বদলে গেছে কুমিল্লা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার
২৩ নভেম্বর বুধবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
এসময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয় পরিদর্শনের পাশাপাশি কুমিল্লাস্থ মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র, পূর্ণতা মাদকাসক্তি নিরাময় ও পূণর্বাসন কেন্দ্র, নিউ জাগরণ মাদকাসক্তি নিরাময় ও পূণর্বাসন, হৃদয় মাদকাসক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্র, জাগো মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূণর্বাসন কেন্দ্র, জন্ম মাদকাসক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্র, দর্পণ মাদকাসক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্র, স্বপ্নীল মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পূণর্বাসন কেন্দ্র, পুনঃজীবন মাদকাসক্তি ও চিকিৎসা ও পূণর্বাসন কেন্দ্র, নিউ যত্ন মাদকাসক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্র, আদর মাদকাসক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্র ও অন্তর মাদকাসক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্র নামের ১১টি প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক ও কাউন্সিলরদের সাথে মতবিনিময় ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় শেষে কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান পরিদর্শক কবির হোসেন, মুরাদ হোসেন সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলামের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন।
বদলে গেছে কুমিল্লা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বদলে গেছে কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের পরিবেশ ও কার্যক্রম। জেলার মাদক পাচারকারী, কারবারি ও সেবনকারীদের কাছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখন আতঙ্কের আরেকটি নাম। এই পরিবর্তনের নেপথ্যের কারিগর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।
গোপালগঞ্জ থেকে ২০২১ সলের পহেলা জুনে কুমিল্লায় যোগদানের পর থেকেই জেলা কার্যালয়সহ এর কর্মকান্ডেও ব্যপক পরিবর্তন এসেছে। বিগত দিনে দপ্তর থাকলেও সীমান্ত সংলগ্ন এ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম খুব একটা চোখে পরতো না বললেই চলে।
তবে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলা শহর, সীমান্ত এলাকা সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের ডেরায় ঝটিকা অভিযান, মোবাইল কোর্ট, টাস্কফোর্সের হানায় মাদক উদ্ধার ও ছোট থেকে বড় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে কুমিল্লায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম চোখে পড়ার মত। চৌধুরী ইমরুল হাসানের মতে, লোকবল সল্পতা সহ নানা সমস্যা রয়েছে।
জেলার বিশাল সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। তাই হয়তো মাদক একেবারে নির্মূল করা হয়তো সম্ভব নয় তবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কুমিল্লা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিটি সদস্যই দিনে রাতে কঠোর ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। মাদক এবং মাদক কারবারিদের সাথে কোন ভাবেই কোন আপোষ নয়। সার্বিকভাবে সহায়তা করায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চৌধুরী ইমরুল হাসান জানান, চলতি বছরে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জেলা জুড়ে মোট ১২৫০টি অভিযান পরিচালিত হয়।
এসব অভিযানে মাদক আইনে মামলা হয়েছে ৪১৭টি, মাদকসহ আটক করা হয়েছে ৪৫৯জন মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীকে। আর জব্দ ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মাঝে রয়েছে ৩৪হাজার ৫৬৪ পিস ইয়াবা, ৫শত ৩১কেজি গাঁজা, ১২শ ৩৭ বোতল ফেনসিডিল,৭ হাজার ৬৯২পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিদেশী মদ, বিয়ার, চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়া মহল্লা গ্রামে মাদক বিরোধী বিভিন্ন সভা সেমিনার, লিফলেট বিতরণ, খেলাধুলা ও বিনোদনমুলক নানা আয়োজনের মাধ্যমে মাদকের কুফল সম্পর্কে অবগত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে সচেতন করে তুলতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জেলা ও নগরীর বিভিন্ন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের কাউন্সিলিংয়েও কাজ করছেন তারা।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে, মাদক নির্মূলে সচেতন নাগরিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সহযোগিতাও কামনা করেন কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।



















