকা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনিসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অথচ এই সড়ক এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুর ফাঁদে।
রোগীবাহী গাড়ির জন্য নির্ধারিত ইউটার্নটি বেআইনিভাবে ব্যবহার করে এসব ভারী যানবাহন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি কাদা-মাটি ফেলে সড়ককে পিচ্ছিল ও অনুপযোগী করে তুলছে। এতে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে জনভোগান্তি।
স্থানীয়রা জানান, “এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কিন্তু ড্রাম ট্রাকগুলো রাস্তার উপর মাটি ফেলে রাখে, ফলে পুরো রাস্তাই পিচ্ছিল হয়ে যায়। যানবাহনের গতি কমে যায়, আর যানজট লেগেই থাকে। প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে।”
সম্প্রতি এই সড়কে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নগরীর ২য় মুরাদপুর এলাকার কাজী এনামুল হক। অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সদ্য কেনা মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। মডার্ন হাসপাতালের সামনে বেআইনিভাবে ইউটার্ন নেওয়া একটি মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক তার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী জানান, হেলমেট পরিহিত থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও চিকিৎসা ও মেরামত খরচ মিলিয়ে প্রায় ৫০,০০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার প্রবাসফেরত ছোট ভাই এয়ার হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার (মোবাইল: 01316712800) কোনো সমঝোতা না করে জোরপূর্বক ৬,০০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে হাবিব ডেভেলপারের সাথে যোগাযোগ করলে (মোবাইল: 01710888670) তিনি দাবি করেন, তারা কেবল মাটি বিক্রি করেছেন, পরিবহন বা সড়ক ব্যবহারের দায় তাদের নয়। অথচ অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর মাটি ফেলে রাস্তা পিচ্ছিল করে তোলা হয়েছে, যার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহন বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খাজু মিয়া জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এই ঘটনায় প্রশাসনের নিরবতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। জননিরাপত্তা, রোগী পরিবহন ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।


















