শরতের ছায়ায় কবিতার সম্মান, কুমিল্লায় আপনজনের উজ্জ্বল সন্ধ্যা
Oplus_131072
শরতের কোমল আলো আর হৃদয়ের উষ্ণতায় কুমিল্লা জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে গ্র্যান্ড দেশপ্রিয়-এর হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় “শরৎ বরন ও আপনজন সম্মাননা” অনুষ্ঠান। এই আয়োজন হয়ে উঠেছিল কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সমঝদার বন্ধুদের এক আবেগঘন মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মালিক খসরু। তিনি তাঁর বক্তব্যে সাহিত্যের শক্তি, কবিতার মানবিক আবেদন এবং সমাজ গঠনে কবিদের ভূমিকা তুলে ধরেন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবিতা পরিষদ, কুমিল্লার সভাপতি জহিরুল হক দুলাল। প্রধান বক্তা ছিলেন আবৃত্তিকার ও ক্রীড়া অনুরাগী বদরুল হুদা জেনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ রানা চৌধুরী, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান রিপন।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও এটিএন নিউজের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির জীবন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “কবিতা শুধু সৌন্দর্যের নয়, এটি প্রতিবাদের, মানবতার, এবং সত্যের ভাষা।” তাঁর কণ্ঠে ছিল সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সমাজের প্রতি ভালোবাসার স্পষ্ট প্রতিধ্বনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম বাবু, এখন টিভির বুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ। তাঁদের কথায় উঠে আসে সাহিত্যের গুরুত্ব, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ।
পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি ও আবৃত্তিকার শিপন হোসেন মানব, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন দামাল এবং নিরাপদ চালক চাই কুমিল্লা শাখার সভাপতি আজাদ সরকার লিটন। তাঁদের আন্তরিকতা ও শিল্পসত্তা অনুষ্ঠানকে আরও হৃদয়ছোঁয়া করে তোলে।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার আলোকিত কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিল্পীসহ অসংখ্য সংস্কৃতিপ্রেমী। তাঁদের সম্মাননা প্রদান ছিল এক অনন্য মুহূর্ত, যা কুমিল্লার সাহিত্যচর্চাকে আরও গভীর ও মানবিক করে তুলেছে।
এই আয়োজন প্রমাণ করে, কবিতা শুধু কাগজে নয়-মানুষের হৃদয়ে, সমাজের প্রতিটি স্তরে তার প্রভাব। কুমিল্লা জাতীয় কবিতা পরিষদের এই উদ্যোগ সাহিত্যের শক্তিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছে। আরও এমন আবেগঘন আয়োজনের প্রত্যাশায়, কুমিল্লা সাহিত্যাঙ্গন এগিয়ে যাক মানবতার পথে।
















