শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

মোটরসাইকেল ব্যবহার, দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু!

শাহজালাল আল-নাগর : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০২২, ৬:৩৫ পিএম
মোটরসাইকেল ব্যবহার, দুর্ঘটনা এবং মৃত্যু!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন! আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এটি অনেক জনপ্রিয় ও পছন্দের। ৮০/৯০ দশকে মোটরসাইকেল ক্রয় করা ছিল সোনার হরিণ এর মতো। যারা উচ্চ পদস্থ চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী বা রাজনীতিবিদ তারা ই মূলত বিশেষ প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন, তবে তার সংখ্যায় মেবি ৪/৫% হতে পারে। যারা ই তখন ড্রাইভ করতেন খুবই সতর্কতার সাথে করতেন।
.
চালক ব্যতীত আরোহী একজনের বেশি নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ন, চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে চালক ও আরোহী কথা ঠিক নয়।
হেলমেটবিহীন ফাইন ৩০০০/-
তিনজন আরোহী ৩০০০/-
মোবাইলে কথা বলা ৩০০০/-
ধারা উল্লেখ না করে অনিরাপদ ড্রাইভিং ২৫০০/-
ড্রাইভি লাইসেন্স না থাকলে ৫০০০/-
ট্যাক্স টোকেন ও রেজিষ্ট্রেশন না থাকলে ১০০০০/-
একই অপরাধ দ্বিতীয় বার করলে ডাবল জরিমানা
এসব অপরাধ করে পরিচিত নেতা,পুলিশভাইদের ফোন ধরিয়ে দিয়ে বিব্রত করা ঠিক না।
নিজেই আইন ভঙ্গ করে পুলিশকে ঘুষ অফার করে কিংবা ঘুষের অফারে সাড়া দিয়ে অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করে এলাকায় প্রচার পুলিশ ঘুষ খায়।
ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই অপরাধ ও পাপকাজ।
.
গত কয়েক বছর যাবত মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্ত ডিফেন্সিভ চালক বৃদ্ধি পায়নি যা রাস্তাঘাটে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ই বলে দেয় তাদের মোটরসাইকেল স্কিল কেমন?
.
এখনো দক্ষ চালক আছেন, যারা সুন্দর ও ভদ্রতার সাথে সকল নিয়মকানুন ফলো করে তাদের মোটরসাইকেল চালিয়ে থাকেন। তবে, বর্তমানে সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বড় একটি সংখ্যা দেশের উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবক এবং প্রতিদিন ই দুর্ঘটনায় তরুণদের মৃত্যু হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক।
.
গত কয়েকমাস পূর্বে, আমি ছুটিতে দেশে ছিলাম। আমাদের কংশনগর গোমতী সেতু থেকে গোবিন্দপুর গোমতী সেতু পর্যন্ত নদীর বেড়িবাঁধ প্রশস্ত করেছে সরকার। বেড়িবাঁধ টি পাকা হওয়াতে ও রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন গাছগাছালি থাকায় তার সৌন্দর্য সন্ধায় অনেক বৃদ্ধি পায়। তাই, অনেক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী সন্ধায় এমনভাবে চালিয়ে মোহড়া দেয় যা যে কোন ভদ্র মানুষ দেখলেই আশ্চর্য হবে ও ভয় পাবে। এরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক্সিডেন্ট করে থাকে।
.
তরুণ মোটরসাইকেল চালক
হাইস্কুল কিংবা কলেজে পড়ে এমন ছাত্রকে কেন মোটরসাইকেল কিনে দিতে হবে? এতই বেশি সম্পদ হয়ে গেল যে অল্প বয়সেই তাকে মোটরসাইকেল দিতে হবে। সম্প্রতি অনেক এক্সিডেন্ট দেখেছি হাইস্কুল/কলেজের ছাত্র সড়কে এক্সিডেন্ট করে মারা যাচ্ছে।

অনেকে আবার রাস্তাঘাটে মানুষ দেখলেই স্পিড বাড়িয়ে দেয়। আর কোনো তরুণীকে দেখলে তো আর কোনো কথা নেই, স্পিড বাড়িয়ে দেয় ও বিপ বাজিয়ে থাকে।

কিছু আছে বন্ধু বা পরিচিতদের থেকে ধার এনে কিছুক্ষণ চালাতে এনে থাকে। এদের যে স্টাইল….

কিছু আছে, মনে হয় যে মহারাজা। রাস্তাটাকে পিতৃ সম্পদ মনে করে।

কিছু আছে কাজ কর্ম নাই, আয়ের উৎস নাই, অথচ বাইক নিয়ে চলছে তো চলছেই…. এরা অসদুপায়ে উপার্জন করে থাকে।

প্রায় দিন ই আমরা দেখছিঃ অগণিত তরুণ বা যুবক মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে রাস্তায় মারা যাচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। কথায় আছে সাবধানে মার নেই। যদি সুন্দর, সাবলিল ও ভদ্রভাবে চালাতো অনেক এক্সিডেন্ট কমে যেতো।

অনেক নির্বাচনে ও মিটিংয়ে নেতা বা অতিথিদের স্বাগতম জানিয়ে আনতে শতশত মোটরসাইকেল নিয়ে যায় কিন্ত ৯৯% চালকের কোনো হ্যালমেট থাকেনা ও ব্যবহার করেনা যা খুবই দৃষ্টিকটু এবং অগ্রহণযোগ্য। আর এটির জন্য দায়ী নেতা বা সংশ্লিষ্ট অতিথি। উনারা কোনো ভাবেই এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেনা।

এত দামি মোটরসাইকেল ক্রয় করার টাকা পায় কোথায় থেকে ও আয়ের উৎস কি? অনেকেই তার সদুত্তর দিতে পারবেনা।

নিজের হালাল কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল কিনে থাকলে কজনই এভাবে ওভারস্পিড ও হর্ণ বাজিয়ে অন্যদের হয়রানি করে চালাতো?

