মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ভবিষ্যতে শিক্ষাই হবে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প : শিক্ষামন্ত্রী

মোঃ মিজানুর রহমান ইমরান : প্রকাশিত: সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২, ৩:৪৯ এএম
ভবিষ্যতে শিক্ষাই হবে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প : শিক্ষামন্ত্রী
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছেন। ভবিষ্যতে শিক্ষাই হবে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প।’

রবিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর এই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন- ‘আজকে বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে থাকে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কার হবে না। সারাবিশ্ব আজ অস্থির অবস্থায় আছে। দূরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনার আমাদেরকে সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দিয়েছেন। তাতেই লুটের রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা মাথাচারা দিয়ে উঠেছে।’

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘একটি মহল বলে- গেলে, গেলো। তাদেরকে বলি, পদ্মা সেতু হলো, নিজস্ব অর্থায়নে। লক্ষ লক্ষ গাড়ি চলছে, সেতু কি আছে না গেলো ?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আর্ন্তজাতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে মাধ্যমিক শিক্ষায় ১০৬টি দেশের মধ্যে ৭৫টি দেশকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম।

দক্ষ জনশক্তি গঠনে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পড়ালেখা হতে হবে আনন্দময়। শিক্ষায় যাতাকলে যেন শিক্ষার্থীরা জর্জড়িত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সুশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ডা. ফিরোজা বেগমকে রোল মডেল হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি’র সভাপতিত্বে অতিথিদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম, চান্দিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আফজাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউল হক মীর, পৌর মেয়র শওকত হোসেন ভূইয়া, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে ডা. জাবিন জলিল, ভাগিনা অধ্যাপক ডা. মাসুম সিরাজ, ডা. নওশীন সিরাজ।

অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হরিলাল দেবনাথ, অভিভাবক সদস্য কাজী তৌহিদুল আলম মঈন, শিক্ষার্থী নূসরাত জাহান আনিকা।

এশিয়া মহাদেশের প্রখ্যাত গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সৈয়দা ফিরোজা বেগম নারী শিক্ষার অগ্রগতির লক্ষ্যে ১৯৭০ সালে চান্দিনা উপজেলা সদরে ‘চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর জীবদ্দশায় বেশ ভাল ভাবেই চলছিল শিক্ষার মান। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ক্রমশই হ্রাস পেতে থাকে ওই বিদ্যালয়টির অবস্থান। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা চিকিৎসক ড. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি চলতি বছরে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পাল্টে যেতে থাকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও অবকাঠামো উন্নয়ন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি আজ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পরিণত হয়েছে।

পায়রা, বেলুন উড়িয়ে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির কলেজ শাখা উদ্বোধনের পর ডা. সৈয়দা ফিরোজা বেগম ও বিদ্যালয়টির উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শণী করা হয়। এছাড়া ফুলেল শুভেচ্ছা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অতিথিবৃন্দকে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারি কমিশনার (এসিল্যান্ড) উম্মে হাবিবা মজুমদার, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি) সার্কেল) ফয়েজ ইকবাল, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ আফরোজ, সাবেক মেয়র মফিজুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা মজিবুর রহমান, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি জিএস সুমন, সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার, কৃষকলীগ নেতা শাহ স জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×