বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় জলাশয় থেকে ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ছিলেন দুই দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
কুমিল্লায় জলাশয় থেকে ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ছিলেন দুই দিন

Oplus_131072

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ৫০০ গজ দূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আদনান আলতাফ ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার।

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিখোঁজ হন আদনান। তাঁর সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তাঁর মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর কলেজের কাছের একটি জলাশয় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শশীদল রেলস্টেশন দিয়ে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগ, প্রতিদিন যাচ্ছে বস্তাভর্তি চালান!

বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
শশীদল রেলস্টেশন দিয়ে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগ, প্রতিদিন যাচ্ছে বস্তাভর্তি চালান!

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিন এই রেলস্টেশন দিয়ে বস্তায় বস্তায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ট্রেন থেকে বস্তাভর্তি এসব পণ্য নামিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। এসব বস্তায় দামি মোবাইল ফোন, মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ভারতীয় মসলা এবং অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি মাদকদ্রব্যও রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শশীদল রেলস্টেশন থেকে এসব পণ্য কুমিল্লা, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য এভাবে পরিবহন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রেলস্টেশনকে ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কারা এসব পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত, কোথা থেকে এসব পণ্য আসছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, এসব পণ্যের মধ্যে মাদকদ্রব্য থাকার অভিযোগটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের প্রচলিত শুল্ক ব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য বাজারজাত হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, শশীদল রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে রেলপথে বস্তাভর্তি পণ্য পরিবহনের বিষয়টি তদন্ত করে পণ্যের উৎস, গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিদিন যদি এভাবে বিপুল পরিমাণ পণ্য রেলস্টেশন দিয়ে পরিবহন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির বাইরে কীভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?

এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে স্থানীয় সূত্রের দেওয়া এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

কুমিল্লায় ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মা*ম*লা*য় দুই আসামির ৭ বছর করে কা*রা*দ*ণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ পিএম
কুমিল্লায় ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের মা*ম*লা*য় দুই আসামির ৭ বছর করে কা*রা*দ*ণ্ড

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মাদক মামলায় দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চট্টগ্রামের ভুজপুর থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. হারেজ মিয়ার ছেলে মো. সুমন এবং কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানাধীন ঝিমংখালী গুনাপাড়ার মৃত উলা মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে দুজনই পলাতক রয়েছেন।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় দুই হাজার পিস ইয়াবা

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুই হাজার পিস লালচে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ছিল ২০০ গ্রাম। ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান ও স্কচটেপও জব্দ করা হয়।

 

এ ঘটনায় মো. সুমন ও মো. শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মো. আবদুল হামিদ নামে আরও একজনের নাম উঠে আসে। পরে দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।

 

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সুমন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপর আসামি আবদুল হামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্রে ‘নট সেন্ট আপ’ দেখানো হয়।

 

পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে এলে ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

 

পাঁচ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায়

 

বিচার চলাকালে দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে সাক্ষীদের জেরা করার জন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষে মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

 

রায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার টেবিল ৯(খ)/২৫ ধারায় দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৯(৪) ধারায় প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

তবে একই আইনের ৩৩ ধারায় আনা অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত না হওয়ায় ওই অভিযোগ থেকে দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

 

গ্রেপ্তার অথবা আত্মসমর্পণের পর কার্যকর হবে সাজা

 

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পলাতক দুই আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের সাজা কার্যকর হবে। মামলার বিচারাধীন সময়ে হাজতে থাকার কোনো সময় থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারা অনুযায়ী তা সাজা থেকে বাদ যাবে।

 

এ ছাড়া মামলায় জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জব্দ করা পিকআপ ভ্যানের বিষয়ে আগে দেওয়া জিম্মানামা জিম্মাগ্রহণকারীর অনুকূলে চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এম এ মতিন মোল্লা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী।

হোমনায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্য

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
হোমনায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্য

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

কুমিল্লার হোমনায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তাহমিনা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দরিচর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নিহত তাহমিনা আক্তার উপজেলার নূরালাপুর গ্রামের মো. আবদুল বাতেন মিয়ার মেয়ে এবং দরিচর গ্রামের মো. সুমন মিয়ার স্ত্রী। তাদের সংসারে চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পারিবারিকভাবে তাহমিনার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাহমিনাকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর তাহমিনার ভাইদের কাছে আবারও টাকা দাবি করেন সুমন। তবে ভাইয়েরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাহমিনার ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে তিনি কীটনাশকজাতীয় ট্যাবলেট সেবন করেন বলে পরিবারের দাবি।

বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীর বাড়ির লোকজন রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে না নিয়ে তাকে স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে সোমবার মধ্যরাতে তাহমিনার বাবার বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পুলিশ খবর পেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজের পর নূরালাপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তির জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সুমন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

×