কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক পরিচয়ে রাস্তার প্রকল্প ভাগিয়ে নিল স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজের বাড়ির সামনের রাস্তা পুনর্নির্মাণের একটি প্রকল্প ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। সামান্য কাজ করে প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং পরে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ এরশাদ রানা। তিনি উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ প্রচার সম্পাদক এবং খেঁয়াইশ গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে। এছাড়া তিনি নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের প্রভাব ব্যবহার করে এরশাদ রানা নালঘর উচ্চ বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরীর চাকরি পান। একই সময়ে নিজেকে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরাঘুরি করতেন। দিনের বেশিরভাগ সময় উপজেলা পরিষদ এলাকায় কাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি।
বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও শলাপরামর্শের মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্পের কাজও ভাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অতি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসলেও আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নৈশ প্রহরীর চাকরি ও বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে এরশাদ রানা ইতোমধ্যে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও পরে আবার সাংবাদিক পরিচয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। সর্বশেষ বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল হোসেনের সময় নিজের বাড়ির সামনের রাস্তা উন্নয়নের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ নেন।
এই প্রকল্পে শ্রীপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহ আলমকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ২ লাখ টাকার মধ্যে প্রথম ধাপে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করেন এরশাদ রানা। কিন্তু প্রকল্পের কাজ মাত্র ৯ থেকে ১০ শতাংশ সম্পন্ন করে বাকি টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাজের বাস্তব চিত্র দেখে বিল দিতে অস্বীকৃতি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১১১ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক সংস্কারের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ ফুট জায়গায় আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ ট্রাক্টর মাটি ফেলা হয়েছে। এতে প্রকল্পের বড় অংশই বাস্তবায়ন হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানান।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এরশাদ রানা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় এলাকাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকল্প সভাপতি শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় এরশাদ রানা দাবি করেন, যেখানে মাটি ফেলা হয়েছে বর্ষাকালে তা টিকবে না। তাই ওই স্থানে গার্ড নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কাছে প্রকল্পের বাকি টাকা চাওয়া হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের মাত্র ১০ শতাংশ কাজ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বাকি টাকা দাবি করা হলে তা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।











