এভারগ্রীণ সাফিয়া আনোয়ার টাওয়ারে নতুন বিতর্ক : কোটি টাকার লেনদেন, মালিকানা ও খোলা চিঠি ঘিরে তোলপাড়
কুমিল্লা সদর হাসপাতাল রোডের নির্মাণাধীন এভারগ্রীণ সাফিয়া আনোয়ার টাওয়ারকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটির ডেভেলপার রেজাউল করিম রতনের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি খোলা চিঠি এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বহুল আলোচিত ওই চিঠিতে কোনো স্বাক্ষর, সিল কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের চিহ্ন নেই। ফলে চিঠিটির গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, প্রকল্পের মালিকানা, অংশীদারিত্ব এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় এবং অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, রেজাউল করিম রতন ও আতিক উল্লাহ খোকন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া আতিক উল্লাহ খোকনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পটি ঘিরে উদ্ভূত বিতর্কের মূল বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে জনমত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন, জমির মালিকানা এবং বিনিয়োগের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা হলে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসবে।
এদিকে কিছু গণমাধ্যমকর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, একটি পক্ষের বক্তব্যকে বারবার প্রচার করা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের মতে, প্রকল্পটি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার অবসান ঘটাতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র প্রকাশ, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।















