মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় ‘পরিবহন ধর্মঘট’ না ডাকার নেপথ্যে বিএনপির গণসমাবেশ কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২, ৬:১৫ এএম
কুমিল্লায় ‘পরিবহন ধর্মঘট’ না ডাকার নেপথ্যে বিএনপির গণসমাবেশ কাল
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপির মহাসমাবেশ। এ সমাবেশ ঘিরে কুমিল্লা হয়ে উঠেছে উৎসবের নগরী। বিএনপি নেতারা বলছেন, মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে। বিএনপির অন্য মহাসমাবেশের চেয়ে কুমিল্লা খানিকটা ব্যতিক্রম। আগের সমাবেশগুলোতে দু’দিন আগে থেকে সংশ্নিষ্ট এলাকায় ‘পরিবহন ধর্মঘট’ ডাকা হলেও কুমিল্লার বেলায় তা হয়নি। এ নিয়ে পরিবহন নেতারা বলছেন ভিন্ন ভিন্ন কথা।
বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, শনিবারের সমাবেশের আগে ‘পরিবহন ধর্মঘট’ দেওয়া হতে পারে- দলটির নেতাকর্মীর এমন শঙ্কা ছিল। সমাবেশ সফল করতে আশপাশের জেলার নেতাকর্মীকে আগেভাগেই কুমিল্লায় পৌঁছানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বুধবার বিকেলে পরিবহন নেতারা ধর্মঘট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিএনপিতে স্বস্তি ফেরে।

এদিকে সমাবেশ মাঠে অবস্থান নিয়ে বহিস্কৃত নেতা সাবেক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন গ্রুপের মধ্যে সংঘাতের শঙ্কা করছেন তৃণমূলের কর্মীরা। যদিও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এমন আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা কুমিল্লায় অবস্থান করে সার্বিক বিষয় তদারক করছেন।

যে কারণে নেই পরিবহন ধর্মঘট : কুমিল্লায় ধর্মঘট থেকে কেন সরে গেলেন পরিবহন নেতারা এ-নিয়ে একাধিক নেতার সঙ্গে সমকালের কথা হয়। কুমিল্লা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, ‘দেশের অন্য বিভাগীয় শহরে যেখানে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল, সেখানকার পরিবহন নেতারা তাঁদের কিছু দাবি আদায়ের কথা তুলে ধরে ধর্মঘট ডেকেছিলেন। আমাদের তো কোনো দাবি নেই; থাকলে অবশ্যই ধর্মঘট দেওয়া হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মঘট দিতে সরকারের পক্ষ থেকে যদি চাপ থাকত কিংবা সমিতির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থাকত, তাহলে আমাদের ওপরও তো চাপ থাকত। কই, এমন তো চাপ ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘পরিবহন সমিতি একটি ব্যবসায়ী সংগঠন, এখানে বিএনপি সমাবেশ করতে চায় করুক, আমরা বেহুদা ধর্মঘট দেব কেন?’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির একাধিক নেতা বলেন, ‘ধর্মঘট দিতে কেউ কেউ মতামত দিলেও তা সফল করা নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জিংয়ের বিষয়টি উঠে আসে। কুমিল্লার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-চাঁদপুর-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেল সড়ক গেছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাই এসব এলাকার পরিবহন-সংশ্নিষ্টরাও ধর্মঘট দিতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।

 

সাক্কু-ইয়াছিন গ্রুপে সংঘাতের শঙ্কা : এই মহাসমাবেশ ঘিরে নগরীতে বিএনপিতে বিবদমান মনিরুল হক সাক্কু ও হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশ সফল করতে উভয় গ্রুপই প্রচারণা চালাচ্ছে। গত সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন সাক্কু। তিনি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। অন্যদিকে হাজি ইয়াছিন বর্তমানে দলের দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক। গত সিটি নির্বাচনে হাজি ইয়াছিনের শ্যালক ও মহানগর স্বেচ্ছাসবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নেন। তিনিও দল থেকে বহিস্কৃত।

দলীয় সূত্র বলছে, সাক্কু তাঁর এ পরাজয়ের জন্য ইয়াছিন গ্রুপকে দায়ী করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি ঘোষিত দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপিতে ইয়াছিন গ্রুপের প্রাধান্য দেওয়ায় উভয় গ্রুপে দলীয় টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। তাই সমাবেশস্থল ও আশপাশের রাস্তায় উভয় গ্রুপের শোডাউন নিয়ে সংঘাতের শঙ্কা করছেন দলের অনেকেই। এ ব্যাপারে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘দল থেকে আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে। আমি দলে ফিরতে আবেদন করেছি। সমাবেশ সফল করতে দিন-রাত কাজ করছি, লোকজনকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। তাই মঞ্চে ওঠা বড় কথা নয়, আমি কর্মীদের নিয়ে সমাবেশস্থলে অবস্থান করব; কারও হুমকিতে মাঠে যাওয়া থেকে বিরত থাকব না।’ হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, ‘কুমিল্লার সমাবেশ হবে লাখো জনতার সমাবেশ। এখানে কে কার গ্রুপের, তা চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। এককথায়, আমরা সবাই খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের লোক। এখন সমাবেশ সফল করাই টার্গেট; গ্রুপিং নিয়ে কথা বলার সময় নয়।

শর্ত মানা হচ্ছে না : জেলা প্রশাসন থেকে ১০ দফা শর্ত দিয়ে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অধিকাংশ শর্তই মানছেন না বিএনপি নেতারা। শর্তের অন্যতম হচ্ছে-ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার সীমিত রাখা; তবে এরই মধ্যে সমাবেশস্থলের পাশের ভবন, নগরীর অন্য ভবন, দেয়াল পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। শর্ত ছিল, মাইক সীমিত রাখা ও উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। আয়োজকরা জানিয়েছেন, লাগানো হচ্ছে প্রায় ২০০ মাইক। রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশের কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকতে বলা হলেও বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘টাউনহল মাঠের বাইরে নগরীর সব রাস্তায় নেতাকর্মী অবস্থান না করলে লক্ষাধিক কর্মী কোথায় দাঁড়াবে?।

রাস্তায় মোটর শোভাযাত্রা ও মিছিল করা যাবে না- এমন শর্ত থাকলেও এরই মধ্যে নগরীতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শোডাউন শুরু হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া জানান, জেলা প্রশাসন থেকে যে ১০ শর্ত দেওয়া হয়েছে, এর অধিকাংশ মেনে সমাবেশ করা সম্ভব নয়। যে সমাবেশে লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটবে, সেখানে মাইক সীমিত রাখা, শব্দদূষণ কমানো, মিছিল না করাসহ বেশ কিছু শর্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভাঙতে হবে। তবে আমরা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এ সমাবেশ সফল করতে সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি।

মঞ্চ তৈরির কাজে বিলম্ব : গত বুধবার সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হলেও ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে মঞ্চ তৈরি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলেছেন, টাউনহল মাঠের একপাশে বইমেলা চলছে। তাই জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মঞ্চ তৈরির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে বইমেলা শেষ হওয়ার পর মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হবে।

এদিকে সমাবেশের নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান, সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। সাদা পোশাকে থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিও। সমাবেশস্থলের আশপাশে সুউচ্চ ভবনের ওপর থেকে পুলিশের পাহারা থাকবে। তিনি বলেন, যারা সমাবেশে আসবে, তারা যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে না পারে কিংবা তাদের ওপরও কেউ যাতে আঘাত করতে না পারে- এসব বিষয়ে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×