আপনি একজন মোটরসাইকেল চালক???
– লিমিট ইউর স্পিড। কোথায়ও যাবেন ও জরুরী। একটু আরলি বাহির হোন। সময় ও জীবনকে মূল্যায়ন করুন। একটু ভুলের কারণে মৃত্যু ও হতে পারে।

– অহেতুক হর্ণ বাজাবেন না। প্রতিযোগিতা করে ওভারস্পিডে চালানো থেকে বিরত থাকুন।
– আপনার বাইকে, অন্য কাউকে বা নতুন চালককে দিবেননা।
– হ্যালমেট ছাড়া বাইক চালাবেননা। সকলকে হ্যালমেট ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন।
– জনবহুল এলাকায় ভদ্রভাবে ড্রাইভ করুন। স্পিড কমিয়ে ড্রাইভ করুন।
– স্কুল, কলেজ তথা যেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে স্পিড কমিয়ে ও ভদ্রভাবে চালিয়ে যাবেন।
– রাস্তাঘাটে তরুণী/মহিলা দেখলে নিজেকে হিরো মনে করে বা বাইকার মনে করে ওভারস্পিডে চালাবেননা।

ট্রাফিক আইন জানুন, পড়ুন ও মেনে চলুন।

লেখকঃ সৌদি প্রবাসী সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শাহজালাল আল-নাগর।

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের সাথে বেঈমানি করেছে। যেই জুলাই সনদকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছে, আজকে তারাই সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানী তেল নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই শব্দ। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তাহলে কি মাত্র ছয়মাসেই উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেছে? উনি এখন বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চায়। আমরা তাকে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান দিয়েছি, সেই প্ল্যান শোনার পর আর কোন কথা নাই। বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সুফলও দেখাতে পারছেনা বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি আপনার প্ল্যান শেষ হয়ে যায় তাহলে জনগণের কাছে স্যারেন্ডার করুন। অন্যথায় আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সকল কিছু পালন করবো।

তিনি শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে দুটি পৃথক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সরকারকে গালি দিয়ে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো, দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ আর আসছিলো না। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরঝর করে পড়ছিলো। রাগে ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। আমরা তার করা এসব অশালীন গালমন্দকে কখনোই সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর দলীয় সন্ত্রাসীরা সিফাত আব্দুল্লাহকে ব্যাপক প্রহার করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর হাতে কি কোন অস্ত্র ছিলো? কুড়াল ছিলো? দা ছিলো? পিস্তল ছিলো? যদি নাই বা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে। এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরাও তো সরকারের বিরোধীতা করে থাকি। আপনার যদি সাহস থাকে তাহলে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় আমার দেশের দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করেছে, শাপলা চত্ত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করুন। বিনিময়ে যদি কাউকে জেলে নিতে হয়, তাহলে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান। তারপরও এই সকল হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করুন।

জামায়াতের আমীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আপনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। সেই ওয়াদা পূরণ করুন। আমরা সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. শাহজালাল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তুষার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মো. আবুল খায়ের, মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা এনসিপি নেতা মো. মামুন মজুমদার, জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল রেজাউল করিম শামীম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিবির নেতা মো. মোজাম্মেল হক সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে দিনমজুর আবুল হাশেম ও বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়ে যুবক আবদুর রহমান সহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৬০) ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (২২)। পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ও বাতিসা বৈদ্দ্যের বাজার নামক এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহাম্মেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পাড়াপারের সময় দিনমজুর আবুল হাশেমকে অজ্ঞাতনামা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী শাহেনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ^বর্তী স্থানে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমরা আজ পথের পথিক।

অপরদিকে একইদিন বেলা ১২টায় উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, নিহত আবদুর রহমান শনিবার দুপুরে তার এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে গিয়ে একটি ভ্যানগাড়ীর সাথে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় পেছন দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হাশেম এবং আব্দুর রহমান নামের দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আনা হলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহম্মেদ জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই নিহত আব্দুর রহমানের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই স্বজনরা নিয়ে যায়। অপর দুর্ঘটনায় নিহত আবুল হাশেমের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদে গিয়ে এবার শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শিক্ষক নেতা।
জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ মোট নয়জন সদস্য রয়েছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সংসদীয় নজরদারির আওতায় রাখার ক্ষেত্রে কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকতা থেকে সংসদ, এবার শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাঁর শিক্ষক পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া, অবসর সুবিধা, উৎসব ভাতা এবং চাকরি জাতীয়করণের মতো বিষয় নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর নতুন দায়িত্বের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সেলিম ভূঁইয়া। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে শিক্ষক নেতার পরিচিতি এনে দেয়। রাজনৈতিক ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন—হোমনা ও তিতাস—থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

সংসদ সদস্য হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে যে খাতের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুক্ত, সেই শিক্ষা খাতের সংসদীয় নজরদারির দায়িত্বও এখন তাঁর কাঁধে।

হোমনা-তিতাসে প্রত্যাশা
সেলিম ভূঁইয়ার নতুন দায়িত্বকে হোমনা-তিতাসের মানুষও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষকতা ও শিক্ষক আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান, বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সংসদীয় কমিটির আলোচনায় গুরুত্ব পাবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

কুমিল্লা-২ আসনের একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে সংসদে যাত্রা শুরু করে এবার দেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। ফলে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘ শিক্ষকতা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সংসদীয় দায়িত্বে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা যায়।

×