কুমিল্লা–১০ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আলোচনার কেন্দ্রে গণঅধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট–লালমাই) আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে নির্বাচনী মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ, যা ইতোমধ্যে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা যায়, আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রে গুরুতর তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি তার হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করেননি। যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী আপিল শুনানিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। ইসি’র ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী আইন অনুসারে হলফনামায় ভুল, অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান একটি গুরুতর অপরাধ—যার ফলশ্রুতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় কুমিল্লা–১০ আসনের নির্বাচনী চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতে করে ঐতিহ্যগত ভোটের হিসাব বদলে গেছে এবং ভোটারদের সামনে নতুন বিকল্পের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ছোট ও উদীয়মান রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য মাঠ উন্মুক্ত হয়েছে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রমিজ বিন আরিফ। তিনি নিজেকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিবিরোধী ও জনস্বার্থভিত্তিক রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছেন। তার নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় রমিজ বিন আরিফের সঙ্গে তরুণ ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মনে করছেন, বিএনপির প্রার্থী না থাকায় যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে রমিজ বিন আরিফ একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।
সব মিলিয়ে, বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় কুমিল্লা–১০ আসনের নির্বাচনী লড়াই পেয়েছে নতুন মাত্রা। পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটারদের রায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন।
















